গাজরের উপকারিতা

গাজরের উপকারিতা অনেক। গাজর অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি, যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। তরকারি ও সালাদ হিসেবে গাজর খাওয়া যায়। এ ছাড়া গাজর দিয়ে অনেক সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

গাজরের উপকারিতা

তবে রান্না করে খাওয়ার চেয়ে গাজর কাঁচা খাওয়া বেশি ভালো। কারণ এতে পুষ্টির অপচয় কম হয়। আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টলের পক্ষ থেকে নিচে গাজরের উপকারিতা ও গাজর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলোঃ
গাজরের পুষ্টিতথ্যঃ
১০০ গ্রাম (এক কাপ) পরিমাণ গাজর ( Carrot) থেকে ৮২৮৫ মাইক্রোগ্রাম বিটাক্যারোটিন এবং ১৬৭০৬ ওট ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৪১ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি, ২.৮ গ্রাম খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ‘বি-১’ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘বি-২’ ০.০৫ মিলিগ্রাম; ২.২ মিলিগ্রাম লৌহ, ৫.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১৩.২ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘কে’, ১৯ মাইক্রোগ্রাম ফলেট, ৩২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৩৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।

গাজরের উপকারিতা জনতে হলে আগে জানতে হবে গাজরের স্বাস্থ্যতথ্যঃ
* গাজরের বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়ে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবেও কাজ করে।
* গবেষণায় দেখা গেছে, গাজরে বিদ্যমান ফ্যালক্যারিনল ও ফ্যালক্যারিডিওল ফুসফুস ও অন্ত্রের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* গাজরের আলফা ক্যারোটিন ও লুটিন নামক উপাদান হৃদরোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
* গাজর (Carrot) থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন-‘এ’ রক্তের ক্ষতিকর টঙ্কি উপাদানগুলো দেহ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
* গাজর শ্বাসনালির প্রদাহ নিরাময় করে।
* গাজর দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা রক্ষা করে।
* গর্ভবতী মায়েরা গাজরের রস খেলে শিশুর জন্ডিস হওয়ার ঝুঁকি কমে।
* এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
* গাজর শরীরের যেকোনো ক্ষত নিরাময় করে। গাজরের পাতা মধুর সঙ্গে মিলিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
* গাজরের স্যুপ ডায়রিয়া রোগে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
* গাজর কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে।
* গাজরের সঙ্গে কয়েক কোয়া রসুন মিশিয়ে খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পড়ুন  আম খেলে মানুষ মোটা হয়?

 

গাজরের উপকারিতা সৌন্দর্য চার্চার ক্ষেত্রেও অতুলনীয় সৌন্দর্য রক্ষায় গাজরঃ
* গবেষণায় পাওয়া গেছে, গাজরে ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক পদার্থ রয়েছে। এ উপাদানটি ত্বকের কোষ পরিষ্কার করে ত্বককে করে তোলে আকর্ষণীয়।
* ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে গাজর কার্যকরী।
* গাজর চুল, ত্বক ও নখের সৌন্দর্য রক্ষা করে।
* এটি ত্বকের ভাঁজ, খসখসে ভাব ও ব্রণ দূর করে।
* গাজরের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকের প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

 

গাজরের উপকারিতা জনলেন এবার এটির সতর্কতা জেনে নিনঃ
যাঁরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের জন্য গাজরের রস সেবনে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ  গাজরের উপকারিতার বদলে এতে যকৃতে toxic উপাদান তৈরি হতে পারে। তাই সকাল ও রাতে খাওয়ার পর এবং ওষুধ সেবনের দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর গাজর খাওয়া ভালো।
প্রভাষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
পুষ্টিবিদ, ডায়েট সল্যুশন

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.