মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া কি কোনো সমস্যা?

প্রশ্নঃ মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া কি কোনো সমস্যা?

উত্তরঃ রজঃস্রাব (ইংরেজি: Menstruation) হলো উচ্চতর প্রাইমেট বর্গের স্তন্যপায়ী স্তরী- একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি মাসে এটি হয় বলে এটিকে বাংলায় সচরাচর মাসিক বলেও অভিহিত করা হয়। প্রজননের উদ্দেশ্যে নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন হয় এবং তা ফ্যালোপিয়ন টিউব দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে এবং ৩-৪ দিন অবস্থান করে।

মাসিক

এ সময় যদি পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে নারীর জরায়ুতে শুক্র না-আসে এবং এই না-আসার কারণে যদি ডিম্ব নিষিক্ত না হয় তবে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং জরায়ুগাত্রের অভ্যন্তরতম সরস স্তর(এন্ডমেট্রিয়াম) ভেঙ্গে পড়ে। জেনে নিন মাসিক কখন শুরু এবং কখন শেষ হয়? এই ভগ্ন ঝিল্লি, সঙ্গের শ্লেষ্মা ও এর রক্ত বাহ থেকে উৎপাদিত রক্তপাত সব মিশে তৈরী তরল এবং তার সংগে এর তঞ্চিত এবং অর্ধ-তঞ্চিত মিশ্রণ কয়েক দিন ধরে লাগাতার যোনিপথে নির্গত হয়। এই ক্ষরণই রজঃস্রাব বা রক্তস্রাব বা ঋতুস্রাব। কখনো একে গর্ভস্রাব হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। যদি নারী জরায়ুতে অবমুক্ত ডিম্বটি পুরুষের স্খলিত শুক্র দ্বারা নিষিক্ত হয়ে এণ্ডোমেট্রিয়ামে প্রোথিত (ইম্প্ল্যান্টেশন) হয় তবে আর রজঃস্রাব হয় না। তাই মাসিক রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীর গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একটি নির্দিষ্ট বয়সকালের পূর্বে যেমন মেয়েদের মাসিক শুরু হয়না তেমনি একটি নির্দিষ্ট বয়সকালের পর মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ‌ও হয়ে যায়, আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিভিন্ন কারণেও মেয়েদের মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এই ঘটনাকে এড়িয়ে না গিয়ে মাসিক বন্ধ হবার সাথে সাথে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

প্রজননক্ষম নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে অ্যামেনোরিয়া বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মেয়েদের ৮ থেকে ১৮ বছরের মধ্যবর্তী সময়ে প্রথম রজঃস্রাব দেখা দেয়। গড় হিসেবে ১২ বছর বয়সের মধ্যে অধিকাংশ মেয়েদের রজঃস্রাব শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু ১৬ বছর হবার পরও মেয়েদের প্রথম মাসিক শুরু না হওয়াকে প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়া বলে। অন্যদিকে নিয়মিত মাসিক থাকা অবস্থায় কোন মেয়ের পরপর তিন অথবা ততোধিক বার ঋতুস্রাব না হলে সেটাকে সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া বলে। সাধারণত গর্ভাবস্থা ও দুগ্ধপানের সময় এই লক্ষণ দেখা দেয়। মেনোপজের পরেও মহিলাদের মাসিক হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

মাসিক বন্ধ হবার কী কী কারণ থাকতে পারে?

মুত্রথলিতে ইনফেকশন হলে।
অনিয়মিত মাসিক হলে।
গর্ভে সন্তান আসলে।
শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলে বা অতিরিক্ত মোটা হলে।
হরমোন জনিত সমস্যা থাকলে।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে।
প্রজনন অঙ্গে কোন ধরণের শারীরিক সমস্যা থাকলে।
শরীরে প্রয়োজনের থেকে কম ফ্যাট বা চর্বি থাকলে।
হঠাৎ করে এবং দ্রুততার সাথে ওজন কমতে থাকলে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কোন কোন বিষয়গুলো মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে?

বংশ অথবা পরিবার: বংশের অন্যান্য মহিলা সদস্যদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সমস্যা থাকলে আপনারও এটি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

খাদ্য গ্রহণে সমস্যা: যে সকল মহিলাদের অ্যানোরেক্সিয়া (anorexia) বা বুলিমিয়ার (bulimia) মতো ইটিং ডিজঅর্ডার (Eating Disorder) আছে তাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ক্রীড়া অনুশীলন: কঠোর অনুশীলন করার ফলে মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত কত শতাংশ মহিলার অ্যামেনোরিয়া হয়ে থাকে?

সাধারণত প্রজননক্ষম মহিলাদের ৫%-এরও কম এই সমস্যায় ভুগে থাকে। এছাড়া ১%-এর কম মহিলা প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে শারীরিক-মানসিক চাপ, অপুষ্টি, অতিরিক্ত ব্যায়াম ও অসুস্থতার কারণেও ঋতুচক্রে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

মাসিক বন্ধ হয়ে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ?

যেহেতু অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বল্প পরিমাণে খাদ্য গ্রহণের কারণে অ্যামেনোরিয়া হতে পারে, তাই কাজ করা ও বিশ্রাম গ্রহণের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে চলুন।

মানসিক চাপ ও দ্বন্দ্ব থাকলে সেগুলি কমানোর চেষ্টা করুন। যদি নিজে থেকে কমাতে না পারেন, তাহলে এ ব্যাপারে পরিবার, বন্ধু ও চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

ঋতুচক্রের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখুন। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা মেনে চলুন।

মাসিক শুরুর সময় এর স্থায়ীত্ব বা যেকোন সমস্যাপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিলে তা লিখে রাখুন।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *