চুলকানির সমস্যার সমাধান কী.?

স্কেবিস রোগ যা চুলকানি নামে পরিচিত একটি মারাত্বক ছোঁয়াচে চর্ম রোগ। এর অন্যান্য স্থানীয় নামগুলো হলো খোস-পাচড়া, দাদ, বিখাউজ। স্পর্শের মাধ্যমে সাধারণত এ রোগ হয়। তাছাড়া রোগীর ব্যবহৃত কাপড় গামছা, বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে এ রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে ৷ এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয়, এর নাম হলো স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই।এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতের বেলা চুলকানির তীব্রতা আরও বাড়ে।

চুলকানি

চুলকানির সমস্যার

গোপনাঙ্গের চারপাশে এবং দুই উরুর মাঝখানে অনেক চুলকানি। চুলকালে আবার ঘা এর মতো হয়ে যায়। চুলকানি কেন হয় এবং এ থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় কি?

 

চুলকানির সমস্যার সমাধান :

আপেল সিডার ভিনেগার

চুলকানি সারানোর একটি সহজ উপায় হলো আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার। সামান্য কয়েক ফোঁটা ভিনেগার একটি তুলার বলে নিয়ে আপনার শরীরের চুলকানো অংশটিতে লাগিয়ে দিন। দ্রুত চুলকানি কমে যাবে।

পেট্রোলিয়াম জেলি

আপনার ত্বক যদি হয় সংবেদনশীল হয় তাহলে পেট্রোলিয়াম জেলি হচ্ছে চুলকানি সারানোর সবচেয়ে উত্তম উপায়। পেট্রোলিয়াম জেলিতে কোন ক্ষতিকারক উপাদান না থাকায় এটি আপনার ত্বকের কোন সমস্যা না করেই চুলকানি সাড়িয়ে তুলবে।

নারিকেল তেল

চুলকানি সারানোর আরও একটি সহজ ও সস্তা উপায় হচ্ছে নারিকেল তেল লাগানো। নারিকেল তেলের পুষ্টি উপাদান আপনার ত্বকের কোন ক্ষতি সাধন না করেই চুলকানি বন্ধ করতে সাহায্য করবে।

লেবু

লেবুর ভিটামিন সি কন্টেন্ট ও ব্লিচিং প্রোপার্টিজ ত্বকের চুলকানি সারাতে খুব কার্যকরী। শরীরে চুলকানি হলে একটি লেবু দুভাগে কেটে আপনার চুলকানি জায়গায় লাগান এবং শুকিয়ে ফেলুন। এতেই চুলকানি কমে যাবে।

বেকিং সোডা

এক ভাগ পানি ও তিন ভাগ বেকিং সোডা মিলিয়ে পেস্ট বানিয়ে সেই পেস্ট যদি আপনার শরীরের চুলকানি জায়গায় লাগান তাহলে চুলকানি থেমে যাবে। আর এতে আপনার শরীরে কোন সমস্যা ও হবে না।

তুলসী

তুলসী পাতা চুলকানি প্রতিরোধকারী উপাদানে ভরপুর। তাই শরীরে চুলকানি হলে তুলসী পাতা তুলে আক্রান্ত জায়গায় লাগাতে পারেন। আবার তুলসী পাতা চা আকারে জ্বালিয়ে সেই লিকার নরম কাপড় বা তুলার বলে লাগিয়ে চুলকানি স্থানে লাগালে চুলকানি সেরে যায়।

অ্যালোভেরা

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। চুলকানি প্রতিকারেও অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি হচ্ছে সেখানে একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে রস বের করে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

চুলকানির সমস্যার সমাধানে আরো কয়েকটি উপায়ঃ

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা চুলকানি প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী। গোসলের সময়ে হালকা গরম পানিতে বেকিং সোডা দিয়ে গোসল করলে শরীরের চুলকানি অনেকটাই কমে যায়। এক্ষেত্রে একটি চৌবাচ্চাতে ১ কাপ বেকিং সোডা মেশাতে হবে এবং বড় এক বালতি পানিতে ১/২ কাপ বেকিং সোডা মেশাতে হবে। বেকিং সোডা মেশানো পানিতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট শরীর ভিজিয়ে রাখার পর শরীর পানি দিয়ে না ধুয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে।

লেবু

লেবুর রসে আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। চুলকানির প্রতিকার পাওয়ার জন্য লেবুর রস ব্যবহার করাও খুব সহজ। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি অনুভূত হচ্ছে সেখানে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

তুলসী পাতা

তুলসী পাতায় আছে ইউজেনল যা একটি অ্যান্সথেটিক উপাদান। এই উপাদানটি চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়ক। এক মগ ফুটন্ত পানিতে ১৫/২০টি তুলসী পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস বের করে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার টাওয়েলে পানিটি লাগিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই চুলকানির স্থানে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ আরাম অনুভূত হবে।

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতারও আছে অ্যান্সথেটিক ও ইনফ্লেমেটরি উপাদান। চুলকানির প্রতিসেধক হিসেবে তাই পুদিনা পাতাও অত্যন্ত উপকারী। এক মগ ফুটন্ত পানিতে এক আউন্স পুদিনা পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস তৈরি করে নিন। এরপর এই পানিটি চুলকানির স্থানে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

অ্যালোভেরা

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। চুলকানি প্রতিকারেও অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি হচ্ছে সেখানে একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে রস বের করে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

চুলকানির সমস্যা হল ত্বকের অ্যালার্জিজনিত একটি সমস্যা। এর থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

লেবুর ব্যবহার

লেবুর অ্যারোমেটিক যৌগের রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যানেস্থেটিক উপাদান যা ত্বকের চুলকানি ও জ্বালাময় অনুভূতি দূর করতে সহায়তা করে। লেবুর রস সরাসরি চুলকানির স্থানে লাগালে অনেক ভালো উপকার পেয়ে যাবেন। তবে যদি লেবুতে ত্বকের অ্যালার্জি থাকে তাহলে সরাসরি লেবু ব্যবহার করবেন না।

বেকিং সোডার ব্যবহার

৩:১ অনুপাতে বেকিং সোডা ও পানির মিশ্রন তৈরি করে পেস্টের মতো বানিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। অনেকটা আরাম পাবেন এবং চুলকানির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তবে ত্বকে কোনো ধরণের ক্ষত থাকলে তার উপরে বেকিং সোডা লাগাবেন না।

মধু ও দারুচিনির ব্যবহার

সমপরিমাণ দারুচিনির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানে ভালো করে লাগিয়ে নিন। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন অথবা আপনার চুলকানির অনুভূতি দূর হওয়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

নারীর গোপন অঙ্গে চুলকানি হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

নিমপাতার ব্যবহার

২ লিটার পানিতে ২০-২৫ টি নিমপাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন নিমপাতা ফুটানো পানি। এই পানি গোসলের সময় গায়ে ব্যবহার করতে পারেন অথবা ফ্রিজে বরফ জমিয়ে বরফ দিয়ে আক্রান্ত স্থান ঘষে নিতে পারেন। ভালো ফলাফল পাবেন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *