ভিটামিন ই পাবেন যেসব খাবারে

ভিটামিন ই এর এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভূমিকাটা সুবিদিত। ডাক্তারের পরামর্শে বা অনেকসময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াইআজকাল অনেকে ভিটামিন ই সেবন করেন। ডাক্তাররা সাধারণত বার্দ্ধক্য প্রতিরোধ এবং হৃদরোগের আক্রমণ থেকে বাচাঁর জন্য ভিটামিন ই সেবনের পরামর্শ দেন।

ভিটামিন ই.PNG

ভিটামিন ই পাবেন যেসব খাবারে

সম্প্রতি ভিটামিন ‘ই’ এর আর এক উপশমকারী গুণের কথা জানা গেছে। গবেষণায় জানা গেছে যে, ব্যায়াম পরবর্তীপেশী বেদনা লাঘবে ভিটামিন ‘ই’ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ এর ফ্রী র‌্যাডিক্যাল রোধী বা এ্যান্টি অক্সিডেন্টভূমিকাই কাজ করে। এমনিতে ফ্রী র‌্যাডিক্যাল  পেশীর  ছোট-খাটো কাটাছেঁড়া  মেরামত করে।  কিন্তু ফ্রী র‌্যাডিক্যালের
সংখ্যা বেড়ে গেলে তা পেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াঁয়। ভিটামিন ‘ই’ সেবনে ফ্রী র‌্যাডিক্যালের সংখ্যা কমে যায়এবং পেশীর ব্যাথা নিরাময় হয়।

জেনে নিন ভিটামিন ই এর উৎস সমূহঃ

ভিটামিন ‘ই’ এর উৎস হল উদ্ভিজ্জ তেলসমূহ যথা, পাম, রাইস ব্র্যান, সয়াবীন, কর্ণ, সানফ্লাওয়ার প্রভৃতি এবং বিভিন্নপ্রকার বাদাম ও সবুজ শাকসবজী, হুইট জার্ম ইত্যাদি। এখানে উল্লেখ্য  যে, খাদ্যে দু’ধরণের ভিটামিন ই পাওয়াযায় যথা,  টোকোফেরল ও টোকোট্রায়েনল। এ দু’ধরণের মধ্যে টোকোট্রায়েনলের কার্যকারীতাই বেশী।  ভিটামিন  ‘ই’
এর  উৎসগুলির  মধ্যে  শুধু  পাম  তেল  ও  রাইস  ব্র্যান  তেলের  মধ্যে টোকোট্রায়েনল  ভিটামিন  ‘ই’  পাওয়া  যায় এবংঅন্যান্য উৎসগুলোতে পাওয়া যায়  টোকোফেরল  ভিটামিন  ‘ই’। সয়াবীন  তেলে ৯৫৮  পিপিএম  ভিটামিন  ‘ই’ রয়েছেযার সবটুকুই টোকোফেরল। পাম তেলে প্রায় ১১৭২ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) ভিটামিন ‘ই’ আছে। পাম তেলে বিদ্যমান  ভিটামিন  ‘ই’  এর  ৭০  শতাংশই  হচ্ছে  টোকোট্রায়েনল  ও  অবশিষ্ট  ৩০%  হচ্ছে টোকোফেরল।টোকোট্রায়েনলের  উৎস  হিসেবে  পাম  তেল  অনন্য।  ক্যান্সারাক্রান্ত  কোষগুলোর  বৃদ্ধি  প্রতিহত  করার  ক্ষেত্রেটোকোফেরল ভিটামিন ‘ই এর চাইতে টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ এর শারীরবৃত্তিক ক্ষমতা অনেক বেশী।

তবে একথা জানা দরকার যে, কৃত্রিম উপায়ে তৈরী ভিটামিন ই অপেক্ষা প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিটামিন‘ই’ অধিক উপকারী। কারণ  বিভিন্ন সমীক্ষায়  দেখা  গেছে  যে  ভিটামিন  ‘ই’ তখনই অধিক কার্যকরী  যখন শরীর তাখাদ্যের  মাধ্যমে  পায়।  কাজেই  ভিটামিন  ‘ই’  এর  উপকারী  গুণসমূহকে  পরিপূর্ণভাবে  কাজে  লাগাতে  হলে  যে  সব
খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন ‘ই’ অধিক মাত্রায় রয়েছে তা খাদ্যতালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। আবার এসব খাদ্যের মধ্যেটোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ যে খাদ্যে রয়েছে সে খাদ্যই হওয়া উচিত অধিক পছন্দনীয়। এদিক দিয়ে বিচার করলেপাম  তেলকে  ভোজ্য  তেল  হিসেবে  ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ  টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া  যেতে পারে। রাইস ব্রান তেল সহজলভ্য হলে তাও ব্যবহার করা যেতে পারে। সয়াবীন তেল থেকে টোকোফেরল ভিটামিন‘ই’ পাওয়া যাবে। সবুজ শাক-সবজির মধ্যে পালং শাক, মূলা, লীক (পেঁয়াজ জাতীয কন্দ) এগুলোও ভিটামিন ‘ই’ এরউৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *