হৃৎপিণ্ডের পরিচিতি ও চিকিৎসা

হৃৎপিণ্ডের পরিচিতি ॥
করোনারি হৃদরোগ ও এর কারণ
মানবদেহ স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি। মহাবিশ্বে এত চমৎকার, এত বুদ্ধিমান, এত সৃজনশীল, এত সংবেদনশীল আর কোনো সৃষ্টির অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। আমাদের এ দেহেরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে হৃৎপিণ্ড। বুকের মাঝখানে দুই ফুসফুসের মাঝে এটি অবস্থি ত।
হৃৎপিন্ডের : গঠন ও কাজ
হৃৎপিণ্ডের গঠনের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এর রয়েছে চারটি প্রকোষ্ঠ। ওপরের দুটিকে বলা হয় অ্যাট্রিয়াম বা অলিন্দ এবং নিচের দুটিকে বলা হয় ভেন্ট্রিকল বা নিলয়। আর হৃৎপিণ্ড তার চারপাশে পেরিকার্ডিয়াম নামক একটি আবরণী দ্বারা পরিবেষ্টিত।

হৃৎপিণ্ডের
হৃৎপিণ্ডকে আমরা বলতে পারি, এটি একটি পাম্প যা একজন মানুষের
জীবদ্দশায় প্রায় সাড়ে চার কোটি গ্যালনের চেয়ে বেশি রক্ত পাম্প করে থাকে। প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষবার হৃৎস্পন্দনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড দেহের প্রতিটি কোষে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে। আর এটি সম্ভব হচ্ছে ধমনী শিরা উপশিরা ও ছোট ছোট রক্তনালী মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মাইল পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ মনে করেন, হৃদয় আর হৃৎপিণ্ড একই জিনিস; কিন্তু আসলে তা নয়। হৃৎপিণ্ড সম্পর্কে বলা যায়, এটি একটি মাংসপিণ্ড আর হৃদয় হচ্ছে একটি চেতনাগত অস্তিত্ব-যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না; তবে এটি আমাদের অনুভূতিতে সাড়া দেয় ও প্রভাবিত হয়।
হৃৎপিণ্ড আর হৃদয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং হৃদয় দ্বারা হৃৎপিণ্ড দারুণভাবে প্রভাবিত হয়। বইয়ের পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানবো।

Loading...

আমরা জেনেছি, পাম্প করে সারা শরীরে রক্ত পাঠানোই হৃৎপিণ্ডের অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, হৃৎপিণ্ডের নিজের কোষ ও পেশিগুলোর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং কর্মক্ষম থাকার জন্যেও দরকার পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি। এ পুষ্টি পৌঁছে দেয়ার কাজটি সাধিত হয় রক্তের মাধ্যমে।
হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে করোনারি ধমনী। হৃৎপিণ্ডের প্রধান দুটি করোনারি ধমনী হলো, যথাক্রমে বাম ও ডান করোনারি ধমনী বা লেফ্ট করোনারি আর্টারি ও রাইট করোনারি আর্টারি। লেফ্ট করোনারি আর্টারি আবার একটু নিচের দিকে এসে দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে-লেফ্ট অ্যান্টেরিয়র ডিসেন্ডিং আর্টারি (এলএডি) ও লেফ্ট সারকামফ্লেক্স আর্টারি (এলসিএক্স)।

হৃৎপিণ্ডের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা দূর করবে ৬টি খাবার ঘরোয়া চিকিৎসা, জেনে রাখুন, রোগ ব্যাধি, স্বাস্থ্য টিপস, হৃদরোগ
বিভিন্ন কারণে হৃৎপিণ্ডের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধে। এতে হার্ট অ্যাটাক, হার্টে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে কিছু খাবার এই রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করবে। এতে হার্ট সুস্থ থাকে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি কেয়ারওয়ে জানিয়েছে খাবারগুলোর নাম।

 

হৃৎপিণ্ডের

বিভিন্ন কারণে হৃৎপিণ্ডের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধে

 

ওট

ওটের মধ্যে থাকা সলিউবল আঁশ কোলেস্টেরল তৈরি করতে বাঁধা দেয়। এই আঁশ হৃৎপিণ্ডের শিরার রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।

ডালিম

ডালিম একটি শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি শিরার শক্ত হয়ে যাওয়া সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে এবং শিরার রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। এই খাবারটি শিরাকে ভালো রাখে।

মাছ

যেসব মাছের ওমেগা তিন ফ্যাটি এসিড রয়েছে, এগুলো রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। যেমন : স্যালমন, টুনা ইত্যাদি।

রসুন

রসুন বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। হৃৎপিণ্ডের শিরার রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

জলপাইয়ের তেল

অলিভওয়েল বা জলপাইয়ের তেল কোলেস্টেরল প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা ম্যানুস্যাচুরেটেড চর্বি বাজে কোলেস্টেরল প্রতিরোধ করে। শিরার রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

টমেটো

টমোটো হৃৎপিণ্ডের শিরাকে শক্ত হতে দেয় না। টমেটোর মধ্যে থাকা লাইকোপেন টমেটোকে লাল করে। যাদের শরীরে লাইকোপেন ভালো মাত্রায় থাকে, তাদের হৃৎপিণ্ডের শিরার সমস্যা কমে যায়।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

পড়ুন  যৌনকেশ থাকা কি ভালো? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ জেনে নিন

About Deb Mondal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.