ক্যানসার মানেই প্রোষ্টেট বড় হওয়া নয় !

ক্যানসারক্যানসার মানেই  প্রোষ্টেট বড় হওয়া নয় !

পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে প্রোস্টেট গ্রন্থি। বয়সের সঙ্গে এই গ্রন্থি আকারে বড় হয়। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের অনেক সময় প্রোস্টেট গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে গিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিরীহ ধরনের, অর্থাৎ ক্যানসার বা ম্যালিগন্যান্ট নয়।তবে ৫০ বছরের পর পুরুষদের প্রোস্টেটে ক্যানসার, প্রদাহ ইত্যাদির ঝুঁকিও বেড়ে যায় বলে সতর্ক থাকাই ভালো।

প্রোস্টেট গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হওয়াকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় বলে ‘হাইপারট্রফি’ এবং এই রোগকে বলে বিনাইন এনলারজমেন্ট অব প্রোস্টেট বা সংক্ষেপে বিইপি। প্রোস্টেট বড় হওয়া মানেই প্রোস্টেট ক্যানসার নয়।

প্রোস্টেট বড় হচ্ছে?

বয়স্ক পুরুষদের প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা এর প্রধান লক্ষণ। এ ছাড়া প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব একবারে পরিষ্কার না হওয়ার দরুন রাতে বারবার ওঠা, ইতস্তত ভাব, প্রস্রাবের ধারা

একবার বন্ধ হওয়া এবং আবার শুরু হওয়া ইত্যাদিতে বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। প্রস্রাব করার পর প্রস্রাবের থলিতে আরও প্রস্রাব থেকে গেছে এমন একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি কাজ করে। এমন লক্ষণ টের পেলে চিকিৎসকের কাছে যান।

পড়ুন  রক্ত সল্পতা দূর করতে যে ৫ ধরণের খাবার দরকার

চিকিৎসা বিভিন্ন রকম

প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বা বিইপি চিকিৎসার কিছু ধাপ রয়েছে। প্রথম দিকে প্রস্রাবের ধারা মুক্ত রাখতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে উপসর্গের উন্নতি হয়।

কিন্তু এমন চিকিৎসায় উন্নতি না হলে এবং বেশি জটিলতা দেখা দিলে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

রোগটিকে অবহেলা নয়

প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধির কারণে মূত্রথলিতে চাপ সৃষ্টি হয়, প্রস্রাব পরিষ্কার হয় না। এতে বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। সমস্যাটি নিরীহ হলেও এর সুচিকিৎসা দরকার এবং প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।

ক্যান্সার মানেই আতঙ্ক, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু’ এটিই অনেকের ধারণা। শুধু তাই নয় এই ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরনও আছে ব্লাড ক্যান্সার, ফুসফুসে ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, এই গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল প্রস্টেট ক্যান্সার।

পুরুষদের মধ্যে এই মরণঘাতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। সাধারণত ৫০ বছরের পর প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কিছু সাবধানতা ও সচেতন হলেই এই ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাহলে জেনে নেয়া যাক প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকার ৫টি উপায়….
প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে স্যামন মাছ

১.স্যামন মাছ:

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে একাধিকবার স্যামন মাছ খান তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৬৩ শতাংশ কম। তবে যারা এই মাছ পছন্দ করেন না তারা এর বিকল্প হিসেবে স্যামন মাছের তেল দিয়ে তৈরি ওমেগা-৩ ক্যাপসুল খেতে পারেন।

পড়ুন  এই ম্যাজিক মিশ্রণ এর মাধ্যমে ফুসফুস থেকে সব ময়লা সাফ হবে

প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় শাকসবজি

২. ব্রকোলি ও অনান্য সবজি:

টরেন্টোর ‘জার্নাল অফ দ্য ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট’ এ প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়েছে, ব্রকোলি, ফুলকপি ও সবুজ শাক-লতাপাতা প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এসব খেয়েছেন তাদের এই ক্যান্সার সংক্রমণ করেনি।

দারুণ উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো অরগ্যানিক উপাদান
প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে দারুণ উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো অরগ্যানিক উপাদান থাকা পানি বা জল

৩.পলিফেনলযুক্ত পানীয়:

প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে দারুণ উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো অরগ্যানিক উপাদান থাকা পানি বা জল। টমেটোর রস, গ্রিন টি, ঔষুধি চা, আঙুরের রস, বীট-পালংয়ে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ পলিফেনল।

মাংস, দুধ কমিয়ে বেদানা ও আখরোট বেশি করে খেতে হবে
প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে মাংস, দুধ কমিয়ে বেদানা ও আখরোট বেশি করে খেতে হবে

৪. আখরোট ও বেদানা:

অন্যান্য অসুখের মতো প্রস্টেট ক্যান্সারেরও খাবার-দাবারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে মাংস, দুধ কমিয়ে বেদানা ও আখরোট বেশি করে খেতে হবে।

পড়ুন  জিভের রং দেখে চিনে নিন কোর ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা

এতে যে উদ্ভিদ উপাদান রয়েছে, তা প্রস্টেট টিউমার বড় হতে দেয় না।প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে দারুণ উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো অরগ্যানিক উপাদান থাকা পানি বা জলব্যায়ামের মধ্য দিয়ে কোলেস্টোরলের মাত্রা কমানো যায়

৫. ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার:

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাদের কোলেস্টোরলের মাত্রা ২২ মিলি গ্রামের নীচে তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৬০ শতাংশ কম। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে কোলেস্টোরলের মাত্রা কমানো যায়।

সবচেয়ে বেশি ব্রিটেনের পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সার হয়। তারপর অামেরিকা এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সারকে বলে প্রস্টেট ক্যান্সার। শুধুমাত্র পুরুষদেরই প্রস্টেট গ্রন্থি রয়েছে। এর আকার অনেকটা কাজুবাদামের সমান।

উল্লেখ্য: মুত্রথলির নিচ থেকে যেখানে মুত্রনালী বের হয়েছে সেটির চারপাশ জুড়ে এই গ্রন্থিটি বিদ্যমান। এর মধ্য দিয়েই মুত্র এবং বীর্য প্রবাহিত হয়। কোনো পুরুষ যদি এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তাহলে প্রসব ও যৌনমিলনে বীর্যপাতের সময় প্রচণ্ড কষ্ট পান।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About Farzana Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.