লোকটি শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোর করত, আমার বোন এখন দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা…

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/আজকের প্রশ্নঃ আমার ছোট বোন যার বয়স ১৭ বছর। আমাদের পাশের বাসার একটি লোকের সাথে আমার বোনের সম্পর্ক ছিল, আমি জানতে পেরে একদিন আমার বোনকে অনেক বোঝাই, এমনকি ওই লোকটির সাথে কথা না বলার জন্য বোনকে মেরেছিও কয়েকবার। আমার বোনকে নাকি লোকটি শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোর করত। আর নানান ধরনের কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করতো, এবং আমার বোনকে বাধ্য করত। আমার বোন এখন দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন বুঝতে পারছি না কী করব? কাউকে বলতেও পারছি না, লোকটি আমার বোনের চেয়ে বয়সে অনেক বড়। লোকটির সাথে ওর ভাবিরও অবৈধ সম্পর্ক আছে। ওরা আরও নানান রকম বাজে কথা বলছে আমাদের সম্পর্কে। এখন কী করব? কী করতে হবে?

বোন

আপু, তোমার বোন আসলে বেশ বড় ধরণের একটি সমস্যা জড়িয়ে গিয়েছে। এবং সমস্যাটি এমন যে নিজে থেকে এই সমস্যাটি সমাধান করার কোন উপায় নেই। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, ব্যাপারটি অবশ্যই এখন তোমাদের অভিভাবককে জানাতেই হবে। কারণ তোমার বোন অন্তঃসত্ত্বা দেড় মাস হয়ে গিয়েছে, এখন আর গর্ভপাত করানো সম্ভব না। আমি জানি, আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হবেন না। কিন্তু আমি মনে করি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুকে জন্ম দিয়ে আজীবন তাঁকে কষ্ট দেয়ার চাইতে গর্ভপাত অনেক অনেক ভালো একটি অপশন।

যাই হোক, যেহেতু গর্ভপাত সম্ভব না, সেহেতু পরিবারকে বিষয়টি জানাতেই হবে। এবং সেক্ষেত্রে পরিবার যেটা ভালো মনে হয় সেই সিদ্ধান্তই নেবেন। বেশীরভাগ পরিবারই এইসব ব্যাপার চুপচাপ চাপা দিয়ে ফেলতে চায়। কিন্তু আমি মনে করি এই লোকটির শাস্তি হওয়া উচিত। তোমার বোন এখনো নাবালিকা, লোকটি তাঁকে ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে, এটাও এক রকমের ধর্ষণ। তোমাদের উচিত হবে শয়তানটার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা ও আইনের সাহায্য নেয়া। এক্ষেত্রে মহিলা পরিষদ ও অন্যান্য নারী অধিকার সংস্থাগুলোর কাছে গেলে পর্যাপ্ত সহায়তা পাবে তোমরা। অন্যদিকে লোকটির পরিবার ও স্ত্রীকে (যদি থেকে থাকে) সবকিছু জানানোর ব্যবস্থাও করতে হবে।

তোমার বোনের এখন অনেক বেশি মানসিক সাপোর্ট দরকার। তাঁকে দোষারোপ করো না বা কথা শুনিও না। বরং তাঁকে বুঝিও যে জীবন এখানেই শেষ না। শিশুটির কী হবে সেই ব্যাপারে ওকেই সিদ্ধান্ত নিতে দাও। আর হ্যাঁ, কাউকে কিছু না জানিয়ে কোন ধাত্রী বা দাইমাকে দিয়ে ভুলেও গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করবে না। এতে ভয়াবহ বিপদ ছাড়া আর কিছুই হবে না।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *