শিশুদের কি চা পান করতে দেওয়া উচিৎ?

অনেক পরিবারেই শিশুদের চা পান করতে দেয়া হয়। বিশ্বাস করা হয় যে চা হজমে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, মৌসুমি রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। চায়ের উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু বড়দের মত ছোটরাও একইভাবে উপকৃত হবে ভাবলে ভুল করবেন। এমনকি অনেক বেশি দুধ যোগ করে অথবা বিস্কুটের সাথে পান করতে দিলেও শিশুর শরীরের উপর চায়ের ক্ষতিকর দিকগুলোকে আড়াল করা যাবে না। চা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর পানীয় নয় কেন তা বলেন ন্যাচারোপ্যাথিক নিউট্রোশনিস্ট ও “ডোন্ট জাস্ট ফিড….নারিশ ইয়োর চাইল্ড” বইটির লেখক ধাওয়ানি শাহ। আসুন তাহলে কারণগুলো জেনে নিই।

চা

চা বড়দের পানীয়। চায়ের উপাদান শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীলভাবে কাজ করে। চা পানে শিশুদের ক্যালসিয়ামের শোষণ ব্যাহত হয়। যার ফলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। নিয়মিত চা গ্রহণে শিশুর মস্তিষ্ক, পেশী, স্নায়ুতন্ত্র এবং বৃদ্ধি প্রভাবিত হয়। শিশুকাল থেকে চা পান করলে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা যায় তা হল-

– হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া

– শরীর ব্যথা বিশেষ করে নিম্নবাহুতে ব্যথা হওয়া

– মনোযোগের ঘাটতি যার ফলে বিরক্তি ও অন্যান্য আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়

– পেশীর শক্তি কমে যাওয়া

চায়ের সাথে বেশি দুধ মেশালে কি ভালো?

অনেক মা মনে করেন চায়ের সাথে বেশি দুধ মেশালে শিশুদের দুধ খাওয়ানো জন্য চাপাচাপি করতে হয়না এবং এর মাধ্যমে শিশুর ক্যালসিয়াম গ্রহণ চিশ্চিত করা যায়। কিন্তু তারা যেটি বুঝতে পারেন না সেটি হচ্ছে দুধের মধ্যে কয়েকফোঁটা চা মেশালে তা দুধের গুনাগুণ নষ্ট করে দেয়। দুধের প্রোটিন কেসিন চায়ের প্রোটিন ক্যাটেচিনের উপস্থিতিতে জটিল আকার ধারণ করে। এই জটিল উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের উপর আফিমের মত কাজ করে। যার ফলে চায়ের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। যেকোন বয়সের জন্যই আসক্তি ভালো কিছু নয়।

চায়ের সাথে বিস্কুট যোগ করলে কি স্বাস্থ্যকর খাবার হয়?

চায়ের সাথে বিস্কুট খাওয়া বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য খুবই মারাত্মক। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য দিনের প্রথম খাবারটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন যা শিশুর দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এজন্য রুটি বা পরোটা, ডিম, দুধ ও ফল খাওয়াতে হবে। বিস্কুট তৈরিতে অতিরিক্ত চিনি, স্বাদ ও সুগন্ধি সৃষ্টিকারী উপাদান, ইউরিয়া, অ্যাডিটিভস ও প্রিজারভেটিভ যুক্ত করা হয়। তাই সকালের নাশতায় চা-বিস্কুট খেলে তা শিশুর পেশী ও স্নায়ুর বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।

চায়ের ক্যাফেইন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন গাছের পাতা ও বীজ থেকে ক্যাফেইন তৈরি করা হয়। কৃত্রিমভাবেও ক্যাফেইন তৈরি করা যায় এবং বিভিন্ন খাবারে যোগ করা হয়। ক্যাফেইনকে ড্রাগ হিসেবেও সংজ্ঞায়িত করা হয় কারণ এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। অল্পমাত্রার ক্যাফেইন মানুষকে অনেক বেশি সতর্ক ও এনার্জেটিক করে তুলতে পারে। কিন্তু বেশি মাত্রার ক্যাফেইন শিশু ও বয়স্ক উভয়ের মাঝেই যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি করতে পারে তা হল – নার্ভাসনেস, পেটের অসুখ, মাথাব্যথা, মনোযোগের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বেরে যাওয়া ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি। তাই শিশুদের এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত রাখতে শিশু-কিশোরদের ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা সীমিত করুন বা বাদ দিন।

লিখেছেন-

সাবেরা খাতুন

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *