কেন আমাদের জেনারেশন, বাবা-মায়েরটা বোরিং

“আজকালকার” ছেলেমেয়েদের কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়াটা বাবা-মায়ের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। এ জেনারেশন এর সব খারাপ। সভ্যতা জানে না। উশৃঙ্খল। বেপরোয়া। সবচেয়ে আক্ষেপের জায়গা, কারোর কথা শোনে না।

জেনারেশন

কেন আমাদের জেনারেশন, বাবা-মায়েরটা বোরিং

বাবা-মায়ের আগের প্রজন্মের লোকজনেরও এমনই অভিযোগ ছিল। তাঁরাও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে এমনটাই ভাবতেন। এটা আসলে প্রজন্মের শূন্যস্থানের সমস্যা। যাকে ইংলিশে বলে, জেনারেশন গ্যাপ। কিন্তু এ জেনারেশন যতই পাতে দেওয়ার অযোগ্য হোক, যতই বেয়াড়া হোক, তা কিন্তু অনেকবেশি বিন্দাস। চলুন জেনে নিই, জেন প্রেজ়েন্ট কেন এত কুল…

১.জীবনটা আমার, ক্যারিয়ারটাও আমার
– যতই বাবা-মা নিজেদের অপরিপূর্ণ স্বাদ-আহ্লাদ আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, আমরা আমাদের মতোই। যেটা ভাবি, সেটাই করি। ডাক্তার হব না পেইন্টার, সেটাও আমাদের চয়েস।

২.জীবনসঙ্গী খুঁজি আমরাই
– জানা নেই কোথা থেকে এত জোর আসে। এ জেনারেশন কিন্তু বাবা-মায়ের মুখের উপর কথা কাউকে নাকচ করার হিম্মত রাখে। অমুক মেয়েকে বিয়ে করব না বলে দিতে পারে। বা বলে দিতে পারে, বিয়েফিরে পরে হবে, এখন ক্যারিয়ার গোছানোর সময়। নিজের জীবনসঙ্গী নিজেই বেছে নেয়। আগের জেনারেশনের কথা ভেবে দেখুন একবার। ছিল আমাদের মা-মাসিদের এত ধক? ২৩ বছর হল কী হল না, বাবা যে পাত্র খুঁজে এনে দিয়েছেন, করে তাঁর গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বাকি জীবনটা হেঁশেলেই কেটে গেছে।

৩. স্বামী-স্ত্রী হওয়ার আগে তাঁরা ভালো বন্ধু
– পতি পরমেশ্বর, এ ধারণা এ যুগে নেই। মায়ের জন্য দাসি আনার যুগ এটা নয়। পাত্র মনের মতো সহধর্মিনীকে খোঁজেন। পাত্রী খোঁজেন স্বামীর রূপে বন্ধু। নট পরমেশ্বর।

৪.টাকাপয়সার চিন্তা নেই
– বাবাদের জেনারেশনে যেমন চাকরির একটা আকাল ছিল, সেটা এ যুগে নেই। অনেক অপশন। পার্ট টাইম, ফুল টাইম, ইনটার্নশিপ – অনেককিছু। আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন পড়তে পড়তেই টাকা রোজগার করতে শুরু করে দেয় ছেলেমেয়েরা।

৫. লোকে কী বলল, কী এসে যায়
– এই অ্যাটিটিউড বোধহয় এ জেনারেশনেই প্রকট। এ জেনারেশন বিশ্বাস করে, জীবন একটাই। যা করার এ জীবনেই করে ফেলতে হবে। তাই লোকে কে কী ভাবল, কেয়ার করে না। নিজের ইচ্ছে মতো সব কাজ করে। সেই কারণেই বাবা-মা বেহায়া বলে তাঁদের।

৬. অফিস কাছারিতে কলেজের মতো পরিবেশ
– এ জেনারেশনের অফিসও দারুণ কুল। যে অফিসে ইয়ং ছেলেমেয়ের ভিড় বেশি, সেখানকার কাজের পরিবেশও বেশি হাসিখুশি। এ জেনারেশন মনে করে হাসিমজা করে কাজ করলে সেই কাজটাকে ভালো লাগে অনেকবেশি। অফিসটা গম্ভীর জায়গা, এ খেয়াল মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে তাঁরা।

৭. বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এখন কোনও ব্যাপার নয়
– ছেলেমেয়ে একসঙ্গে গোয়া চলে গেছে, এমনটা আগের জেনারেশন ভাবতেই পারেনি। কিন্তু এমন ঘটনা এখন কোনও ব্যাপারই নয়। অধিকাংশ ছেলেমেয়েই স্বনির্ভর, নিজে রোজগার করে। নিজের দায়িত্বে বেরিয়ে আসে জগৎসংসার। কখনও একা, কখনও বন্ধুর সঙ্গে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *