স্ত্রীর বিরুদ্ধে পুরুষের ডিভোর্স ফাইল করার কিছু অদ্ভুত কারণ

কিছুদিন আগেই এ দেশের এক পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন এই যুক্তিতে, যে তাঁর স্ত্রীর গায়ের রং কালো। সামনাসামনি দেখা করে নয়। কপিশপে বসেও নয়। ই-মেলে তালাক দেন সেই স্বামী। ত্বকের রঙের কারণে ডিভোর্স হওয়া এ দেশে সত্যিই আশ্চর্যের। সচরাচর শোনা যায় না এমন ঘটনার কথা। কেননা, এত তুচ্ছ কারণে ডিভোর্স হয় না এখানে। এমনটাই মনে করা হত এতকাল। কিন্তু কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ দেশেও খুব তুচ্ছ কারণে ডিভোর্স ফাইল করেন স্বামীরা। সেগুলি কীরকম জেনে নেওয়া যাক –ডিভোর্স

ডিভোর্স

ব্রণ থাকলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব
– মুখের ব্রণর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কোথায় যোগ, সেটা বের করা গেল না। কিন্তু এই কারণেও ডিভোর্স হয়েছে এ দেশে। আইনজীবী শিল্পী জৈন জানান, তাঁর মক্কেল নাকি ব্রণর কারণে কোনওদিনই স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। এই ব্রণই নাকি স্ত্রীকে তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হতে দেয়নি। ফলে যৌনসম্পর্ক না হওয়ায় ও বাচ্চাকাচ্চা না হওয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীকে ছেড়ে দেবেম। অতএব ডিভোর্স!

স্ত্রী মোটা, অফিস পার্টিতে নিয়ে যাওয়া যায় না
– জিসকি বিবি মোটি উসকা ভি বড়া নাম হ্যা… অভিতামের ঠোঁটে লাওয়ারিস ছবির এই গানের মর্ম বোঝেননি মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির এক এগজ়িকিউটিভ অফিসার। স্ত্রী অতিরিক্ত মোটা বলে ডিভোর্স ফাইল করেছেন। সুরাজপুর কোর্টের আইনজীবী ধরমপাল সিং জানিয়েছেন, সেই এগজ়িকিউটিভ মহাশয় ভালোই রোজগার করতেন। উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। ফলে নানা ধরনের অফিস পার্টিতে যেতে হত তাঁকে। সঙ্গে স্ত্রীরও নিমন্ত্রণ থাকত পার্টিগুলোয়। স্ত্রী মোটা বলে একাধিকবার হাসাহাসির খোরাক হতে হয়েছে সেই অফিসারকে। স্ত্রীর ওজন কমানোর জন্য অনেক পয়সাও খরচ করেছেন তিনি। কিছুতেই কিছু লাভ হয়নি। শেষমেশ ডিভোর্স দেন স্ত্রীকে।

স্বামীর পছন্দ মোদিকে, স্ত্রী কেজরিওয়ালের ফ্যান

– স্বামী স্ত্রীর রাজনৈতিক পক্ষপাত যে বিবাহ ভাঙনের কারণ হতে পারে বলে, এর আগে কেউ শোনেনি। কিন্তু একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজ়িয়াবাদের আইনজীবী নরেশ কুমার জানিয়েছেন, “এক দম্পতির বিয়ে হয় ২০১৩ সালে। সম্বন্ধ করে বিয়ে। পাত্র-পাত্রী দু-জনেই আইটিতে চাকুরিরত। বয়স কুড়ির কোঠায়। দু-জনেই প্রথমে স্বীকার করেন তাঁদের মধ্যে ভাবভালোবাসার খামতি ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে মতোবিরোধ দেখা দিতে শুরু করে। স্বামী মোদিকে ভোট দেবেন। স্ত্রীর পছন্দ আম আদমি পার্টি ও কেজরিওয়াল। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু গোল বাঁধে মোদির জয়ের পর। স্বামী ইচ্ছে করে স্ত্রীকে খোটা দিতে থাকেন। আম আদমি পার্টি হেরে যাওয়ায় কথা শোনাতে ত্রুটি রাখেন না। পার্টির অসম্মানে অসম্মানিত হয়ে স্ত্রীর মাথাও তখন গরম। তারপর জল গড়ায় অনেক দূর। শেষে সেই স্বামী ডিভোর্স ফাইল করে। বুঝুন!”

স্ত্রী রোম্যান্টিক সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন না
– সাধারণত দেখা যায় মেয়েরাই প্যানপ্যানে রোম্যান্টিক সিনেমার ভক্ত হয় বেশি। কিন্তু এই কেসে ব্যাপারটা তেমন নয়। স্বামী চাইতেন তাঁর স্ত্রী তাঁর পাশে বসে রোম্যান্টিক ছবি দেখবেন। কিন্তু বারংবার কাকুতিমিনতির পরও স্ত্রীকে রাজি করাতে পারেননি। এমনকী, তাঁর সঙ্গে স্ত্রীর প্রিয় নায়কও ম্যাচ করত না। এই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ডিভোর্স করেন নয়ডার এক পুরুষ। অজুহাত দেন, এতেই নাকি তিনি বুঝেছেন সম্পর্কে কোনও কম্প্যাটিবিলিটি বা সংগতি নেই। এই ঘটনা দেখে মাথায় হাত পড়েছিল স্ত্রীর আইনজীবী নরেশ কুমারের মাথায়।

পার্টিতে স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে নাচেন
– দুটি উচ্চ পরিবারের নারী ও পুরুষ। দু-জনের বিয়ে হয় জাঁকজমক করে। নয়ডায় থাকতেন তাঁরা। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সমস্যার শুরু। স্ত্রী স্বাধীনচেতা মানসিকতার মেয়ে। পার্টি করেন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা করেন। স্বামীর তা পছন্দ ছিল না। এসব করতে বারণ করতেন স্ত্রীকে। কিন্তু স্ত্রী কোনও বারণই শোনেননি। পার্টিতে অন্য পুরুষের সঙ্গে নাচতেন। সেটাই সহ্য করতে পারেননি স্বামী। বিশ্বাসঘাতকতার জেরে ডিভোর্স ফাইল করেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সঙ্গে এটাও বলেন, স্ত্রীর কোনও পরকীয়া সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু যেহেতু বিয়ের পরও তিনি পার্টিতে গিয়ে পরপুরুষের সঙ্গে নাচের তালে তাল মিলিয়েছেন, তাই সেটা নাকি পরকীয়ারই সামিল। ভাবুন, কী বিচার!

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *