চুল ঘন এবং কালো করার উপায়

চুল পড়ে যাওয়ার আসলে কয়েকটা সিজন রয়েছে। যেমন গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল। এই সময়গুলোতে আবহাওয়ার সাথে সাথে আমাদের চুলের গোড়ালিও হালকা হয়ে আসে। এর ফলে চুল অনেকটাই রুক্ষ হয়ে আসে। চুলের গোড়ালিতে ঘাম জমে থাকলেও Hair fall এর প্রবণতা বেড়ে যায়। তাছাড়া মাথা ঠিকভাবে না আঁচড়ানোর ফলেও Hair fall হয়ে থাকে। তাই বিভিন্ন সিজন অনুযায়ী আমাদের চুলের পরিচর্যা নেয়া উচিত এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করা উচিত।আসলে চুল ঘন হওয়া এবং লম্বা হওয়া ন্যাচারাল একটি ব্যাপার। তবে আমাদের বিশেষ যত্ন আর পরিচর্যায়েএর কিছু উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে চুলের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন আর প্রয়োজনীয় পুষ্টির। এগুলোর পূর্ণতায় চুল হয়ে ওঠে লম্বা এবং ঘন উজ্জ্বল। চুল ঘন ও লম্বা করার কিছু কার্যকরী উপায় নিচে দেয়া হল।

চুল

চুল ঘন এবং কালো করার উপায়

১. পেঁয়াজের ব্যবহার
সেই প্রাচীন কাল থেকে চুল বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের রসে রয়েছে সালফার যা চুলের কোলাজেন টিস্যুর বৃদ্ধি উন্নত করে এবং চুল বাড়তে সাহায্য করে দ্রুত। লাল পেঁয়াজ ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে রেখে চিপে রস বের করে নিন। এই পেঁয়াজের রস পুরো মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মৃদু কোনো শ্যাম্পু দিয়ে আপনার মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন এই পেঁয়াজের রস।

২. ডিমের হেয়ার মাস্ক
ডিমের উচ্চ মাত্রার প্রোটিন চুলের ফলিকলে পুষ্টি প্রদান করে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এই মাস্কের সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং আয়োডিন চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে।১ টি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। চুলে ভালো করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে মাথা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

পড়ুন  চুল সোজা করার প্রাকৃতিক উপায় জেনে নিন

৩. আলুর রসের ব্যবহার
চুলের বৃদ্ধির কাজে আলুর রসের ব্যবহার অনেকেই জানেন না। কিন্তু আলুর ভিটামিন এ, বই এবং সি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক। আলু একেবারে ঝুড়ি করে নিয়ে খুব দ্রুত এর রস বের করে নিন। এই রস সরাসরি মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

৪. সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা
সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা Hair fall রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুণ।

Loading...

পদ্ধতিঃ
২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত মাথায় তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে ফেললে।

পড়ুন  রুক্ষ শুষ্ক চুল এর জন্যে নিজেই তৈরি করুন হেয়ার সিরাম

৫. ডিম ও অলিভ অয়েল
চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।

পদ্ধতিঃ
একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে মাখা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।

৬. নিয়মিত মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন
নানী-দাদীরা বলতেন না যে তেল দিলে চুল লম্বা হয়? আসলে কিন্তু তা হয় না, চুল লম্বা হয় তেল দেয়ার সময় মাথায় যে ম্যাসাজ করা পড়ে, ঠিক সেই কারণে। চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করলে এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে চুলের ফলিকল গুলো উদ্দীপিত হয়, Hair fall বন্ধ হয় এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। সপ্তাহে কমপক্ষে দুদিন তেল দিয়ে ভালো করে চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। বাড়তি সুবিধা হিসাবে তেলের কারণে চুলে ডিপ কন্ডিশনিং-এর কাজটাও হয়ে যাবে। চুলে তেল দিতে না চাইলে কেবল আঙ্গুল দিয়েও নিজের মাথার ত্বক ম্যাসাজ করতে পারেন। বা মাখায় শ্যাম্পু করার সময়েই ম্যাসাজের কাজ সেরে নিতে পারেন।

পড়ুন  এই আসন্ন গরমে চুলের যত্ন কীভাবে নিবেন

৭. ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল হচ্ছে চুল ঘন ও এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সবচাইতে দারুণ উপায়। ভিটামিন ই এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এই তেলের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। বরং চুলদ্রুত বড় করতে দারুণ ভূমিকা রাখে এই তেল।
সমান সমান পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেল/অলিভ অয়েল/ বাদাম তেল ইত্যাদি পরস্পরের সাথে মিশিয়ে নিন এবং চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০-৩৫ মিনিট চুলে রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার করবেন। দুবার না পারলে কমপক্ষে একবার। স্ট্রেস কমাতে চাইলে যোগ করতে পারেন কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল।

 

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *