যেসব পানীয় আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী

সকালের নাস্তায় যে কোন পানীয় থাকতে পারে। অনেক সময় ভুল পানীয় পানের কারণে সকালের নাস্তা ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কিছু পানীয়ের নাম উল্লেখ করা হয় যা ওজন বাড়াতে দায়ী। ওই পানীয়গুলির বিষয়ই এখানে তুলে ধরা হল।ওজন

যেসব পানীয় আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী

চকোলেট দুধ

শুধু দুধের নাম শুনলেই নাক সিঁটকান অনেকেই। তবে সেই দুধের সঙ্গে চকলেট মিশিয়ে দিলেই তা হয়ে যায় দারুণ পছন্দের পানীয়। তবে অনেকেই জানেন না মুখরোচক এই পানীয় ওজন বাড়াতে দায়ী। এক গ্লাস চকোলেট দুধে ২০০ থেকে ২৫০ ক্যালরি থাকে যা একটি অর্ধেক বার্গারের সমপরিমাণ। যেখানে এক গ্লাস দুধে ৭০ ক্যালরি থাকে। তাছাড়া এক গ্লাস চকলেট দুধে থাকে পাঁচ গ্রাম স্যাচারেইটেড ফ্যাট। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনের শুরুতে চকলেট দুধ পান না করাই উচিত।

স্পেশাল কফি

কফিতে কোন ক্যালরি নেই। তবে কফি আরও মুখরোচক করে তৈরি করতে দুধ, চিনি ও বিভিন্ন ফ্লেইভারযুক্ত করার কারণে কফি হয়ে দাঁড়ায় ওজন বাড়ার কারণ। সারাদিন সতেজ থাকতে অনেকেই সকালে কফি পান করে থাকেন। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে সকালের কফিতে কোন বাড়তি স্বাদ যোগ করা উচিত নয়। সকালের কফিতে বাড়তি চিনি ও ক্রিম মেশালে প্রতি এক কাপ কফি থেকে সর্বমোট ২০০ ক্যলরি পাওয়া যায়। তেমনি বিভিন্ন ধরণের কফি দিয়ে তৈরি পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে। এসব কফিতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি এবং পুষ্টিমান কম থাকে। তাই সকালের নাস্তায় এবং ওজন কমাতে চাইলে যে কোন মুখোরোচক কফিজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

পড়ুন  জিরো ফিগার করার কিছু Health টিপস

কলা দিয়ে মিল্কশেইক

মিল্কশেইক খেতে সুস্বাদু, তবে যারা ডায়েট করেন তাদের জন্য এই পানীয় খুব একটা উপকারী নয়। কলা’তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে একটি কলায় প্রায় ১০০ বা এর বেশি ক্যালরি থাকে। আর মিল্কসেইক তৈরি করতে কলার সঙ্গে দুধ, চিনি, ক্রিম ও আরও অনেক ফ্লেইভার যুক্ত করতে হয়। আর এক কাপ দুধ, একটি কলা, চিনি, ক্রিম বা সিরাপ ও বিভিন্ন রকমের ফ্লেইভার যুক্ত করা হলে এক গ্লাস মিল্কশেইকে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০’তে গিয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের মিল্কশেইক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ ও ওজন বর্ধক।

চর্বি যুক্ত দই

দই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এতে ফ্যাট এবং প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলক কম থাকে। তবে সকালের নাস্তার জন্য দই দিয়ে কিছু বিশেষ পানীয় তৈরি করা হয় যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট যুক্ত করা হয়। যা দেহের ক্ষতি করে থাকে। এসব দই সকালে খাওয়ার ফলে এর অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়ায়। তাই সকালের নাস্তায় দই খেতে চাইলে ক্যালোরি কম আছে এমন দই বেছে নেওয়া উচিত।

পড়ুন  রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খান, আর দেখুন কী হয়

স্মুদি

দোকানে তৈরি স্মুদিতে ফলের রসের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি এবং ফ্লেইভার যুক্ত করা হয়। ফলের রস স্বাস্থ্যকর হলেও স্মুদি তৈরির সময় এর সঙ্গে কৃত্রিম রং, ফ্লেইভার ও চিনি যুক্ত করার ফলে এটি হয়ে যায় খুবই অস্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। ঘরে তৈরি স্মুদিতেও অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়। তাই সকালের নাস্তায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অবশ্যই স্মুদি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.