বাচ্চা নষ্ট করা আইনানুসারে বাচ্চা খুন করা – ডাঃ তারাকী হাসান মেহেদী

একজন চিকিৎসকের ওয়াল থেকে-
“আমার মাসিক বন্ধ হয়ে আছে কয়েক মাস হল”।
আলট্রাসনো করাতে এসে মহিলাটিকে সমস্যা জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর দিলেন। রুগীরা শুধু আলট্রা করাতেই আসেনা, তারা আবার চিকিৎসাও জানতে চায়। মেশিন এদিক সেদিক ঘুরাতেই জরায়ুর ভেতর চোখে পড়ল বাচ্চা।

বাচ্চা নষ্ট করা
– ঘটনা কি বলেন তো? আপনার পেটে তো বাচ্চা।
– জানি। পেটে বাচ্চা আসার দুই মাস পর, নষ্ট করার জন্য ওষুধ খাই। ওষুধ খাওয়ার পর কি যেন বের হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন তো দেখছি বাচ্চা ঠিকই আছে।
– নষ্ট করতে চেয়েছিলেন কেন?
– এর আগে দুইটা বাচ্চা আছে। আর চাই না।
– ওষুধ খাওয়ার পরেও যখন বাচ্চা মরেনি, নিশ্চয় আল্লাহ চান এই বাচ্চা বেঁচে থাকুক। তাহলেও কি একে মেরে ফেলবেন?
– কিন্তু আমি আর বাচ্চা নিয়ে কি করব? এখন তো কেবল তিন মাস। মেরে ফেললে কিছুই হবেনা।
বুঝানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু মহিলাটি বাচ্চাটি মেরে ফেলতে তখনো বদ্ধ পরিকর। যে নিয়ে এসেছে সে আবার পরিচিত। সেও চায় না বাচ্চা নষ্ট করা হোক। বাংলাদেশ পেনাল কোডের আইন ৩১২ ও ৩১৫ অনুসারেও লিগাল কারণ ছাড়া induced abortion একটি অপরাধ। ইতোমধ্যে সে একটি অপরাধ করার চেষ্টা করে ফেলেছে, সফল না হওয়াতে আবারো একই কাজ করতে যাচ্ছে।
মেশিনে দেখলাম বাচ্চার বয়স তিন মাস পার। উপায় না দেখে বললাম,
– আপা, আপনার বাচ্চার বয়স তো তিন মাস নয়, চার মাস পার হয়ে গেছে। অনেক বড়। এখন বাচ্চা নষ্ট করলে কিন্তু আপনার শরীরে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
বাচ্চা মরলে কষ্ট নেই, অথচ নিজের ক্ষতির কথা শুনে একটু চিন্তিত হয়ে পড়ল। বুঝলাম কিছুটা কাজ হয়েছে। যদিও এসময় বাচ্চা ছেলে না মেয়ে বুঝা যায় না, তবুও বললাম,
– এই দেখেন, আপনার পেটের বাচ্চা কিন্তু ছেলে বাচ্চা মনে হচ্ছে। ছেলে বাচ্চাকে নষ্ট করবেন এভাবে?
এবার দেখি আরেকটু চিন্তায় পরে গেল। বললেন, দেখি স্বামীর সাথে আলোচনা করে, উনি কি বলেন … রিপোর্ট নিয়ে চলে গেলেন।

বাচ্চা নষ্ট করার জন্য কি করতে হবে ও মাসিক ক্লিয়ারের উপায় কি? প্রশ্নের উত্তর পড়ুন এখানে

এই সময়ে বাচ্চা নষ্ট করালে মায়ের ক্ষতি হয়তো তেমন হবেনা। কিন্তু সে যা করতে চাচ্ছে সেটা আইন অনুসারে ক্রিমিনাল এবরশন। আর এটা বাচ্চা নষ্ট করা না, এটা হবে পরিকল্পিত একটা খুন, হত্যাকাণ্ড। জানিনা মহিলাটি এরপর কি করবেন… কিন্তু দুইটা মিথ্যা কথার বদলে যদি একটি জীবন রক্ষা পায়, সেই চেষ্টা করাটাই বা মন্দ কি!
ইসলামী ফিকাহবিদরা পেটের বাচ্চা নষ্ট করাকে মারাত্মক গুনার কাজ আখ্যায়িত করে সবসময় নিরুৎসাহিত করেছেন। মেডিকেল ফিকাহমতে, গর্ভাবস্থার ১২০ দিনের ভেতর যদি এবরশন বা বাচ্চা নষ্ট করা হয়, তাহলে সেটাতে মারাত্মক গুনাহ হবে, তবে এর জন্য হত্যার রক্তপন দিতে হবেনা। কিন্তু গর্ভাবস্থার ১২০ দিন পর বাচ্চা নষ্ট করলে সেটা হবে একজন জীবিত মানুষ হত্যা করার সমান গুনাহ, এর সাথে রক্তপনও দিতে হবে।

তবে এসব ক্ষেত্রে বাচ্চা নষ্ট করা যাবে-

১. যদি মনে হয় প্রেগন্যন্সির কারণে মায়ের জীবন হুমকির মুখে পরবে।
২. Rape এর কারণে গর্ভবতী হলে।
৩. যদি প্রথমেই নির্ণয় করা যায় যে বাচ্চাটির মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি আছে, তাহলে গর্ভাবস্থার ১২০ দিনের মধ্যে বাচ্চাকে নষ্ট করা যাবে।

পেটে বাচ্চা এসেছে, কী ঔষধ খেলে নষ্ট করা যাবে? পড়ুন এখানে
তবে বিয়ে ছাড়া অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে পেটে বাচ্চা আসলে, সেই বাচ্চাকে নষ্ট (খুন) করা যাবেনা কোনভাবেই।
ভ্রুন হত্যা কখনোই কাম্য নয়। যখনই বাচ্চা নষ্ট করা হোক না কেন, আমি কখনোই বলিনা, বাচ্চা নষ্ট করা… সবসময় বলি বাচ্চা খুন করা… এমন একজনকে খুন করা, যাকে বাঁচার সুযোগ দিলে একসময় হয়তো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হত, কিংবা একজন ডাক্তার যে হাজার হাজার মানুষকে সুস্থ করে তুলত।
ডাঃ তারাকী হাসান মেহেদী

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *