নাছোড়বান্দা শুকনো কাশি দূর করার ৭টি ঘরোয়া উপায়

শুকনো কাশি এমন একটি সমস্যা যার থেকে কেউই রেহাই পায় না। কিন্তু যদি, এই খুবই সাধারণ ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অগুরুতর সমস্যাটি দীর্ঘ সময় ধরে থেকেই যায়, তবে কখোনই একে হাল্কাভাবে নেবেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কিছু ধরণের অ্যালার্জি বা কোন ভাইরাল সংক্রমণের লক্ষণ। উভয় ক্ষেত্রেই, এই শুকনো কাশি দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেলে তা নানান রকম অসুবিধা ও ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটানা কাশি, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি থেকে বুকে কফ জমা, এই অপ্রীতিকর সমস্যাগুলির মোকাবিলা করা খুবই হতাশাজনক হতে পারে।শুকনো কাশি

নাছোড়বান্দা শুকনো কাশি দূর করার ৭টি ঘরোয়া উপায়

সুখবরটা হল, এমন অনেকগুলিই প্রভাবশালী ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যা এই সমস্যার প্রতিকারে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এই প্রতিকারগুলি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যে এই প্রতিকারগুলির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহ নিরাময়কারী বিশিষ্ট, শুধু শুকনো কাশির তীব্রতাই কমায় না বরং সময়ের সাথে সাথে একে সারিয়েও তোলে।

এই কারণেই আজ আমরা, এই ধরণের কাশিতে বিস্ময়কর ফল দেয় এমন কিছু ঘরোয়া প্রতিকারে একটা লিস্ট দিলাম। এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি, যেসব জীবানু অনবরত কাশির কারণ, সেগুলির থেকে মিউকাস মেম্ব্রেন বা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিকে রক্ষা করতে সক্ষম।

পড়ুন  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ health টিপস

যদি, এই কাশি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রয়ে যায়, তবে অবশ্যই আপনাকে এর অন্তর্নিহিত কারণ জানার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এই কথাটি মাথায় রেখেই, আসুন দেখা নেওয়া যাক, শুকনো কাশির জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার।

Loading...

১. মধু ও গোলমরিচঃ
আপনি হয় খাঁটি মধু ও গোলমরিচ দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন অথবা এই দুটি কার্যকর উপকরণকে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন যা আপনাকে গলার অসুবিধা ও ভারিভাব থেকে রেহাই দেবে। নাছোড়বান্দা শুকনো কাশি থেকে নিস্তার পেতে এই মিশ্রণটি রোজ কমপক্ষে ৩-৪ দিন ব্যবহার করুন।

২. গারগল করাঃ
একটানা কাশির থেকে রেহাই পেতে সবথেকে সহজ উপায় হল, লবন-জল দিয়ে গারগল করা। বহু পুরানো এই প্রতিকারটি আপনার গলায় ও বুকে জমে থাকা কফের জন্য বিস্ময়কর ফল দিতে পারে। নাছোড়বান্দা শুকনো কাশি তাড়াতে কমপক্ষে ১ সপ্তাহ সারা দিন ধরে গারগল করুন।

৩. ভাপঃ
একটা পাত্রে গরম জল নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা পিপারমেন্ট, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদির মতো কোন এসেনশিয়াল ওয়েল মেশান। দিনে ২-৩ বার এর থেকে ভাপ নিন।টানা শুকনো কাশির সাথে লড়তে ১ সপ্তাহ ধরে দিনে ২-৩ বার এই ভাপ নিন।

পড়ুন  কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?

৪. হলুদঃ
হলুদের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সেইসব নাছোড়বান্দা জীবানু ও ব্যাকটেরিয়াকেও কার্যকরভাবে লড়ে তাড়ায়। এই কাশির তীব্রতা কমাতে গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে পান করুন।

৫. গরম পানীয়ঃ
গরম পানীয় যেমন স্যুপ শুকনো কাশি প্রশমিত করতে সাহায্য করে। এটি মিউকাস মেমব্রেনকে আরাম দেয় ও আরো ক্ষতি হওয়ার থেকে রক্ষা করে।

৬. আদা চাঃ
টানা শুকনো কাশি প্রশমন করতে, শুধুমাত্র এক কাপ আদা-চা খুবই কার্যকর প্রমানিত হতে পারে। শুকনো কাশি দমন করতে এই সহজ ঘরোয়া প্রতিকারটি ট্রাই করুন।

৭. মার্শমেলো চাঃ
নাছোড়বান্দা প্রকৃতির শুকনো কাশি নিরাময়ে, মার্শমেলো চা এই একটি বহু পুরানো ঘরোয়া প্রতিকার।এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে, মার্শমেলো চা ১ সপ্তাহ ধরে রোজ পান করুন, আর গলার ভারি ভাব থেকে মুক্তি পান।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.