খুসখুসে কাশি হলে কি করনীয়?

খুসখুসে

খুসখুসে কাশি হলে কি করনীয়?

 খুসখুসে কাশি কি ?

মৌসুম বদলের এই সময়ে খুসখুসেধরনের  কাশি, গলা ব্যথা লেগেই থাকে। এর বেশির ভাগই অ্যালার্জিজনিত। কিন্তু সহজে না সারা এসব খুসখুসেজাতীয়  কাশি খুবই বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর।
এ ধরনের খুসখুসেকাশিতে সাধারণত কফ তৈরি হয় না, কফ বেরোয়ও না। শুকনো কাশির সাধারণ কারণের মধ্যে অ্যালার্জি ছাড়াও ভাইরাস সংক্রমণ, ক্রনিক ব্রংকাইটিস, পাকস্থলীর অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গলায় উঠে আসা, হাঁপানি ইত্যাদি দায়ী। কিছু ওষুধের কারণেও কারও কারও শুকনো বা খুসখুসে ও কাশি হয়ে থাকে।
ঋতুবদলের আগে-পরে এ রকম খুসখুসে কাশিতে আক্রান্ত হলে শুরুতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায় বাড়িতে। যেমন—
-গরম বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে কাশি অনেকটাই তরল হয়ে আসবে এবং আরাম মিলবে। হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল করলেও উপকার হবে।
-হালকা গরম পানি, গরম দুধ বা গরম স্যুপ খেতে পারেন, এতে ফুসফুসের জমাট ভাবটা কেটে যাবে।
-আদা দিয়ে তৈরি চা, এক চামচ মধু, পুদিনা বা তুলসী পাতার রস—এগুলো সবই কাশি প্রশমন করে।
-রাতে বিরক্তিকর কাশি থেকে বাঁচতে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন, শোবার আগে একটু গার্গল করুন।
-কফি, ক্যাফেইনযুক্ত খাবার, চকলেট এবং ভাজাপোড়া খাবার কাশির দমক বাড়িয়ে দিতে পারে।
-ঠান্ডা পানি ও পানীয় থেকে বিরত থাকাই ভালো। আর ধূমপান অবশ্যই নয়।
-বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর না থাকলে। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা মনটিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। এগুলো গলা বা শ্বাসনালিতে কাশি উৎপাদনকারী রাসায়নিকের পরিমাণ কমাবে, শ্বাসনালিকে প্রসারিত করবে। ফলে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসতে পারবে।
-প্রচলিত কফ সিরাপ কাশি আরও শুষ্ক করে দিতে পারে।

পড়ুন  হাঁপানি থাকলে কি করবেন কি করবেন না জেনে রাখুন
Loading...

কি ভাবে উপকার পাওয়া যেতে পারে

* শুষ্ক কাশিতে প্রচুর পানি পান করতে হয়। এবং অবশ্যই সেই পানি হালকা গরম হতে হবে। সারাদিনই অল্প অল্প করে গরম পানি পান করলে, খুসখুসেজাতীয়  কাশি দূর হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। কাশি থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

* সিগারেটের অভ্যাস থাকলে তা তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিন। সিগারেট কাশির উদ্রেগ বাড়িয়ে দেয়। সেই সাথে পাশে কেউ সিগারেট পান করলে তাকেও মানা করে দিন। এতে লজ্জা পাবার কিছুই নেই, নিজের সুস্থতা নিজেরই কাছে সবচেয়ে জরুরি হওয়া প্রয়োজন।

* প্রতিদিন চারটি তুলসী পাতা নিয়ে, তার সাথে মধু মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। চায়ের সাথে তুলসী পাতা মিশিয়েও খাওয়া যায়। তুলসী পাতা দ্রুত খুসখুসেধরনের  কাশি নিরাময়ে সহায়ক।

* প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। মধু খুসখুসেকাশি কমাতে সাহায্য করে।

* আদা চাও খুসখুসেজাতীয়  কাশি দূর করতে সাহায্য করে।

এভাবেই এই বিরক্তিকর শুষ্ক কাশি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই ভালো থাকুন আর নিজের শরীরের যত্ন নিন।
কয়েক দিনের মধ্যে অ্যালার্জিজনিত বা ভাইরাসজনিত কাশি সেরে যাওয়ার কথা। হাঁপানি বা ব্রংকাইটিসের রোগীদের জন্য এই ঋতুবদলের মৌসুমটা খুবই খারাপ। প্রয়োজনে তাদের অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনহেলার, নেবুলাইজার লাগতে পারে। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

পড়ুন  আপনার কিডনি দুটি কেড়ে নিতে পারে লাল মাংস

তাই ভালো থাকুন আর নিজের শরীরের যত্ন নিন। নতুন নতুন স্বাস্থ বিষয়ক তথ্য জানতে আমাদের সাইটে ভিজিট করুন ।

 

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About Farzana Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.