প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় এক্স-রে করা নিষেধ কেন?

প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় এক্স-রে (X-Ray) করা নিষেধ কেন?

Loading...

উত্তর: রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (সাধারণত ১০-০.০১ ন্যানোমিটার) সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে দর্শন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে না। ১৮৯৫ সালে উইলহেম রনজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগনির্ণয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে রঞ্জনরশ্মি।

এক্স-রে এক ধরনের তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা সরলরেখা বা সোজা পথে গমন করে। সাধারণ আলোর জন্য অস্বচ্ছ পদার্থ যেমন কাঠ, পেশী, পোশাক, ইত্যাদির মধ্য দিয়ে এক্স-রে (X-Ray) গমন করতে পারে। তবে ক্যান্সার কোষ, ধাতু, হাড় বা এ জাতীয় পদার্থের মধ্য দিয়ে এক্স-রে যেতে পারে না। এক্স-রে -এর এ ধর্মটিই ব্যবহার করা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে।

যেভাবে কাজ করে

এক্স-রে টিউব থেকে এক্স-রে নির্গত হয়। অপর প্রান্তে এক্স-রে ফিল্ম বা কম্পিউটারাইজড সেন্সর রাখা হয়। এ দুয়ের মাঝে রোগীকে রেখে এক্স-রে (X-Ray) চিত্র নেয়া হয়।

পড়ুন  ও নাকি অচেনা রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে না, কিন্তু একটা মেয়ের পিক দিয়ে রিকোয়েস্ট দিতেই...

হাড়, ধাতু বা পাথর জাতীয় বস্তু সাদা ছায়া তৈরি করে।
বায়ুপূর্ণ এলাকা কালো ছায়া তৈরি করে।
পেশী, চর্বি এবং তরল ধূসর ছায়া তৈরি করে।

ব্যবহার

সাধারণত দূর্ঘটনায় আঘাত পেলে হাড় ভেঙেছে কিনা বা কতটুকু ভেঙেছে সেটা নির্ণয়ে এক্স-রে (X-Ray) করা হয়। এছাড়া ক্যান্সার নির্ণয়, পেটে পাথরের অবস্থান নির্ণয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে এক্স-রে করা হয়।

প্রস্তুতি

শরীরের কোন অংশের এক্স-রে (X-Ray) করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রোগীকে এক্স-রে টেবিলে রাখা হয়। পেটের এক্স-রে (X-Ray) করা হলে খালি পেটে করার প্রয়োজন হতে পারে।
অলংকার, তাবিজ বা এ জাতীয় ধাতক পদার্থ এক্স-রে ইমেজ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। কাজেই এক্স-রে করার সময় এগুলো পরা যায় না।
সূতি কাপড় পরে এক্স-রে (X-Ray) করতে হয়।

এক্স-রে চিত্র নেবার সময় শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ রাখতে বলা হতে পারে। এছাড়া এ সময় নড়াচড়া করা যায় না।
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে ক্ষতিকর হতে পারে। আগে থেকে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।

ঝুঁকি

এক্স-রে (X-Ray) পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত পরীক্ষা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীর নিজে থেকেই এক্স-রে জনিত ক্ষতি পুষিয়ে নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় এক্স-রে -এর কারণে ত্বকে ক্যান্সার হতে পরে, গর্ভের ভ্রুণের ক্ষতি হতে পারে, ডিম্বাশয় বা শুক্রাশয়ের ক্ষতি হতে পারে। কাজেই চিকিৎকের পরামর্শ ছাড়া এক্স-রে করা উচিত নয়।

পড়ুন  ভাবী কে কি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবো? তাহলে সমূলে সব শেষ হয়ে যেত!

রোগী এবং এক্স-রে (X-Ray) কর্মী ছাড়া অন্যদের এক্স-রে কক্ষ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে যখন গর্ভস্থ ভ্রূণের কোষ বিভাজিত হতে থাকে ও নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হতে থাকে, তখন এক্স-রেসহ (X-Ray)  যেকোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়া ব্যবহার করা নিষেধ। কেননা তেজস্ক্রিয় পদার্থ কোষ বিভাজনকে অস্বাভাবিক করে বিকলাঙ্গতা করতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা করা যেতে পারে।

ডা. রোনা লায়লা, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ডিসেম্বর ০২, ২০১৩

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.