...

দিনে কতটুকু লবন খাবেন

আসলে কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত আমাদের? অনেকেই চিকিৎসকের কাছে কথাটি জানতে চান। চিকিৎসকরা বলে থাকেন, বাড়তি লবণ যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। কেননা, আমরা রেঁধে খাই, এমন প্রায় সব খাবারেই লবণের প্রয়োজনীয় উপাদান সোডিয়াম থাকেই।দিনে কতটুকু লবন খাবেন

দিনে কতটুকু লবন খাবেন

শরীরে কতটুকু লবণ দরকার এবং লবণ বেশি খাওয়ার প্রতিক্রিয়া জেনে নিন হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে এ প্রতিবেদনে।
শরীরে প্রতিদিন প্রায় ৩ গ্রামের মতো লবণ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ১ গ্রাম থেকে দেড় গ্রাম স্বাভাবিক খাবার থেকেই আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাড়তি চাহিদা মেটাতে দিনে এক চা-চামচ বা ৫ গ্রামের চেয়ে বেশি লবণ খাওয়া ঠিক না। আর সাধারণ ভারতীয় খাবারদাবারে দিনে সাড়ে ৮ থেকে ১০ গ্রাম লবণ থাকেই।

বাড়তি লবণ খাওয়া ছাড়া বাড়তি চিনি খাওয়া ছাড়ার চেয়ে বেশি কঠিন বলে মনে হয়। প্যাকেটজাত খাবারদাবার থেকে শুরু করে নানান পদের খাবারেই স্বাদ বাড়ানোর জন্য লবণ মেশানো হয়। পাউরুটি, পনির, বিস্কুট, কেক, চিপস থেকে শুরু করে সব খাবারেই থাকে বাড়তি লবণ। আমরা সচেতন থাকি না বলে এসব খাবারদাবারের লবণের কথা আমাদের মনে থাকে না।

পড়ুন  গরমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কিছু টিপস

শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর সংকেত চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পেশির সংকোচন-প্রসারণ ও বিশ্রামের জন্য লবণের মূল উপাদান সোডিয়াম খুবই প্রয়োজনীয়। শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিডনি। রক্তচাপ কমে গেলে বা খুব বেশি বেড়ে গেলে কিডনি তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু সোডিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি বেড়ে গেলে কিডনি সেটা পাম্প করে দ্রুত বাইরে বের করে দিতে পারে না। অতিরিক্ত সোডিয়ামের কারণে শরীরে পানি জমে যেতে পারে। এমন সময়ে শরীরে এক লিটার বাড়তি পানিই হৃদ্যন্ত্রে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে, ধমনিতে চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

লবনের গুণকীর্তন আর নয় : বাড়তি লবণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াসহ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লবণ খাওয়ার পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা স্ট্রোক ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দুনিয়াজুড়ে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই সীমা মেনে চলায় তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ২৩ শতাংশ। আর ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, লবণের পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামে রাখতে পারলে প্রতিবছর হৃদ্রোগের কারণে ৩০ লাখ মৃত্যু কমিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি তা প্রতিবছর ১২ লাখ ৫০ হাজার স্ট্রোকের পরিমাণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.