তারকাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ হয় যে কারণে হয়

তারকাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ হয় যে কারণে হয়

অনেক ক্ষেত্রে তারকাদের সম্পর্কে র মেয়াদ যেন পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদের চেয়েও ক্ষণস্থায়ী! কিছু কিছু সময় বিচ্ছেদটা যেন অলিখিতভাবে অবধারিতই হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় বিচ্ছেদের খবরটা এমনই আকস্মিক হয় যে তাতে দুই পক্ষের যতটা কষ্ট, ভক্তকুলের দুঃখ যেন কিছুটা বেশিই থাকে তাতে। বলিউড ও হলিউডের এমন চার তারকা জুটির সম্পর্কে র বিচ্ছেদের কথা আজ এখানে দেওয়া হলো, যা গোটা বিশ্বকেই হতবাক করে দিয়েছে।

জাস্টিন বিবার ও সেলেনা গোমেজ
দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিলের জায়গাটা বোধ হয় সংগীত। তাঁরা দুজনই জনপ্রিয় গায়ক। আর সবচেয়ে বড় অমিল?সম্পর্কে

এখন বললে সেটা হবে মন। মাস কয়েক আগেও মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে তাঁদের একসঙ্গেই দেখা যেত। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো যেন তাঁরা দুজনই মাতিয়ে রাখতেন। আর এখন? বিবারের যেন দেবদাস দশা। সেলেনার পরিণতি অবশ্য তেমন কিছু না। তাঁকে প্রায়ই আজ এর সঙ্গে তো কাল অন্যজনের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। দুজনই অবশ্য এখনো সেই ইনস্টাগ্রাম-কেন্দ্রিক। তবে বিচ্ছেদের পর এক সাক্ষাৎকারে সেলেনা জানান, বয়সে ছোট এমন কারও সঙ্গে তিনি আর সম্পর্কে জড়াতে চান না। তবে কি বিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার এটাই ছিল কারণ?

বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা
গত কয়েক মাসের পত্রিকার পাতায় খেলার খবরের চেয়ে বিনোদন সংবাদের শিরোনাম বেশি হয়েছেন ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কারণটাও পরিষ্কার। বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শর্মার সঙ্গে তাঁর খুব প্রেম ছিল। সম্পর্কটাও খুব মধুর ছিল।

সম্পর্কে

খেলার মাঠে নিজের সাফল্যে গ্যালারিতে বসা পছন্দের মানুষটির দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিতেও দেখা গেছে কোহলিকে। সেই কোহলির এখন বেহালদশা, শোকে পাথর অবস্থা। তাঁর সময় কাটছে আনুশকা শর্মার সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর কথা ভেবে ভেবে। কারণ, তাঁদের বিচ্ছেদটা যে সাম্প্রতিকতম! এ নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি কেউই। তবে সমালোচকদের ভাষ্য, কোহলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা হয়তো আনুশকার উন্নতির পথে কোনো বাধা। গত বছরের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোহলি যখনই মাঠে খারাপ খেলতেন, তখনও অনেক সমালোচক দোষটা চাপাতেন আনুশকার ঘাড়ে। এটাও বিচ্ছেদের একটা কারণ হতে পারে।

হৃতিক রোশন ও সুজানা খান
বলিউডের শক্তিশালী জুটি হিসেবে হৃতিক রোশন আর সুজানা খানের নাম আলোচনায় ছিল অনেক দিন। মুম্বাইয়ের আদালতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে সে সম্পর্কে রই বিচ্ছেদ হয়। শব্দটা ‘পারস্পরিক’ লিখলেও এই বিচ্ছেদে তাঁদের হৃদয়ের ক্ষতটা কতখানি, তা শুধু তাঁরাই সম্পর্কেজানেন। দুই পক্ষের পরিবার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল তাঁদের সে বিচ্ছেদ ঠেকাতে, কিন্তু ব্যাপারটা যেন একরকম অবধারিতই ছিল।

১৭ বছরের সম্পর্কে র ইতি টানার সময় হৃতিক লিখেছিলেন, ‘আমাদের এবার কিছুটা সময় একা থাকতে দিন।’ টুইটার বার্তায় আরও বলেছিলেন, বিচ্ছেদ চায় সুজানা, তিনি নন। এদিকে সমালোচকদের কথা যদি ঠিক থাকে, তবে মূল কারণটা হয় শুধুই প্রচারের জন্য, নয়তো সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন হৃতিক।

ব্র্যাড পিট ও জেনিফার অ্যানিস্টোন
‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ জুটির আগে-পরে যে কিছু ছিল বা থাকতে পারে, এটাই এখন ধারণার বাইরে। তাঁদের সম্পর্কে র রসায়নটা এমনই মধুর। এ কথাগুলোই কিন্তু একসময় সংবাদের শিরোনামে থাকত, শুধু অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বদলে নাম ছিল জেনিফার অ্যানিস্টোনের।

সম্পর্কে মি. অ্যান্ড মিসেস স্মিথ ছবির সেটে জোলির সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে তাঁদের জুটি নিয়েই আলোচনা হতো বেশি। মজার ব্যাপার, আজ এত বছর পরেও তাঁদের সে জুটি নিয়ে আলোচনা কম হয় না। ২০০৫ সালের সে আলোচিত বিচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে জেনিফার পরবর্তীকালে বলেছিলেন, ‘কেউ কোনো ভুল করিনি। এত দিন পর এসে আমরা একে অপরের জন্য শুধু শুভকামনা জানাতে পারি।’ সঙ্গে এটাও বলেন যে সম্পর্কটি না টেকার পেছনে কারও দোষ ছিল না। সে যা-ই বলুক, জোলির সঙ্গে পিটের সখ্য যখন দিন দিন বাড়তে থাকে, বউ হিসেবে অ্যানিস্টোন তা মেনে নেবেন কেন?

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *