ওর মৃত্যুর জন্যে কি আমি-ই দায়ী?

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/ আজকের প্রশ্নঃ ওর মৃত্যুর জন্যে কি আমি-ই দায়ী?

মৃত্যুর

ওর মৃত্যুর জন্যে কি আমি-ই দায়ী

আস্সালামুআলাইকুম।আমার জীবনের গল্পটা পড়ে অনেকের মনে হতে পারে এটা একটা সিনেমা। অস্বীকার করবনা তাদের অভিযোগ। কারন আমার জীবনটাই যে একটা সিনেমা। আশা করি পরিচয়টা গোপন রাখবেন।।।

 

আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক ফাজিল টাইপের ছিলাম।তবে লেখাপড়ায় ছিলাম বেশ।চেহারা ভালো থাকায় বড় হওয়ার সাথে সাথে একটা মেয়ে পটানোর মেশিনে পরিনত হলাম।আমার ক্লাশে দুইটা বন্ধু ও তিনটা বান্ধবী ছিলো,যারা আমার খুবই ক্লোজ ছিল।এদের মধ্যে আমার সব থেকে ক্লোজ বান্ধবী,সন্ধ্যা।ও আমাকে সবসময় সব বিষয়ে সাপোর্ট করতো।তবে বুজতে পারতাম আমার অনেকগুলা রিলেশনের ব্যাপারটা ও ঠিক মন থেকে মেনে নিতে পারতো না।কারনটা অবশ্য অজানা ছিলো।যদিওবা কারনটা একসময় কষ্টদায়ক সত্য হিসেবেই আমার সামনে ধরা দেয়।

 

ক্লাস টেনের ঘটনা,মিথি নামের একটা মেয়ে ঢাকা থেকে এসে আমাদের ক্লাসে ভর্তি হয়।চেহারার কথা বলতে গেলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও ওকে দেখতে পেলে কবিতা লিখে ফেলতেন।পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি ও সন্ধ্যার আপন চাচতো বোন।ব্যাস,সন্ধ্যাকে পাম দেওয়া শুরু।প্রথম যেদিন সন্ধ্যাকে বলি ও আমাকে এড়িয়ে যায়।অতঃপর আমার পীড়াপীড়িতে মিথিকে আমার কথা বলতে রাজি হয়।আমি ভালো ফ্যামিলির হওয়ায় মিথিও রাজি হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হল আমাদের প্রেম। মিথিকে পেয়ে অন্য মেয়েদের কথা ভূলে গেলাম। দেখতে দেখতে ২ বছর পার হয়ে গেল। ইন্টার এক্সামের পর মেডিকেলে ভর্তি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।এদিকে আমাদের সম্পর্কের কথা ফ্যামিলি জানতে পারে । অনেক ঘটনার পর দুই ফ্যামিলি রাজি হয় এই শর্তে যে,এখন আমাদের এনগেজমেন্ট হবে আর বিয়ের আগ পর্যন্ত আমাদের মোবাইল ব্যাতীত কোন যোগাযোগ থাকবে না। মেডিকেল আমার স্বপ্ন ছিল। ঠিক করলাম ঢাকায় গিয়ে কোচিং করব মেডিকেলের জন্য।

 

সেদিন ছিল রবিবার।রাতে ঢাকা যাবো কোচিং এর জন্য।বিকালে সন্ধ্যার কল আসলো । বলল দেখা করবে।আমি দেখা করতে গেলাম।সন্ধ্যাকে আমার জীবনের দীর্ঘ তেরটা বছরে কোনদিন এতো শান্ত আর গম্ভীর ভাষায় কথা বলতে শুনিনি।আমাকে একটা খাম দিয়ে বলল, ঢাকা পৌছানোর পর ওটা খুলতে।ওর চোখদুটো পুরো লাল ছিলো।আমি ভাবলাম আমি চলে যাবো বলে কাঁদছে।ঢাকায় পৌছানোর পর লম্বা একটা ঘুম দিলাম।ঘুম ভাঙ্গলো আম্মুর কলে।জানতে পারলাম,সন্ধ্যা আর আমাদের মাঝে নেই।ও সুইসাইড করেছে।বিষ খাওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে অনেক চেস্টা করেও ওকে বাঁচানো যায়নি।কতোসময় বসে ছিলাম জানি না,হঠাৎ ওর চিঠির কথা মনে পড়ায় চিঠিটা ব্যাগ থেকে বের করে পড়তে লাগলাম।মাত্র চারটা লাইনের চিঠি।চিঠিতে লিখা ছিল

“ তুই আর মিথি খুব ভালো।বিয়ের পরপরই একটা ছোটুমিয়া চাই কিন্তু।তোকে খুব ভালোবাসতাম রে।তাই ভালোবেসেই চলে গেলাম।”

মেডিকেল আমার জন্য নয় সেটা বাবা বুঝলই না… পড়ুন বিস্তারিত

সন্ধ্যার মৃত্যুর কারনটা ওর পরিবার জানে না।বলতে গেলে আমি ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানে না।ওর মৃত্যুর পর আমি পুরোই অন্যরকম হয়ে গেলাম।বিড়ি ধরলাম,একসময় রেগুলার ঘুমের ঔষধও ধরলাম্কারন রাতে ঘুমাতে পারতাম না।ওর সব স্মৃতি পুরো রাত আমাকে কুড়ে কুড়ে খেতো।মিথির সাথে সম্পর্কের সুতোয়ও টান পড়ল।ওকে আর ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না। মেয়েটা কিন্তু আমাকে প্রচুর ভালোবাসে।এখন শুধু সন্ধ্যার কবরের দিকে অবাক হয়ে চেয়ে রই।কারনটা জানি না।ও বেঁচে থাকলে হয়তো বলত,আর একবার বিড়ি খেয়েছিস কি,,,দাঁত ভেঙে দিব।আমার লেখাপড়া ফিউচার সব আজ নস্ট।ইন্টারে গোল্ডে পাওয়া ছাত্র আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।নিজের মেরুদন্ড কিভাবে শক্ত করব জানিনা।উপদেশ দেওয়ার আগ প্লিজ আমার অবস্থানটা ফিল করবেন।

আপনার ডক্টরের নিয়মতি পাঠকদের কাছে ভালো কোন পরামর্শ থাকলে দিয়ে সাহায্য করবেন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *