মহিলাদের জন্য লিপস্টিক ব্যবহার করা বৈধ কিনা?

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য লিপস্টিক ব্যবহার করা বৈধ কি না?

লিপস্টিক

উত্তর : লিপস্টিক (ইংরেজি: Lipstick) হচ্ছে এক প্রকার প্রসাধনী দ্রব্য যা বিভিন্ন রকম রঞ্জক পদার্থ, তেল, মোম এবং ত্বক কোমলকারী পদার্থের সন্নিবেশে তৈরি হয় এবং মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তা ঠোঁটে প্রয়োগ করা হয়। লিপস্টীক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। লিপস্টীক সাধারণত নারীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় এবং রূপসজ্জার কার্য ব্যতীত ছেলেরা এটি ব্যবহার করেন না। নারীদের ক্ষেত্রেও বয়সন্ধিকালে রয়েছেন এমন মেয়ে বা তরুণীরা সচারচর লিপস্টিক ব্যবহার করেন না, কারণ সেসময় ঠোঁটের প্রাকৃতিক রং ও ভাঁজ, সর্বোপরি সৌন্দর্য অটুট থাকে।

প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার নারীদের মাঝে মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।প্রাচীন মিশরীয়রা সামুদ্রিক আগাছা থেকে আরোহিত পার্পল-লাল রং এর এক প্রকার পদার্থের সাথে ০.০১% আয়োডিন, এবং কিছু ব্রোমিন মিশিয়ে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করতেন, যা লিপস্টীক হিসেবে প্রয়োগ করা হতো। রানী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টীক  ব্যবহার করতেন যা তৈরি হতো মেরুন রংয়ের বিটল পোকা থেকে, এর ফলে ঠোঁটে একটি গাঢ় লাল আভা ফুটে উঠতো, এছাড়া বেজ দেওয়া জন্য ব্যবহৃত হতো পিপড়া।

আজকাল মহিলারা ঠোঁটে যে সব লিপস্টিক ব্যবহার করে থাকে। এগুলোর ব্যবহারের ব্যাপারে শরয়ী বিধানে কিছুটা বিশ্লেষণ আছে। তাহলো যে সকল লিপস্টীক ব্যবহারে ঠোঁটের উপর আবরণ সৃষ্টি হয় না, ফলে অযু ও ফরজ গোসলের সময় স্বাভাবিক ভাবেই চামড়া পর্যন্ত পানি পৌছে যায়। তাহলে এ ধরণের লিপস্টীক ব্যবহার করা জায়েয আছে।

কিন্তু যদি লিপস্টিক ব্যবহারের কারণে ঠোঁটের উপর গাঢ় আবরণ সৃষ্টি হয়ে যায় ফলে অযু ও ফরয গোসলের সময় শরীরে চামড়া পর্যন্ত পানি না পৌঁছে এমতাবস্থায় পবিত্রতা, অযু ও ফরয গোসলের পূর্বে এগুলো তুলে ফেলা প্রয়োজন। অন্যথায় অযু ও ফরয গোসল হবে না, অর্জিত হবে না পবিত্রতা। আর পবিত্রতা ছাড়া নামাযও হবে না।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *