ইংল্যান্ডের কসাইখানায় প্রকাশ্যে মানুষের মাংস ! !(ভিডিও সহ)

 

এক ছুটির দিন সকালে বাজারে গেলেন মাংস কিনতে। গিয়ে দেখলেন মাংসের দোকানটির হুক থেকে ঝুলছে মানুষের হাত-পা, মাথাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। সদ্য কেটে ঝুলিয়ে রাখা এসব মাংস খণ্ড থেকে টুপটুপ ঝরছে রক্ত। নিশ্চিত বলা যায়, ছুটির দিনের আমেজটা নিমিষেই উধাও হয়ে যাবে। ভিডিওটি দেখুন এখানে

হরর ফিল্মের মতো শোনালেও বাস্তবে কিন্তু লন্ডনে এমন একটি দোকান খোলা হয়েছিল। বলা হচ্ছে, এটিই বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র সম্পূর্ণ মানব মাংসের দোকান। লন্ডন শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের একটি এলাকা স্মিথফিল্ড। এলাকাটি বিখ্যাত এর শতাব্দীপ্রাচীন মাংসের পাইকারি বাজারের জন্য। সেখানে গত বছরের সেপ্টেম্বরের দিকে মানুষের মাংস বিক্রির দোকান খোলে ওয়েস্কার অ্যান্ড সন্স। তবে মাত্র দু’দিন চালু ছিল দোকানটি।

আব্বুই আমাকে অশ্লীল ভাবে স্পর্শ করে, জোরাজুরি করে…. পড়ুন বিস্তারিত

কেন তাদের এমনতর ব্যবসা আর কেনইবা বন্ধ হয়ে গেল_ সে কথাটি সব শেষেই না হয় বলা যাক।এক ছুটির দিনেই অদ্ভুত এ ব্যবসাটি শুরু করে ওয়েস্কার। দোকানের শাটার তোলার পর রীতিমতো হইচই পড়ে যায় বাজারে।

দেখা যায়, দোকানের দুই পাশে ও সামনের সারি সারি হুক থেকে ঝুলছে মানুষের তাজা হাত-পা, মাথা, কান, পাঁজর এমনকি নাড়িভুঁড়িও। টুপ টুপ করে রক্ত ঝরছে এগুলো থেকে। দোকানের ভেতরেও স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল ও কাচের শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। পলিথিনে মুড়িয়ে আস্ত মানবদেহও রাখা হয়েছে। প্রতিটি ‘মাংস খণ্ডের’ সঙ্গেই মূল্য সংবলিত কাগজ লাগানো রয়েছে।

 

তাতে হাতের মূল্য লেখা হয়েছে ৫.৯৯ পাউন্ড, পা ৬ পাউন্ড, উরুর মূল্য ২.৯৯ পাউন্ড। দোকানটি চালু করার আগে একটি ওয়েবপেজও খোলে ওয়েস্কার অ্যান্ড সন্স। শুধু তাই নয়, মানব মাংস ভক্ষণ বা নরখাদক বিষয়ে একটি বিতর্কেরও আয়োজন করা হয়। ব্যাপক প্রচারণা ও উদ্ভট আইডিয়ার কারণে দু’দিনেই দোকানের সব ‘মাংস’ বিক্রিও হয়ে যায়।

ময়নাতদন্ত করা হয় কিভাবে দেখুন ভিডিওতে ?

আসলে দোকানটি খোলা হয়েছিল ওই দু’দিনের জন্যই। ওই সেপ্টেম্বরের দিকেই বাজারে আসে ভিডিও গেম ‘রেসিডেনশিয়াল এভিল ৬’। ব্যাপক জনপ্রিয় হরর ধাঁচের এ গেমটির সিরিজগুলো ১৯৯৬ সাল থেকে তৈরি করছে ক্যাপকম নামের একটি ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। গেমটি যেমন জনপ্রিয়, তেমনি বিতর্কিতও। সিরিজের নতুন গেমটি বাজারে ছাড়া উপলক্ষে ব্যাপক প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেয় ক্যাপকম। দায়িত্ব দেওয়া হয় খাবার-দাবারের শিল্পসম্মত উপস্থাপনার জন্য খ্যাতিমান শিল্পী শ্যারন বেকারকে।

 

তিনিই সেই মানব মাংসের দোকানের উদ্যোক্তা। তার ডিজাইনেই দোকানে ‘শোভা’ পেয়েছে ‘মাংসগুলো’। ব্রিটেনে কিংবা কোনো সভ্য দেশেই মানুষের মাংস বিক্রি বা খাওয়ার আইনি বৈধতা নেই। তারপরও ওয়েস্কার অ্যান্ড সন্স এ কাজ করতে পেরেছিল। কারণ দোকানে ঝোলানো মাংসগুলো মানুষের ছিল না। ছিল গরু, ছাগল ও শূকরের! শ্যারন শুধু ওইসব পশু মাংসকে মানুষের অঙ্গের আকৃতিতে উপস্থাপন করেছিলেন। এ জন্য তিনি প্রথমেই নিজের শরীরের বেশকিছু ছাঁচ তৈরি করেন। সেই ছাঁচ অনুযায়ী, পশুর মাংস ব্যবহার করে ‘মানুষের’ ওইসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি করা হয়। ক্যাপকম কর্তৃপক্ষ বলছে, গেমটি যে বাস্তবের মতোই তা বোঝাতে তারা এ ধরনের ‘বিজ্ঞাপন’ দেয়। উদ্ভট বা বীভৎস যাই হোক অবিক্রীত থাকেনি কিছুই। বিক্রয়লব্ধ পুরো অর্থ দেওয়া হয় ব্রিটেনের লাইম্বলেস অ্যাসোসিয়েশনকে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারানো মানুষদের কল্যাণে এ সংস্থাটি কাজ করে। অবশ্য খাবারের আইটেমের ক্ষেত্রে এমন কাণ্ড আরও আছে। মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গের আকৃতি দিয়ে তৈরি পাউরুটির একটি দোকান কিছুদিন ব্যবসা করে থাইল্যান্ডে। মাথার খুলির আকৃতির চকোলেটও বিক্রি হয়েছে একসময়।

যৌনমিলনের পরেও নারীদের “ভার্জিন” থাকার উপায় (ভিডিওসহ)

তবে পরবর্তীতে এই দোকানের ভিডিও’র অংশবিশেষ ব্যবহার করে ইন্টারনেটে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়, এই ভিডিও’র খন্ডচিত্র দেখিয়ে বলা হয়, ম্যাকডোনাল্ডে মানুষের মাংস খাওয়ানো হয়। আরো অনেক রকম গুজব।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *