জেনেনিন কৈশোরের বিশেষ রূপচর্চা ও ত্বক এর যত্ন

বয়ঃসন্ধিতে হরমোনজনিত কারণে কিশোর-কিশোরীদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলে। এ সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার ফলে খাওয়াদাওয়া ও ঘুমেরও বেশ অনিয়ম ঘটে। এই সময় কীভাবে তারা নিজেদের যত্ন নেবে সেই পরামর্শই দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নী।

কৈশোরে ত্বক ও চুলের সমস্যা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, বেশিরভাগ সমস্যা এমনিতেই সেরে যায়।

এই বয়সে অনেকটা সময় বাড়ির বাইরে থাকার ফলে ঘাম ও ধুলাবালিতে চুল ও ত্বকের বেশ ক্ষতি হয়। ত্বকে রোদে পোড়া ভাব, চুল আঠা আঠা হওয়া ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, মুখে ব্রন ও ব্ল্যাকহেডস উঁকি দেওয়া—কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের খুবই সাধারণ কিছু সমস্যা। এ নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, বললেন ফারজানা মুন্নী। তাঁর মতে, এই বয়সে অনেকে মা-বাবা অথবা বড় ভাইবোনের সৌন্দর্যসামগ্রী ব্যবহার করে। এতে বরং ত্বক ও চুলের ক্ষতিই হয়। তাদের ত্বক যে এখনো অতটা পরিপক্বতা লাভ করেনি, সেটি তাদের বুঝতে হবে।
কৈশোরে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার উপায় বলে দিলেন তিনি। বাইরে থেকে এসে প্রথমেই ক্লেনজার ও ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। গোসলের ৪০ মিনিট আগে গোড়াসহ পুরো চুলে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তেল লাগাতে হবে। মোটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে তা ১০ মিনিট মাথায় পেঁচিয়ে রেখে ভালোমতো শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

ত্বক

জেনেনিন কৈশোরের বিশেষ রূপচর্চা ও ত্বক এর যত্ন

মুখে ব্রন দেখা দিলে মোটেও তা হাত দিয়ে খোঁটাখুঁটি করা চলবে না। হাত ও নখের জীবাণু ঢুকে ব্রন আরও বাড়বে আর রেখে যাবে স্থায়ী দাগ। নতুন ব্রন উঠলে একটি-দুটি লবঙ্গ থেঁতলে নিয়ে সেখানে লাগিয়ে রাখলে ব্রন কমে যাবে। প্রথমে একটু জ্বলবে, এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি জীবাণু বিনাশে সহায়ক।
হোয়াইট হেডস ও ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দুই দিন ফেস স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে, রোজ নয়। তবে মুখে ব্রন থাকাকালে এটি মুখে লাগানো যাবে না। অতিরিক্ত ব্রন উঠতে থাকলে অভিজ্ঞ কোনো রূপবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ফেসপ্যাক বেছে নিতে হবে। নিম ও কাঁচা হলুদ বাটা ব্রন সারাতে খুব ভালো কাজ করে। তবে ত্বকে মানিয়ে না গেলে তা ব্যবহার করা উচিত হবে না। সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারীরা লেবুর রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানি ও বেকিং সোডা মিশিয়েও মুখে লাগাতে পারেন। শশা ও গাজর কুচি এবং পেঁপের রসও ত্বককে সুন্দর রাখে।
রাত জাগার কারণে চোখের কোল ঘেঁষে কালি পড়লে আলু ছেঁচে অথবা শশা কুচি করে চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। চুলের রুক্ষতা দূর করতে পাকা কলা, মধু ও তেল অথবা টকদই ও মেথি গুঁড়ার মিশ্রণ ভালো। সব সময় বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে মুখে ও গলায় সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া টমেটোর রস রোদে পোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
কিছু পরামর্শ
যেকোনো প্রসাধনী বা প্যাক ব্যবহারের আগে নিজের চুল ও ত্বকের ধরন বুঝে বাছাই করতে হবে।
বাজারে এখন কিশোর-কিশোরীদের জন্য আলাদা কিছু প্রসাধনী পাওয়া যাচ্ছে। ভালো মনে হলে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
চুলে বা ত্বকে কোনো প্যাক ২০ মিনিটের বেশি রাখা চলবে না।
সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন লাগানোর পর ত্বকে চটচটে ভাব হলে হালকা পাউডার পাফ করে নিতে পারেন।
ইদানীং পারলারগুলোতে ভেষজ উপাদান দিয়ে ফেস ক্লিনিং করানো হয় যা টিনদের উপযোগী। মাসে একবার এটি করা যেতে পারে।
কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। তাই রূপচর্চাও করতে হবে পড়াশোনার ফাঁকে সপ্তাহে দুই বা এক দিন।
না জেনে-বুঝে কোনো প্রসাধনী বা সৌন্দর্যসামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
অনেক রাত জেগে পড়াশোনা, ফেসবুকিং, টিভি দেখার অভ্যাস বাদ দিতে হবে।
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *