জিকা ভাইরাস ছড়াচ্ছে যৌনমিলনে !

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একজনের শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তি দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ থেকে ফেরত আসা অসুস্থ এক নারীর সঙ্গে যৌনমিলন করেছিলেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যৌনমিলনের ফলে কোনো ব্যক্তির শরীরের জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেল।

জিকা

জিকা ভাইরাস ছড়াচ্ছে যৌনমিলনে !

ডালাস কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা পরিচালক জাচারি থমাস বলেন, এটা (জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত) খুবই বিরল। কিন্তু এটা নতুন নয়। আমরা সর্বদাই একটি বিষয় অনুসন্ধান করেছি যে, যৌনমিলনের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, মশার কামড়ে নয়, যৌনমিলনের মাধ্যমে জিকা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ঘটনা এটি।

জিকা ভাইরাসের উপস্থিতির ঘটনা খুব গোপন উল্লেখ করেছেন মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তারা।

মশার কামড়ের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস সাধারণত মানুষের শরীরের ছড়িয়ে পড়ে বলে মত রয়েছে। তবে এটা যৌনমিলনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখছিলেন তদন্তকারীরা।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) চিকিৎসক অ্যানি সিচুচ্যাট জানিয়েছিলেন, জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, মশার কামড়ে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

সিডিসি আরও জানিয়েছিল, গর্ভবতী বা এরকম অবস্থায় থাকা নারীদের সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে পুরুষ সঙ্গীদের শরীরে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামনে কিছু নির্দেশনা আসছে।

প্রায় ২৪ দেশের গর্ভবতী নারীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করার সুপারিশ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

জিকা ভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কে ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সারা বিশ্বে জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটি বলছে, মশাবাহিত এই রোগটির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেই ছোট আকারের মস্তিষ্ক নিয়ে চার হাজারের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে। জিকা ভাইরাসের প্রকোপ লাতিন আমেরিকা থেকে খুব দ্রুতই আরও বহু দুর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোগটি এতটাই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় এ বছর ৪০ লাখের মতো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *