cool hit counter

নামাজ আদায় করার যে ভুলগুলো করা উচিত না!

নামাজ  (Namaz) আদায়কালে অনেক সময় আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু না কিছু ভুল করে থাকি। অবশ্য নামাজে যেনো ভুল না হয় সেজন্য আমরা সবাই খুব যত্ন ও সতর্কতার সাথে নামাজ আদায় করে থাকি। নামাজ আদায়কালে যেনো কোনো ভুল না হয় সে বিষয়ে আরো বেশি সতর্ক হওয়ার জন্য নামাজপ্রেমীদের জন্য তেমন কিছু ভুল আজকের আলোচনায় তুলে ধরা হলো।

নামাজ

নামাজে যে ভুলগুলো করা উচিত না

নামাজ আদায়কালে অনেক সময় আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু না কিছু ভুল করে থাকি। অবশ্য নামাজে যেনো ভুল না হয় সেজন্য আমরা সবাই খুব যত্ন ও সতর্কতার সাথে নামাজ আদায় করে থাকি। নামাজ আদায়কালে যেনো কোনো ভুল না হয় সে বিষয়ে আরো বেশি সতর্ক হওয়ার জন্য নামাজপ্রেমীদের জন্য তেমন কিছু ভুল আজকের আলোচনায় তুলে ধরা হলো। ভুলগুলো হলো-
তাড়াহুড়া করে অজু করা : অজুর ফরজ চারটি। যথা- মুখমন্ডল ধৌত করা, উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। এগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। হাত-পা, মুখমন্ডলের নির্দিষ্ট স্থানে পানি পৌঁছাতে হবে। কোনো জায়গা শুকনো থাকলে অজু হবে না। তাই তাড়াহুড়া করে অজু না করা ভালো। অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পড়া যেতে পারে। হাদিসে এসেছে, মহানবি (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে এর যে কোনো দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে।’ [মুসলিম শরিফ]

নামাজের জন্য দৌড়ে যাওয়া : নামাজের জন্য অনেকেই দৌড়ে মসজিদে যান। এমন কি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটা দৌড়ের কাছাকাছি বা দৌড় দিয়েও অনেকে নামাজে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে কাতারে দাঁড়িয়ে যান। এই হাঁপানো অবস্থাতেই এক রাকাতের মতো চলে যায়। এটা আল্লাহর রাসুল (স.) পছন্দ করেননি। তিনি নিষেধ করেছেন। এক্ষেত্রে আপনি হয় সময় নিয়ে নামাজ পড়তে যাবেন অথবা ধিরস্থির ও শান্তভাবে হেঁটে গিয়ে যতোটুকু জামাতে শরিক হতে পারেন হবেন এবং বাকি নামাজ পরে নিজে শেষ করবেন।

হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা নবি (স.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়ছিলাম, নামাজরত অবস্থায় তিনি লোকের ছুটাছুটির শব্দ অনুভব করলেন। নামাজা শেষে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কী করছিলে’? তারা আরজ করল, ‘আমরা নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলাম’। আল্লাহর রাসুল (স.) বললেন, ‘এরূপ কখনো করো না। শান্তিশৃঙ্খলা ও ধীরস্থিরভাবে নামাজের জন্য আসবে, তাতে যে কয় রাকাত ইমামের সঙ্গে পাবে পড়ে নেবে, আর যা ছুটে যায় তা ইমামের নামাজের পর পূর্ণ করে নেবে’। [বোখারি শরীফ : ১/ ৩৮৭] এ হাদিসে রাসুল (স.) নামাজে আসার এবং নামাজে শামিল হওয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বলে দিয়েছেন যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে ধীর-স্থিরভাবে হেঁটে মসজিদে আসতে হবে, কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না।

ফজরের সুন্নাতে তাড়াহুড়া করা : ফজরের নামাজের জামাতে অংশ নেয়ার জন্য ফজরের ফরজের আগের সুন্নাত নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করে জামাতে ইমামের সঙ্গে দাঁড়ানোর চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়। এমন অযাচিত তাড়াহুড়া নিষেধ, এমন অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং সেটাই মান্য। সেই নির্দেশনা হলো, যদি কেউ ফজরের জামাতের আগে মসজিদে যেতে পারেন তাহলে প্রথমে সুন্নাত দুই রাকাত পড়ে জামাতের জন্য অপেক্ষা করবেন। আর যদি দেরি হয়ে যায় এবং জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে প্রথমে মসজিদে গিয়ে ইমামের সঙ্গে জামাতে শামিল হতে হবে এবং জামাতের পর বাকি নামাজ (যদি থাকে) শেষ করতে হবে।

ছুটে যাওয়া সুন্নাত : এবার আপনি অপেক্ষা করবেন সূর্য উদয়ের জন্য এবং সূর্য উদয়ের পর নামাজের নিষিদ্ধ সময় (সাধারণত সূর্য উদয়ের পর ২০মিনিট) পার হওয়ার পর আপনি ফজরের সুন্নাত নামাজ আদায় করবেন। মধ্যবর্তী যে সময় সে সময় আপনি হয় মসজিদে বসে অপেক্ষা করতে পারেন অথবা ঘরেও ফিরে আসতে পারেন এবং সময় হওয়ার পরই আপনি ফজরের সুন্নাত আদায় করে নেবেন। এটাই আল্লাহর রাসুল (স.) নির্দেশিত নিয়ম।

মানুষ ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া : সামনের কাতারে নামাজ পড়লে সওয়াব বেশি। হয়তো এ কারণে শুক্রবার কিংবা রমজানে তারাবির নামাজে একদল মানুষ চাপাচাপি করে সামনে গিয়ে বসে। জায়গা না থাকা সত্ত্বেও অনেকটা আরেকজনের গায়ের উপর বসে পড়ে। এতে অপর মুসল্লির কষ্ট হয়। যা ইসলামসম্মত নয়। কারণ এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে কষ্ট দিতে পারে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান ওই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ নিজেদের জীবন ও ধনসম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন মনে করে।’
[তিরমিজি ও নাসায়ি]

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন