দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে? জেনে নিন খুব সহজ ৫ টি সমাধান

দাঁতের যত্ন নেয়া আমাদের সবারই প্রয়োজন। কিন্তু এই দাঁতের যত্নেই আমরা অনেক বেশী অবহেলা করে থাকি। তাইতো মানুষ বলে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝা যায় না!! কিন্তু দাঁতের সমস্যায় যখন ব্যাথার সৃষ্টি হয় তখন তার যন্ত্রণা মানুষকে বেশ নাজুক করে তোলে। আর দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়লেতো কথাই নেই।

থেকে রক্ত

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া

দাঁতের সমস্যার মাঝে একটা অন্যতম সমস্যা হল, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। কিন্তু এই সমস্যায় চিকিৎসার

বদলে প্রয়োজন সচেতনতার। দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে আপনি মেনে নিতে পারেন অনেক পন্থা।

 

বাড়ির ছোট্ট শিশুটি স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে ব্যস্ত ভঙ্গিতে। সকালের নাশতা শেষে মনে হলো দাঁত মাজেনি। তড়িঘড়ি করে মাজতে গিয়ে বাধল বিপত্তি। ব্রাশ ভরে গেছে রক্তে। শিশুটিও ঘাবড়ে গেছে। মা-বাবা ঘাবড়ালেন আরও। কী করতে হবে তখন? আর কেনই বা দাঁত থেকে রক্ত ঝরল! এটা কি তবে বড় অসুখ, না সাধারণ কারণে ঘটেছে? আসুন, জেনে নেওয়া যাক আদ্যোপান্ত।

 

দাঁতে রক্ত যখন

শিশুর মুখ থেকে যেসব কারণে রক্ত পড়তে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ এগুলোই—
 মাড়িতে সংক্রমণ হলে দাঁত থেকে রক্ত পড়তে পারে।
 আঘাতজনিত কারণেও দাঁত থেকে রক্ত পড়ে।
 যেকোনো ধরনের মাড়ির রোগ হলে।
 ভিটামিনের অভাবেও দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ে।
 সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত না মাজলে।
 রক্ত রোগের কারণেও মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে।
 ডেঙ্গু হলেও কখনো কখনো দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত আসে।
 হিমোফিলিয়ার কারণেও রক্ত পড়ে দাঁত থেকে।
 শিশুর লিউকেমিয়া হলেও দাঁত থেকে রক্ত পড়ে।
 আবার দুধদাঁত পড়ে গেলেও রক্ত পড়ে কিছুটা।

 

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া রোধে করণীয়

প্রথমেই রক্ত পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো রোগের কারণে দাঁত থেকে রক্ত পড়লে সেই রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে প্রথমেই। রোগের উপসর্গ হিসেবে রক্ত পড়া বন্ধ হবে। সাধারণ যেসব কারণে রক্ত পড়ে, তার প্রতিরোধে যে প্রস্তুতি নিতে হবে তা জেনে নেওয়া যাক।
 চিনিযুক্ত খাবার, চকলেট দাঁতের নানা রোগের কারণ। এ খাবারগুলো শিশুর কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে।
 শিশুদের সব ধরনের ফল খেতে দিতে হবে। দামি ফল দিতে হবে এমন কথা নেই। মৌসুমি দেশি ফলেই শিশুর চাহিদা পূরণ হবে।
 শিশুদের শাকসবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে।
 সঠিক পদ্ধতিতে শিশুকে দাঁত মাজতে শেখাতে হবে। দাঁতে জোরে চাপ দিয়ে ব্রাশ না করে আলতো করে ব্রাশ করতে হবে।
 প্রতিবার দাঁত মাজা শেষে শিশুকে মাড়ি ম্যাসাজ করতে উৎসাহিত
করুন।
 বিশেষ করে, ভিটামিন ‘সি’ আর ‘কে’ আছে এমন খাবার শিশুর দাঁত থেকে রক্ত পড়া বন্ধে সাহায্য করে। তাই ‘সি’ ও ‘কে’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে মনোযোগ দিন।
 দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ঝরলে কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচা করলে রক্ত বন্ধ হবে।
 আদা রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। আদায় আছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক গুণ।
শিশুর দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বছরে অন্তত দুবার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে শিশুকে নিয়ে যান।

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমাধান

১) মধু ব্যবহার করুন

মধুরঅ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া সমস্যার সমাধান করতে পারে। দাঁত ব্রাশ করার পর আঙুলের ডগায় একটু মধু নিয়ে তা দিয়ে দাঁতের মাড়ি অল্প ম্যাসেজ করে নিন।

তবে লক্ষ্য রাখবেন, দাঁতের মাড়িতেই মধু ম্যাসেজ করুন। দাঁতে মধু লাগাবেন না। এতে দাঁতে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২) দাঁত ব্রাশের সমস্যা বেকিং সোডার ব্যবহার

সামান্য গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। এরবার এই পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন। বেকিং সোডা মুখের ভেতরের অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে দেয় ফলে দাঁত ক্ষয় হওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং সেই সাথে মাড়ির সমস্যাও।

৩) টী ব্যাগের ব্যবহার

প্রথমে একটি টী ব্যাগ গরম পানিতে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর তা তুলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে দিন। টী ব্যাগ ঠাণ্ডা হলে তা মাড়ির যে অংশ হতে রক্ত পড়ছে সে অংশে ৫ মিনিট ধরে রাখুন। টী ব্যাগের ট্যানিক অ্যাসিড মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যা সমাধান করে।

৪) লেবু লবণের ব্যবহার

লেবুর রস ও লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর তা আঙুলের মাথায় লাগিয়ে তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করুন এবং রেখে দিন ৫ মিনিট। এরপর কুসুম গরম পানিতে কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সমস্যা নিমেষেই সমাধান।

৫) লবণ গরম পানি

১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ নিয়ে তা দিয়ে কুলকুচা করে মুখ পরিষ্কার করুন। দিনে ৩/৪ বার বিশেষ করে খাওয়ার পর এই কাজটি করলে দাঁত এবং দাঁতের মাড়ি সংক্রান্ত নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *