টাক মাথায় নতুন চুল গজানোর ঘরোয়া কিছু হেয়ার মাস্ক

চুলের সমস্যা নিয়ে আমাদের চিন্তার অন্ত নেই। মোটামুটি সবাই এই সমস্যায় ভুগছি। তার মধ্যে রয়েছে চুল পড়ে যাওয়া।যার ফলে মাথায় ধীরে ধীরে টাক পড়তে শুরু করে।টাক মাথা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।তাদের জন্য অাজকের এই পোস্টটি।প্রাকৃতিকভাবে টাক মাথায় চুল গজানোর সহজ উপায় জেনে নিন এবং নিজেকে টাক মাথার চিন্তা থেকে মুক্ত রাখু্ন। এখন আমরা কি কি উপায় ব্যবহার করে টাক মাথায় চুল গজানো যায় তা জেনে নিয়ে কাজে তৎপর হই।

নতুন চুল গজানোর উপায়

টাক মাথায় নতুন চুল গজানোর ঘরোয়া কিছু হেয়ার মাস্ক

মাথার চুলের আকৃতিঃ আমরা প্রায় লোকই মাথার চুল নিয়ে কম-বেশি চিন্তা করে থাকি। তাই যাদের মাথায় টাক, চুলকম, মাথার সামনের দুই দিকে খোজ কপাল ইতি মধ্যে হয়েগেছে তাদের দুঃচিন্তা অভাব নেই। আসুন আমরা প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করে চুল গজানো উপায়গুলো ব্যবহার করি এবং এ সমস্যা থেকে নিস্তার লাভ করি।

আমলকির গুঁড়ো ও নারিকেল তৈলঃ শুকনো আমলকির গুঁড়ো এক টেবিল চামচ এবং নারিকেল তৈল দুই টেবিল চামচ নিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা করে মাথায় ম্যাসাজ করুন এবং এভাবে সারা রাত রাখুন। সকালে গোসলের সময় শ্যাম্পু করে নিন। এভাবে সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন। এটি মাথায় নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে তা আপনি নিজেই লক্ষ্য করুন।

মেহেদী এবং সরিষা তেলের মাস্কঃ এই মাস্ক তৈরি করতে যা যা লাগবে তা হল-১০০ গ্রাম মেহেদী পাতা এবং ২৫০ গ্রাম সরিষার তেল। এখন একটি কড়াইতে সরিষার তেল গরম হয়ে এলে মেহেদী পাতাগুলো দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এভাবে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন এবং ছেঁকে নিন। আপনি এখন এই তেল চুলের গোঁড়ায় এবং মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিয়ে ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। বাকী তেলটুকু বোতলে সংগ্রহ করুন এবং এভাবে প্রতিদিন ব্যবহারের করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

অলিভ অয়েল, মধু ও দারুচিনির মাস্কঃ আপনার চুলের পরীমান অনুযায়ী অলিভ অয়েল গরম করে এতে ১-২ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলের গোঁড়ায় লাগান। এই ভাবে চুলে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুল মজবুত ও একেবারেই মাথায় টাক পড়ার সম্ভবণা হ্রাস পায়।

কালোজিরার মাস্কঃ কালোজিরা গুঁড়ো করে অলিভ অয়েল কিংবা নারিকেল তেলের সাথে পরিমাণ মতো মিশিয়ে চুল ও চুলের গোঁড়ায় ভালো করে ম্যাসেজ করুন। এভাবে সারা রাত রাখুন এবং পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে Hair fall রোধ ও নতুন চুল গাজাতে সাহায্য করে।

নিমপাতার মাস্কঃ তিন বা চার গ্লাস পানির মধ্যে ১০ বা ১২ টি নিম পাতা মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন।যখন পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে আসবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিন। এরপর পানি ঠান্ডা করে এই পানি দিয়ে সম্পূর্ন মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন এতে ভালো ফল পাবেন।

জবা ফল ও লেবুর রসের মাস্কঃ একটি পাত্রে এক গ্লাস পানি নিয়ে চুলায় রাখুন এবং পানি ফুটে উঠার সাথে সাথে দুইটি জবাফুল দিয়ে ৩ বা ৪ মিনিট আরও ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে এই পানি ছেঁকে নিয়ে এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। আপনার মাথা শ্যাম্পু করে ধোঁয়ার পর এই মিশ্রণটি মাথার টাক পড়া শুরু করেছে সেই স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এই জবা ফুলের মাস্ক নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

রসুনের নির্যাসঃ রসুনের নির্যাস তৈরি করার জন্য এক বোতল অলিভ অয়েল এর মধ্যে কয়েক কোয়া রসুন এক সপ্তাহ ফেলে রাখুন । এইভাবে এক সপ্তাহ খানেক রাখার পর এই নির্যাস তৈরি হবে এবং এ নির্যাস মাথায় ব্যবহার করুন। এই নির্যাস ব্যবহারের ফলে মাথার Hair fall রোধ হবে এবং মাথায় নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত কার্যকর। যদি কারো এই রসুন মিশ্রিত নির্যাস ব্যবহার করলে মাথায় জ্বলুনি হয় তাহলে তা সাথে সাথে ধুয়ে ফেলুন এবং এই নির্যাস ব্যবহার করার আর প্রয়োজন নেই।

লেবুর রস ও টক দইঃ আপনার মাথার চুলের খুশকি দূর করতে লেবুর রস ও টক দই মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। এটি চুলের খুশকি দূর করে মাথায় নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

তেল ব্যবহারঃ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করুন। এছাড়া সরিষার তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
পেঁয়াজ, রসুন কিংবা লেবুর রসঃ আপনার চুলে পেঁয়াজ বা রসুন কিংবা লেবুর রস যেকোনো একটির রস চুলে ভালো করে ম্যাসেজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে আপনার Hair fall বন্ধ হবে এবং মাথায় টাক পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
গ্রীন টি বা সবুজ চাঃ ব্যবহারিত গ্রীন টি ব্যাগ বা চিনি ছাড়া তৈরি গ্রীন টি বা সবুজ চা মাথার চুলের গোঁড়ায় ১ ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন তারপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করলে Hair fall রোধ হবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

এই পদ্ধতিগুলো ক্রমশ ব্যবহারের ফলে আপনার চুলের যেকোন সমস্যা সমাধানে যথার্থ কার্যকর।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *