আপনার সন্তানের কি প্রায়ই মন খারাপ থাকে?

আধুনিক জীবনযাত্রার জটিলতা যে শুধু বড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তা কিন্তু একেবারেই নয়! ছোটরাও এই জটিল লড়াইয়ের সমান অংশীদার। প্রতিযোগিতা, একাকিত্ব, ঈর্ষা, আকাঙ্ক্ষা – সবই তাদের ছোট্ট জগতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে হতাশা এবং মন খারাপের হাত থেকে নিস্তার পায় না তারাও। স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের মধ্যে ইদানীং মন খারাপ বা ডিপ্রেশন খুব আকার ধারণ করছে। অভিভাবক হিসেবে আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন আপনার সন্তানকে, কীভাবে তাকে বের করে আনতে পারেন এই বিষাদের কবল থেকে? রইলো কিছু পরামর্শ।

মন

আপনার সন্তানের কি প্রায়ই মন খারাপ থাকে?

কী করে বুঝবেন শিশু ডিপ্রেশনের শিকার

ক্রমাগত খারাপ মুড বা মন খারাপের শিকার হওয়া। মন খারাপের জের এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে থাকা।
খেলাধুলা বা অন্য যা কিছু পছন্দের কাজ তাতে মন না থাকা।
বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয়জনদের এড়িয়ে চলা।
⇒ মনোসংযোগের অভাব, খেতে না চাওয়া, কথায় কথায় রেগে যাওয়া।
হঠাত্‍ করে ওজন খুব বেড়ে বা কমে যাওয়া।
টয়লেট ট্রেনিং থাকা সত্ত্বেও রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা।
অন্যান্য শিশু বা পশুপাখিদের প্রতি হিংস্র ব্যবহার করা।
ক্লান্তি এবং হতাশার ভাব। বাড়ি বা বন্ধুবান্ধবের সমস্যার জন্য নিজেকে দোষী ভাবা।
কোনো কথা প্রসঙ্গে মৃত্যু, আত্মহত্যার বিষয়টি ঘুরেফিরে বলা।

আপনি যা করতে পারেন

■ সন্তানের মন খারাপকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিন। সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। ওর শরীরের ভালোমন্দের সাথে সাথে ওর মনের খবর রাখার দায়িত্বও কিন্তু আপনার। যদি ওর মধ্যে এক বা একাধিক ডিপ্রেশনের লক্ষণ বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করতে থাকেন, তাহলে ছোটমানুষের খেয়াল বলে উড়িয়ে দেবেন না। ওর সঙ্গে কথা বলুন। বাড়ির অন্যান্যদের উপস্থিতিতে অসুবিধা হলে এমন কোনো জায়গায় ওকে বেড়াতে নিয়ে যান, যেখানে কিছুক্ষণ একা থাকতে পারেন এবং ও সহজ বোধ করে। ওর বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকের কাছেও খোঁজখবর নিয়ে জানুন যে, বাড়ির বাইরে ও কোনো কষ্টকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে কি না। তারা হয়তো এমন কোনো কারণের সন্ধান দিতে পারবে যার সম্বন্ধে আপনার একেবারেই ধারণা নেই।

■ যদি দেখেন আপনার সাহায্য সত্ত্বেও ওর মন খারাপের মাত্রায় সেরকম কোনো পরিবর্তন আসছে না, তাহলে মনোচিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, শিশুর সমস্যা তার পরিবার বা পারিপার্শ্বিক থেকে উঠে এসেছে। আপনার দাম্পত্য বা পরিবারে যদি সেরকম কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে চিকিত্‍সককে সাহায্য করার জন্য তা খোলাখুলি আলোচনা করুন। এতে আপনার সন্তান উপকৃত হবে। এই ধরনের চিকিত্‍সায় বেশ খানিকটা সময় লাগতে পারে। আশা হারাবেন না, কারণ পরিকল্পনামাফিক চিকিত্‍সা করালে সুফল পাবেনই।

■ বাবা-মায়ের দাম্পত্যজনিত সমস্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু, আত্মসম্মানে আঘাত, কোনোরকম শারীরিক বা মানসিক হেনস্থা শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে। বড়রা অনেক সময় আন্দাজই করতে পারেন না যে এই প্রভাব কতটা গভীর। স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন সন্তানের আড়ালেই রাখুন। পারিবারিক অশান্তির সময় সন্তানকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে সে বিপন্ন বোধ করবে। বরং ওর কাছে যেন এই মেসেজটাই পৌঁছায় যে, আপনি সব সময় ওর পাশে থাকবেন। এই কথাটা যেন ওর মনে ভালো করে গেঁথে যায়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। যেসব শিশুরা ডিপ্রেশনের শিকার তাদের বার বার এটা শোনা জরুরি কারণ তাদের মনে বিশ্বাস জন্মায় যে তারা কোনোরকম ভালোবাসার যোগ্য না।

■ সন্তানকে নানা রকম কাজ করতে উত্‍সাহ দিন, তবে কোনো ব্যাপারেই অযথা চাপ দেবেন না। পড়াশোনা, খেলাধুলা, গানবাজনার মধ্যে ও যেন আনন্দ খুঁজে পায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। অন্য শিশুদের সাথে তুলনা, কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেয়া, রেজাল্ট বা অন্যকিছু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দিতে পারে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *