রমজান মাসে রূপচর্চা ও ত্বক এর যত্ন

প্রতিবার ঈদের দু-তিন দিন আগে তাড়াহুড়ো লেগে যায়। মনে হয়, এক মাস আগে থেকে কেন নিজের যত্ন নিলাম না। এবার যেন সে রকম পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, তাই ঈদের এক মাস আগে থেকেই যত্ন করুন। যদিও ঈদে শেষমুহূর্তে পারলারে ফেয়ার পলিশ, ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, ভ্রু প্লাক করার মতো কিছু কাজ থাকে। তবে ত্বক, চুলের অন্যান্য যত্ন এখন থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে নিলে ঈদের আগে সতেজ থাকবেন। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ পড়বে না। চুলের রুক্ষতাও দূর হয়ে যাবে।

 

ত্বকরমজান মাসে রূপচর্চা ও ত্বক এর যত্ন

জীবনযাপনে খাওয়ার অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজায় আমাদের ভাজাপোড়া খাওয়া শুরু হয়ে যায়। যার অনেকটাই প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘সারা দিন পানি পান করা হয় না। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অনেকের চুলও পড়ে যায়। ইফতারের পর পানি পান করতে হবে একটু পরপর। তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন। পরিবর্তে একটা-দুইটা খেজুর, শরবত, দই, ফলমূল খেতে পারেন। স্বাস্থ্যকর ইফতারি হলে ত্বকও ভালো থাকবে।’

ত্বক কে ময়েশ্চারাইজার করুন ক্রিম দিয়ে। ঘুমানোর আগে চাইলে ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে এ সময় বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি থাকেই। আপেল, কলা, বেদানা, পাকা পেঁপে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তৈলাক্ত ত্বক হলে এগুলোর সঙ্গে শসা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। কাচের বয়ামে করে ফ্রিজে রাখুন। মুখে লাগানোর আগে মিশিয়ে নিন বেসন অথবা চালের গুঁড়া। শুষ্ক ত্বকের জন্য শসার পরিবর্তে গাজর দিন। ভালো কাজ করবে কলা ও পেঁপেও। নিয়মিতভাবে ত্বকে ব্যবহারে লোমকূপ পরিষ্কার হবে। ত্বক ভালো ও উজ্জ্বল হবে। ক্লান্তি অনেক সময় চোখের নিচেও কালো হয়ে ফুটে থাকে। মাঝেমধ্যেই আলু, টমেটো ও শসার রস লাগিয়ে রাখুন এই অংশে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পানি কম খাওয়া—এগুলো প্রভাব ফেলে চুলের ওপর। সপ্তাহে দু-তিন দিন চুলে তেল মালিশ করুন। এতে করে রক্ত চলাচল ভালো হবে। কোনো দিন চাইলে লাগাতে পারেন টক দই অথবা কলা। কিছুক্ষণ রেখে চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। আয়ুর্বেদ রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘ভাতের পরিবর্তে চিড়া, খই, মুড়ি, কর্নফ্লেক্স, দুধ বা খেজুর খেলে ভালো হয়। ইফতারিতে তাজা ফল, টক দই অথবা দুধ মিশিয়ে শরবত তৈরি করা যেতে পারে। এতে শক্তি পাবেন। এ ছাড়া ফলের সালাদ, দই-চিড়া হতে পারে। এই মৌসুমে পাকা আম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন স্বাদের ডেজার্ট খাওয়া যায়। ইফতারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া উচিত নয়। ১০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন।’

এ সময় ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। শুষ্ক ত্বকের যত্নে যা করতে পারেন—
* তরমুজ, টক দই, চন্দন, ঘৃতকুমারী একসঙ্গে প্যাক করে লাগালে ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে। এ ছাড়া বরফ, ঘৃতকুমারী, নিম তেল ও চন্দন লাগালে উপকার পাবেন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য—
* টমেটো, মধু, নিম পাতা, মসুরের ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে লাগাতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে। এ ছাড়া শসার রস, সয়াবিন, মধু, আঙুরের রস লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তৈলাক্ত ভাব কমে।
মিশ্র ত্বক গরমে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে এবং মুখের চামড়া উঠতে থাকে। মিশ্র ত্বকের জন্য যা করতে হবে—
* কচি ডাবের শ্বাস, কমলার রস, বেসন ও কালো জিরার তেল প্যাক করে লাগাতে পারেন। এতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। এ ছাড়া পাকা পেঁপে, চকলেট, চন্দন ও হলুদের প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ ও টান টান হবে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *