বায়ু দূষণ ও ফুসফুসের রোগ নিয়ে কিছু কথা

বায়ু তে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১ ভাগ। যদি কোনো কারণে এর ঘাটতি হয়ে অন্য গ্যাসের ঘনত্ব বা বালুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়, তবেই তাকে দূষিত বায়ু বলে। আগুন পরিবেশের অক্সিজেন নষ্ট করে ব্যাপক মাত্রায়। যানবাহন, কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে। হাইড্রোজেন সালফাইড, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি গ্যাসও ক্ষতিকর। আসুন জেনে নিই বায়ু দূষণের ফলে আমাদের কী ক্ষতি হয় এবং কী করলে এটা কমানো যায়।

বায়ুবায়ু দূষণ ও ফুসফুসের রোগ নিয়ে কিছু কথা

রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত যে ধুলাবালু উড়ছে, তা শ্বাসতন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে হাঁপানির উদ্রেক করে। শহরে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেশি। ধুলা এড়ানোর জন্য নাকে-মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে কিছুটা রক্ষা হয়, কিন্তু তারপরও ক্ষুদ্র কণা ঢোকে। যাঁরা ধূলিময় এলাকায় কাজ করেন, যেমন রাস্তা বা দালানের শ্রমিক, তাঁরা বিশেষ মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। শিল্পায়ন, নগরায়ণের ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজেরও। এটি দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ। ধূমপায়ীদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি। তাই ধূমপান—তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যা-ই হোক না কেন—অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এ ছাড়া কলকারখানার রাসায়নিক ফুসফুসের স্বাভাবিক কলাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে এবং শক্ত ও দানাদার করে তুলতে পারে। একে বলে ফাইব্রোসিস বা আইএলডি। শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এখনই।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দূষিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার-ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে ফুসফুসের প্রদাহ বাড়ছে।
বায়ু দূষণ কমাতে আমাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত। বিকল যানবাহন সারিয়ে নিন, এতে কেবল অন্যরা নয়, আপনার পরিবারও ঝুঁকিতে পড়ছে। দূষণজনিত রোগ থেকে সুস্থ থাকতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খান। ভিটামিন সি’র কার্যকারিতা ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকে না। তাই প্রতিদিন একটু হলেও লেবু, আমলকী, আনারস, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, কাঁচামরিচ, জলপাই, টমেটো, কমলালেবু ইত্যাদি গ্রহণ করুন।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সূত্র; প্রথম আলো

 

 

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *