শীতকালে ভালো থাকার জন্য কিছু সহজ টিপস

শীতকালে ভালো থাকার টিপস নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের আর্টিকেল পড়ে থাকবেন। আজকে আমাদের সাইটে শীতকালে ভালো থাকার টিপস নিয়ে একটি আর্টিকেল সাজানো হয়েঠে পুরোটা পড়লে আপনি আশাকরি অনেক কিছু জানতে পারবেন। শীতের মৌসুম প্রায় শুরু হতে চলেছে। শীত মানেই শুষ্কতা ও রুক্ষতা সময়। এই সময় ত্বক (হাঁট, পা ,ঠোঁট ) রুক্ষ হয়ে যায়, রোগ ব্যাধির প্রবণতা বাড়ে যেমন–শ্বাসকষ্ট, সর্দি, হাঁপানি,ভাইরাস -সংক্রান্ত রোগ। তাই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। কারণ স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে কোন কাজে মন বসে না। শীতের ঋতুতে বেশী করে আমাদের সচেতন হতে হবে। তাই জেনে নিন, শীতকালে ভালো থাকার কিছু উপায়

শীতকালে ত্বক কীভাবে ভালো রাখা যায়ঃ

শীতের শুস্ক হাওয়ার দাপটে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বক দেখতে লাগে অমসৃণ ও খসখসে। তাই এই শীতের মৌসুমে ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নিন শীতকালে ভালো থাকার উপায়-এ ত্বকের পরিচর্যা–

Loading...

সবার প্রথমে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় রাখাটা খুব দরকার তাই প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে আর বারবার জলের ঝাপটা চোখেমুখে দিতে হবে। ঠাণ্ডার কারণে শীতে জল কম পরিমাণে খাওয়া হয়। এটা কিন্তু একদমই ঠিক নয়। প্রতিদিন ৪-৫ লিটার জল খাওয়া উচিত। তাতে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকে।

প্রতিদিন ঠাণ্ডা জলে স্নান করা করুন এতে ত্বকের তৈলক্ততা বজায় থাকবে। উষ্ণ -গরম জল আপনার শরীরে তৈলক্ত ভাব নষ্ট করে দেয়।
প্রতিদিন স্নানের আগে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
স্নানের পরে ভালো করে ত্বকে মশ্চারাইজার ক্রীম লাগান।
রোদে বেড়ানোর ৩০ মিনিট আগে যে-কোনো সানস্ক্রীম ব্যবহার করুন।
ত্বক ভালো রাখতে পুষ্টিযুক্ত খাবার খান। যেমন-সবুজ শাক সব্জি,মাছ,দুধ,ডিম ইত্যাদি।
বেশি করে টাটকা ফল খান। যেমন-আপেল,কমলালেবু, আনারস, পাকা পেঁপে ইত্যাদি।
ত্বকে টমেটো রস লাগালে খুব ভালো মশ্চারাইজার কাজ করে।
আনারস,আপেল,পেঁপে রস মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের জেল্লা দেয়।
ত্বকে আদ্রর্তা বজায় রাখতে অলিভ অয়েলের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে লাগান।
কয়েক ফোঁটা মধুর রস অলিভ অয়েল এর সাথে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট ফাটা কমবে তাছাড়াও আপনি ঠোঁটে জেল,ভেসলিন ব্যাবহার করতে পারেন।

শীতে রাতে শোবার আগে হাতে-পায়ে ভালো করে মশ্চারাইজার ক্রীম লাগিয়ে নিন।

গরম পোশাকঃ
শীতে ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা বেশি থাকে। শীতে ভাইরাস সংক্রান্ত রোগ ( যেমন- সরদি,কাশি) থেকে দূরে থাকতে গরম পোশাক পরুন । গরম পোশাক পড়ার সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন যাতে সেটি যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় কারন অপরিচ্ছন্ন জামাকাপড়ে ভাইরাস বেশি বাসা বাঁধে। বিশেষ করে শিশুদের সবসময় পরিষ্কার গরম পোশাক পড়িয়ে রাখার অভ্যাস করুন যাতে ঠাণ্ডা না লাগে। শীতে ভালো থাকার উপায়-এ গরম পোশাকের অবদান অপরিহার্য।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুনঃ

যখন আমরা শীতে ভালো থাকার উপায় বিষয়টি আলোচনা করি, তখন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করার কথা এড়িয়ে যেতে পারি না। জল আমাদের শরীরে মিনারেল এর কাজ করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে আমাদের শরীর ড্রি-হাইড্রেড হয় না। প্রতিদিন অন্তত ৯-১০ গ্লাস জল পান করুন।

শীতে পুষ্টিকরযুক্ত খাবার খানঃ

শীতে ভালো থাকতে হলে পুষ্টিযুক্ত খাবার খেতে হবে। শীতে ভালো থাকার উপায়–এ পুষ্টিযুক্ত খাবারের কিছু নমুনা-

নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝখানে ডাবের জল খান। ডাবের জল ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
লেবু, কমলালেবু, পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ভিতামিন–সি থাকে। এই সমস্ত ভিটামিনযুক্ত ফল খান।
টাটকা সব্জিতে ( যেমন– ফুলকপি, মটরশুঁটি, গাজর, ক্যাপ্সিকাম ) রয়েছে বায়োটিন যা চুল ও ত্বক ভালো রাখে,শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচায়।
শীতে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ ও খসখসে তাই বেশি করে বাদাম, মাছ, বাটার খান কারন এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড যা রুক্ষতা দূর করে।

শীতে ভালো থাকার উপায়–এ সাধারন কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্য

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠুন
প্রতিদিন ব্যায়ম করুন
প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন
শীতে রোজ ঠাণ্ডা জল দিয়ে স্নান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন গরম পোশাক পরুন
ত্বকে অয়েল বা ক্রিম ব্যাবহার করুন
টাটকা ফল ও সবজী খান।
ত্বকে জলের অভাব হতে দেবেন না
গা,হাত, পায়ে তেল মাখুন
সময় মতো খাবার খান
রাতে কম্বল- তোষক ব্যবহার করুন
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করুন

শীতে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

কিছুটা ঘাম ঝরান: শীতের সময় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় মানুষের একটু বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ সময় শরীরের ওজন ঠিক রাখা তাই বেশি দরকার। শরীর ফিট রাখলে রোগব্যাধি দূরে থাকবে। শরীরে বিপাকপ্রক্রিয়া উন্নত হবে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়বে। শরীরকে উষ্ণ ও কর্মক্ষম রাখতে শীতের সময় নিয়মিত ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানো উচিত।

ফল ও সবজি: শীতকালে প্রচুর সবজি বাজারে পাওয়া যায়। পুষ্টিকর খাবার সব সময়ই শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এ সময় তাই বেশি করে শাকসবজি খেতে হবে। এতে শরীর যথেষ্ট পুষ্টি পাবে এবং রোগব্যাধি কমবে।

হাত ধোয়ার অভ্যাস: ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, শীতের সময় নিয়মিত হাত ধুয়ে তারপর কিছু খাবেন। এ সময় বাতাসে নানা রকম রোগজীবাণু থাকতে পারে। গণটয়লেট ও সংক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া শীতের সময় বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন।

শরীরকে আর্দ্র রাখুন: শীতের সময় অনেকেই পানি খেতে চান না। কিন্তু এ সময় শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি পান করা উচিত। শীতের সময় শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। এ কারণে শরীরে চুলকানি, খসখসে ত্বকের মতো সমস্যা হয়। শীতের এই শুষ্কতা দূর করতে শুধু বাইরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই হবে না, ভেতর থেকে শরীরকে আর্দ্র করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর ফল ও শাকসবজি খেলে শরীর আর্দ্র থাকে।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

পড়ুন  গ্যাসের সমস্যা দূর করার সহজ কয়েকটি উপায়

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.