হাঁপানি থাকলে কি করবেন কি করবেন না জেনে রাখুন

যাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাদের বলা হয় এজমার রোগী। বাংলায় বলে হাঁপানি।হাঁপানি বা অ্যাজমা হচ্ছে শ্বাসনালীর প্রদাহজনিত রোগ। হাঁপানি হলে সাধাণরত কাশি, কফ ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।সাধাণরত ছোট বেলাতেই বোঝা যায় অ্যাজমা আছে কিনা।তবে অনেক সময় বড় হয়েও ধরা পড়ে।যাদের হাঁপানি আছে তারা কি করবেন ও কি করবেন না এ বিসয়ে যানছে আপনার ডক্টর।

হাঁপানি.PNG

হাঁপানি থাকলে কি করবেন কি করবেন না জেনে রাখুন

যেসব জিনিস থেকে হাঁপানির আক্রমণ শুরু হয় সেগুলো বাড়ি থেকে দূরে রাখুন। এজন্য হাঁপানি রোগীদের এলার্জি পরীক্ষা করে জানা দরকার তার কোন দ্রব্যাদি থেকে এলার্জি শুরু হয়।

হাঁপানি রোগে আক্রান্ত অনেকেরই পশুপাখির লোমে এলার্জি থাকে। এই সব প্রাণী বাড়ীর বাইরেই রাখা ভালো।

বিছানা করুন প্লেন লিনেন দিয়ে। প্রতিদিন দু বেলা ঘরের মেঝে পরিষ্কার করা দরকার।হাঁপানির রোগীর বিছানার চাঁদার প্রতিদিন ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে অথবা প্রতিদিন রোগে শুকাতে হবে। যেসব জিনিস থেকে ধুলো ওড়ে সেগুলো নাড়াচাড়া করবেন না। এসব ঝাড়ার সময় হাঁপানির রোগীকে ঘরের বাইরে থাকতে হবে।

কোনও ঝাজালা গন্ধ যেমন মশলা ভাজার গন্ধ, মশা মারার স্প্রে, পারফিউম যেন নাকে প্রবেশ না করে।

ধুলো, ধোঁয়া, ঠান্ডা বা কুয়াশা লাগানো চলবে না। রাস্তার ধুলো, ঘরের পুরাতন ধুলো, গাড়ীর ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাবার জন্য ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করুন। যারা বাইক অথবা নন এসি গাড়ি চালান তারা অবশ্যই মাস্ক পরে নিবেন।

ধূমপান বারণ:

সিগারেটের ধোঁয়া হাঁপানির কষ্ট সাংঘাতিক ভাবে বাড়িয়ে দেয়। শুধু হাঁপানিই নয় ফুসফুস ও শ্বাসনালী সংক্রান্ত অনেক রোগের অন্যতম কারণ ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়া থেকে প্রথমে ব্রঙ্কাইটিস, পরে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস সৃস্টি হয়। হাঁপানি রোগী থাকে সেখানেও কোন স্মোকারের প্রবেশ নিষেধ। কারণ পরোক্ষ ধূমপানও হাঁপানির কষ্ট অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।

শোবার ঘর রদবদল করুন:

ঘর থেকে কার্পেট বের করে নিন। এগুলোতে প্রচুর ধুলা জমে। নরম চেয়ার, কুশন ও বাড়তি বালিশও বের করে দিন।

পরিষ্কার ও খোলা হাওয়ার জন্য জানালা খোলা রাখুন। ভ্যাপসা ও দমবন্ধ লাগলে জানালাগুলো খুলে দিন, এমনকি রান্না করার সময় ধোঁয়া উঠলে উগ্র ছাড়ালেও তা করতে পারেন। কাঠ বা কেরোসনে রান্না করলে ধোঁয়া বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটা জানালা অল্প খুলে রাখুন। যখন বাইরে গাড়ির ধোঁয়া, ফ্যাক্টরির দূষণ ধুলো বা ফুল ও গাছের রেনু বেশি থাকে, তখন জানালা বন্ধ রাখুন।

ব্যায়াম করুন:

প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করা খুব জরুরি। তবে একটা ব্যাপার ভুললে চলবে না বেশি ব্যায়ামের জন্য যেন হাঁপানির টান না ওঠে।

টেনশন মুক্ত থাকতে হবে:

কোন কারণে ভয় পেলে, মানসিক উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা শোক পেলেও হাঁপানির টান হতে পারে। তাই মনটাকে রাখতে হবে টেনশন ফ্রি, শরীর মন শিথিল করে দেওয়া রপ্ত করতে হবে।

হাঁপানি রোগীর অনুপস্থিতে কয়েকটি কাজ সেরে রাখুন। ঘরদোর মুছে ভ্যাকুয়াম করে বা ঝাঁট দিয়ে রাখুন, পোকা মাকড়ের জন্য স্প্রে করুন, কড়া গন্ধযুক্ত রান্নাবান্না সেরে রাখুন, ঘরে ফেরার আগে হাওয়া খেলতে দিন।

পানি:

হাঁপানি চিকিত্সা চলাকালীন রোগীকে প্রচুর পরিমাণ জল খেতে দিন। কারণ শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে হাঁপানির ওষুধ কাজ করে না। এছাড়া জলের অভাবে কফ জমে যায় ও সহজে বেরোতে পারে না, ফলে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।

খাওয়া-দাওয়া:

বেশি রাতে ভরপেটে খেলে টান উঠতে পারে। তাই রাত্রিতে পেট ভরে ভুলেও খাবেন না। হাঁপানি রুখতে নিয়ম করে হাতে কিছুটা সময় নিয়ে খেতে হবে, অকারণে তাড়াহুড়া করা চলবে না, ঝাল মশলাদার খাবারের বদলে বাড়িতে হালকা রান্না করা খাবার খাওয়াই বাঞ্জনীয়। ফ্রিজ থেকে বের করে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জিনিস খাওয়া উচিত নয়। রুম টেম্পারেচারে এলে তবেই খাবেন, ঠান্ডা কোল্ড ড্রিঙ্কস বা ফ্রিজের পানি প্রচন্ড গরমেও খাওয়া উচিত নয়।

ঘরের তাপমাত্রা:

শীতকালে ঘর গরম রাখতে পারলে ভালো হয়। ঘরের বাতানুকূল ঘরের বাইরে বারবার যাতায়াত করা উচিত নয়। যন্ত্রের হাওয়াটা যেন সোজাসুজি গায়ে এসে না লাগে এটাও দেখা প্রয়োজন।

হাঁপানি থাকলে কী খাবেন ও কী খাবেন না জেনে নিন

হাঁপানির আক্রমণ শুরু হলে চটপট তা সামলাতে চেষ্টা করুন:

হাঁপানির আক্রমণ শুরু হওয়ার লক্ষণগুলো হলো-

১. কাশি

২. শো শো শব্দ

৩. বুকে চাপ সৃষ্টি

৪. রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি।

যে জিনিস থেকে হাঁপানি শুরু হয়েছে সেটি থেকে দুরে সরে যান। সালবুটামল জাতীয় ওষুধের ইনহেলার ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে ৫ মিনিট পর পর। শান্ত থাকুন, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।

যদি এতেও ভাল না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদি হাঁপানির নিম্নলিখিত বিপদসংকেতগুলো কোন একটির উপসর্গ দেখা দেয় তবে ডাক্তারের সাহায্য নিন: যেমন-যদি ওষুধ বেশিক্ষণ কাজ না করে বা একেবারেই উপকার না হয়। শ্বাস প্রশ্বাস যদি দ্রুত ও জোরে জোরে হয়, যদি কথা বলতে অসুবিধা হয়, ঠোঁটে বা আঙ্গুলের নখ নীল বা ছাইরঙ্গের হয়ে যায়, পাঁজরের চারপাশে ও ঘারের কাছের চামড়া শ্বাস নেওয়ার সময় ভেতরের দিকে টেনে ধরে, হঠাত্ স্পন্দন বা নাড়ির গতি অত্যন্ত দ্রুত হয়, হাঁটা চলা করতে কষ্ট হয় ইত্যাদি।

 

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *