এই শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিন ঘরোয়া উপায়ে

আপনার ত্বক(skin) কি প্রকৃতিগতভাবেই শুষ্ক? আপনার বয়স(Age) কি তিরিশ পেরিয়েছে? আপনি কি দিনের মধ্যে বেশিরভাগ সময়টাই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় কাটান? তা হলে কিন্তু আগামী কয়েকটা মাস আপনাকে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, না হলে ত্বকের শুষ্কতা খুব ভোগাবে৷ মনে রাখবেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ত্বক(skin) ক্রমশ আর্দ্রতা হারাবে, তাই বিশেষ যত্নআত্তি না পেলেই দেখা দেবে বলিরেখা৷ বয়সের আগেই ত্বকে ভাঁজ পড়বে, তা কুঁচকে যেতেও পারে৷ আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব৷

এই শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিন ঘরোয়া উপায়ে

শুষ্ক ত্বকের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জলপান করুন:
শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের উপর৷ তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল(Water) পান করুন৷ দিনে অন্ততপক্ষে আট-দশ গ্লাস জলপান করা একান্ত আবশ্যক৷ ডাবের জল, ফলের রসও পান করতে পারেন৷

Loading...

অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েল(Olive oil) সাধারণত সব ধরনের ত্বকের পক্ষেই খুব কার্যকর৷ এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু আপনার মুখ নয়, পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেয়৷ স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন৷ তার পর হালকা গরমজলে স্নান সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজ়ার৷ অলিভ অয়েল(Olive oil), ব্রাউন সুগার, আর মধু এমন অনুপাতে মিশিয়ে নিন যেন ঘন ক্রিমের মতো একটি উপাদান তৈরি হয়, তারপর হালকা হাতে সর্বাঙ্গে মেখে নিন এই মিশ্রণটি৷ অল্প চাপ দিয়ে গোল গোল করে মালিশ করুন, এতে আপনার শরীরের সমস্ত মৃত কোষ উঠে যাবে৷ তার পর স্নান করে হালকা ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷

দুধ/ দই:
রুক্ষ, শুষ্ক, ফাটা ত্বকে অনেক সময়েই জ্বালা বা চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা যায়৷ তেমন হলে এক লিটার ঠান্ডা দই(Cold yogurt) বা দুধে নরম কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে নিন সর্বাঙ্গে লাগান৷ অন্তত পাঁচ মিনিট এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন৷ তাতে ত্বকের জ্বালাভাব দূর হবে৷ দই বা দুধে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার ত্বক৷ কাঁচা দুধের সঙ্গে মধু(Honey) মিশিয়ে নিন৷ তার পর সেটি আপনার গোটা শরীরে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ দই দিয়েও এই লেপটি তৈরি করা যায়৷ প্রলেপটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ও স্নান করে নিন৷

পড়ুন  বৈশাখী কিছু সাজসজ্জা আপনাকে আরো সুন্দর করবে

অ্যালো ভেরা:
অ্যালো ভেরা(Aloe Vera) এমনই একটি উদ্ভিদ, যা টবে লাগালে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে৷ একটি অ্যালো ভেরা পাতা নিন, মাঝখান থেকে কেটে ফেলুন সেটিকে৷ শাঁসটা বের করে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন৷ জ্বালাভাব, চুলকানি(Itching) মুহূর্তে কমে যাবে৷ সেরে যায় ছোটখাটো ইনফেকশনও৷ আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি এই শাঁস বা জেলের পরত আপনার ত্বকের উপর তৈরি করে রাখে সুরক্ষার আবরণ, তাতে দূষণ আপনার ত্বকে কোনও ছাপ ফেলতে পারে না৷

নারকেল তেল:
মুখ ও শরীরের ত্বকের পাশাপাশি গোড়ালি, হাঁটু, কনুইয়েরও বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শীতকালে৷ না হলে এগুলি রুক্ষ ও কালো হয়ে যায়৷ প্রথমে এই অংশের ত্বক(skin) ভিজিয়ে রাখুন জলে৷ ত্বক যখন কুঁচকে যাবে, তখন বুঝবেন যা যথেষ্ট আর্দ্রতা পেয়েছে৷ নারকেল তেল(Coconut oil) সাধারণত শীতকালে জমে যায়৷ জমা তেলের মোটা পরত লাগিয়ে নিন আর্দ্র ত্বকে৷ তার পর মোজা বা লম্বা হাতা টপ বা পাজামা পরে ঘুমোতে যান৷ টানা বেশ কয়েকদিন করলে নিজেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন৷

ওটমিল:
আজ বলে নয়, বহু হাজার বছর ধরে ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে ওটমিল(Oatmeal)৷ সবচেয়ে ভালো কাজে দেবে ইনস্ট্যান্ট ওট, সেটাকে ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রথমে পাউডারের মতো গুঁড়ো করে নিন৷ তার পর স্নানের বাথটবে জল ভরে এক কাপ এই পাউডার দিয়ে ভালো করে ছড়িয়ে দিন হাত দিয়ে৷ দেখে নেবেন যেন নিচের দিকে দলা পাকিয়ে না থাকে৷ তার পর এই জলে 15-20 মিনিট শুয়ে থাকুন৷ ওটমিল ত্বক(skin) পরিষ্কার করে, আর্দ্রতা জোগায়৷ এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডান্ট বজায় রাখে উজ্জ্বলতা৷

কমলালেবু:
কমলালেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি(Vitamin C) ঠেকিয়ে রাখে বলিরেখা৷ কমলালেবুর খোসা, সরবাটা, ময়দা বা বেসনের প্রলেপের ব্যবহার রূপটান হিসেবে বহুদিন প্রচলিত৷ এই শীতে যত কমলালেবু খাবেন, তার খোসা ফেলবেন না৷ সব রোদে শুকনো করে রেখে দিন৷ পরে গুঁড়ো করে ব্যবহার করতে পারবেন৷

পড়ুন  রূপচর্চার জন্য গোলাপের পাপড়ির ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব তৈরি

মেয়োনিজ়:
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও মেয়োনিজ় কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর৷ তবে মেয়োনিজ়ে সাধারণত নুন, গোলমরিচ, মাস্টার্ড পাউডার ইত্যাদি যোগ করা হয় স্বাদ বাড়ানোর জন্য৷ এই জিনিসগুলি যোগ করার আগে খানিকটা তুলে রেখে দিন মাস্ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য৷ তা না হলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে৷ ডিমের কুসুম আর তেল ব্লেন্ড করে যে মেয়োনিজ় তৈরি হয়, তার সঙ্গে খানিকটা বেবি অয়েল(Baby oil) মিশিয়ে নিন৷ তার পর মুখে, ঘাড়ে, কনুইয়ে, হাতে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ ডিমের গন্ধটা একটু কড়া, সেটা সহ্য করে নিতে পারলে এই প্যাকের কোনও জবাব নেই!

মধু ও পাকা কলা:
পাকা কলা ও মধু(Honey) একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন৷ মুখে লাগান প্রলেপের মতো করে, তার পর 20-25 মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন ও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷ এটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বক পাবে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা, তা হয়ে উঠবে নরম ও কোমল৷ পাকা কলা, মধু আর সরের প্রলেপও শুষ্ক ত্বকের খুব ভালো দাওয়াই হতে পারে৷ মধু(Honey) অন্য নানা প্যাকের সঙ্গেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন৷

আমন্ড তেল:
আমন্ড তেলে প্রচুর ভিটামিন ই(Vitamin E) থাকে এবং তা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ত্বককে করে তোলে মসৃণ৷ ত্বক খুব সহজেই এই তেল শুষে নেয়, কিন্তু চটচটানি অনুভূত হয় না৷ অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা আমন্ড তেল(Amanda Oil) আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন৷ মুখে লাগিয়ে 15-20 মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য গরম জলে ধুয়ে ফেলুন৷

অ্যাভোকাডো:
অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং তা নরম ও কোমল হয়ে ওঠে৷ সেই সঙ্গে যদি খানিকটা মধু(Honey) মিশিয়ে প্যাক তৈরি করেন, তা হলে আরও ভালো ফল পাবেন৷

পড়ুন  মেকাপ ট্রিকস: দেখুন ব্যয় কমিয়ে আনুন অনেকখানি

চকোলেট:
চকোলেটে উপস্থিত ক্যাফেইন থেকে ত্বকে আসে উজ্জ্বলতা৷ সেই সঙ্গে চকোলেটের ফ্যাটও ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে ভালোই কাজ করে৷ ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিন মাইক্রোওয়েভ আভেনে৷ হালকা গরম থাকতে থাকতে তার সঙ্গে মধু(Honey) মিশিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে নিন৷ মুখে, গলায়, ঘাড়ে, হাতে তা লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন৷ চোখের নিচ আর ঠোঁটের আশপাশের অংশে যেন প্যাক না লাগে সেদিকে নজর রাখবেন৷ তার পর সার্কুলার মোশনে হাত ঘুরিয়ে ম্যাসাজ নিন মুখে, সামান্য গরম জলে ধুয়ে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷

যা করবেন না:
অতিরিক্ত গরম জলে বেশিক্ষণ ধরে স্নান করবেন না, তাতে ত্বকের আর্দ্রতা ক্রমশ হারাতে থাকে৷

স্নানের আগে অয়েল মাসাজ করলেও স্নানের পর অতি অবশ্যই ময়েশ্চরাইজ়ার ব্যবহার করুন৷ তা না হলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কোনওদিন কমবে না৷ ত্বক(skin অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷

খুব কড়া সাবান আপনার ত্বকের শুষ্কতা কেড়ে নেবে৷ হালকা কোনও সাবান বা সোপ ফ্রি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন৷ বেসন, মুসুর ডাল বাটা, চালের গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে ত্বক(skin খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়৷ ক্লেনজ়ার বা স্ক্রাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা মেনে চলা উচিত৷

অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যে কোনও স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন৷ এগুলি ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতার ভাঁড়ারে টান পড়ে৷ মিনারেল অয়েল, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷

অহেতুক রোদ লাগাবেন না ত্বকে, বিশেষ করে সকাল ন’টার পর৷ সানস্ক্রিন(Sunscreen) ব্যবহার করুন৷ ছাতা, টুপি, সানগ্লাসও রোদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে৷ লিপ বাম কেনার সময়েও এমন কিছু বাছুন যার মধ্যে এসপিএফ আছে৷

পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি(Vitamin C), আর ম্যাগনেশিয়াম যেন থাকে খাদ্যতালিকায়৷ তা না হলেই মুষড়ে পড়বে আপনার ত্বক৷ মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি, ফল, শাকসবজি রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়৷ খুব তেলমশলাদার বা ভাজাভুজিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন৷

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.