মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

মুখে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যাচ্ছে? সমস্যাটা কি বুঝতে পারছেন না? কেউ বলছে মেছতা তো কেউ বলছে এটি কোন রোগের কারণে হচ্ছে। যে যাই বলুক, দিন শেষে আয়নায় নিজের মুখটি দেখে তো মন আপনারই খারাপ হয়। নিখুঁত ত্বকের জন্য আমরা মেয়েরা কত কিছুই না করি। তারপরও যখন মুখে এই মেছতার দাগ পড়ে যায় তখন এতসব কষ্ট মনে হয় বৃথা হয়ে গেল। আমার আশেপাশে এই মেছতার সমস্যায় ভুগছে এমন অনেক মহিলা দেখছি। সবারই একটি অভিযোগ অনেক কিছু করেছি কিন্তু কিছুই হয়নি।মেছতা

মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

আমার বোনও এই মেছতার সমস্যাই ভুগছে। একদিন হঠাৎ সে বললো, সারাক্ষণ এত রূপচর্চার টিপস দিস কিন্তু এই মেছতা দূর করার কোন টিপস দিতে পারলি না। তখন ভেবে দেখলাম এই মেছতা(Meats) নিয়ে কিছু জানানো দরকার সবাইকে। অনেকদিন লিখবো লিখবো করে লেখা হচ্ছিলো না। আমরা আসলে জানিই না মেছতা কেন হয়, কোন কাজটি আমাদের করা উচিত না বা মেছতার দাগ পড়ে গেলে কি করব। আজকে আপনাদের এই মেছতা নিয়ে কিছু জানানোর চেষ্টা করব সাথে কিছু ঘরোয়া টিপস দিব যা একটু ধৈর্য্যের সাথে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে।

আগে জানে নিন মেছতা কি?

মেছতা চিনেন না বা আশেপাশের পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভুগছে না এমন মানুষ পাওয়া ভার। মেছতা হলো ছোট ছো্ট বাদামি রঙের ছোপ ছোপ দাগ যা বেশিরভাগ সময় মুখের ত্বকে, হাতের বাহুতে, ঘাড়ে বা পিঠে দেখা যায়। আসলে শরীরের যে অংশগুলো সূর্য্যের আলোর সংস্পর্শে থাকে সেসব জায়গায় মেছতা দেখা যায়।

কেন হয়?

সুর্য্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি শরীরে মেলানিন বাড়িয়ে দেয়। তাই বেশিক্ষণ রোদে থাকলে শরীরের কিছু কিছু অংশের ত্বকে মেলানিন বেড়ে যায় যার ফলে সেসব জায়গার রঙ গাঢ় হয়ে যায়। যা দেখতে বাদামি ছোপ ছোপ দাগের মতো মনে হয়। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা, চুল একটু লালচে তাদের জেনেটিক্যালি মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পড়ুন  নিজেই তৈরি করুন হোয়াইটেনিং ডে ক্রিম

মেছতার চিকিৎসায় পুরোপুরি ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আপনি ঘরোয়া কিছু পরিচর্যার মাধ্যমে আপনার মেছতার দাগ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে পারেন। মুখের এই মেছতার দাগ যা দেখলেই আপনার মন ভেঙ্গে যায় তা দুর করার কিছু টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

(১) অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও ১ চা চামচ মধু(Honey) ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যদি আপনি শুধুমাত্র মেছতায় লাগান তাহলে এই প্যাকটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি পুরো মুখে লাগান তাহলে একদিন পর পর ব্যবহার করবেন।

– অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে থাকে ম্যালিক এসিড যা ডার্ক সেলকে এক্সফোলিয়েট করে ভিতর থেকে ফর্সা করে।

(২) অ্যালোভেরা

ফ্রেশ অ্যালোভেরা নিয়ে মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে নিন। অ্যালোভেরা জেল আপনি চাইলে সারারাত ও রেখে দিতে পারেন।

– অ্যালোভেরা জেল ডার্ক সেলের ডিপিগমেন্টেশন করে আর মেছতার দাগ কমায়।

(৩) কলার খোসা

কলার খোসার ভিতরের দিকটি নিয়ে মেছতার জায়গায় ৩ থেকে ৪ মিনিট ঘষুন। এরপর আরো ৫ মিনিট রেখে দিন যাতে কলার খোসার অংশগুলো ত্বক শুষে নেয়। প্রতিদিন একবার করে এই টিপসটি ব্যবহার করতে পারেন।

– ত্বক ফর্সা করতে ও বয়সের ছাপ দুর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলে গ্লুকোনোল্যাক্টোন যা কলার খোসাতে পাওয়া যায়।

(৪) মেছতা দূর করতে তেল

আমন্ড অয়েল
অল্প আমন্ড অয়েল(Amand Oil) গরম করে নিন। এবার ২ থেকে ৩ ফোঁটা অয়েল আঙ্গুলে লাগিয়ে নিয়ে মেছতার জায়গায় কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। ঘন্টা খানেক রেখে ধুয়ে নিন।

– আমন্ড প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে ও মেছতার দাগ হালকা করে। তাছাড়া এতে ভিটামিন এ এবং ই থাকে যা ত্বককে ভেতর থেকে নারিশ করে।

Loading...

আরগান অয়েল
আরগান অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। প্রথমে মুখ ভালভাবে ধুয়ে নিয়ে শুকনো করে নিন। এবার ২ বা ৩ ফোঁটা আরগান অয়েল নিয়ে মেছতার দাগযুক্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে দিন ও পরদিন সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগাতে পারেন।

পড়ুন  ত্বকে মেছতার দাগ নিয়ে চিন্তিত? জেনে নিন খুব সহজ ঘরোয়া সমাধান

– আরগান অয়েলে থাকা ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও ক্যারোটিনয়েডস একসাথে কাজ করে ধীরে ধীরে মেছতার দাগ দুর করে সাথে সুর্য্যের কারণে হওয়া ক্ষতি কমিয়ে আনে।

অলিভ অয়েল
প্রথমে তেল গরম করে আঙ্গুলের টিপ এ অল্প তেল নিয়ে সারামুখে মাসাজ করুন। যতক্ষণ না ত্বক তেল শুষে নেয় ততক্ষণ মাসাজ করুন। এবার ঘন্টাখানেক রেখে হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। আপনি চাইলে দিনে ২-৩ বার আপনার মেছতার উপর অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন।

টি ট্রি অয়েল
ত্বকের যত্নে টি ট্রি অয়েল খুব জনপ্রিয়। মেছতার দাগ কমাতেও আপনি এই টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। ১-২ ফোঁটা অয়েল নিয়ে মুখে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে নিন। কয়েক ঘন্টা রেখে দিতে পারেন। আপনি চাইলে দিনে ১-২ বার এই এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

– টি ট্রি অয়েলের হিলিং প্রোপার্টিজের কারণে এটি মেছতার দাগ কমায় সাথে ব্রণের সমস্যা দুর করে সুদিং অনুভূতি দেয়। যাদের ত্বক সেন্সিটিভ তারা টি ট্রি অয়েলের সাথে ২-৩ ফোঁটা অন্য কোন তেল যেমন অলিভ অয়েল(Olive oil) বা জোজোবা অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

(৫) বিভিন্ন রকম ফলের রস

লেবুর রস
লেবুর রসের সাথে অল্প পরিমাণ মধু মিশিয়ে তা পাতলা করে নিন। এবার মেছতার দাগে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে নিন। প্রতিদিন এটি ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ত্বক সেন্সিটিভ তারা একদিন পর পর ব্যবহার করলে ভালো।লেবুর রস ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে ও ত্বকের নানারকম দাগ দুর করে।

টমেটোর রস
একটি ছোট টমেটো নিয়ে ভালোভাবে ম্যাশ করে নিন। এবার ম্যাশড করা টমেটো মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই প্যাকটিও আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।

পড়ুন  ফর্সা হাত পা করার সহজ ঘরোয়া টিপস

– প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি ত্বকের টাইরোসিনেজের এক্টিভিটি কমায় ও ত্বককে ফর্সা করে।

পেঁয়াজের রস
একটি ছোট পেঁয়াজ গ্রেট করে নিন। এবার চিপে পেঁয়াজের রস(Onion juice) বের কর নিন। সেই রসের সাথে ১ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মেশান। এই জুসটি মেছতার উপর লাগিয়ে নিয়ে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। ভালো রেজাল্টের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

– এই সহজ পদ্ধতিটি মেছতা বা ব্রণের যেকোন দাগ দূর করতে যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে।

(৬) টক দই

১ টেবিলচামচ টক দই ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। এবার পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। মেছতার দাগ দুর করে ফর্সা ত্বক করার জন্য একদম পারফেক্ট কম্বিনেশন হলো টকদই ও মধু।

কিছু জিনিস এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন!

(১) রোদ থেকে দূরে থাকুন

যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন। সূর্য্যের আলো মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় ও মেছতার দাগ গাঢ় করে।

(২) সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

রোদ বৃষ্টি যাই হোক না কেন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। যাদের মেছতার দাগ পড়ে গিয়েছে তারা জানালার পাশেও রোদে দাঁড়াবেন না।

(৩) ত্বক ঠান্ডা রাখুন

শুধু রোদ নয় গরম ও মেছতার জন্য ক্ষতিকর। যতটা সম্ভব ত্বক(Skin) ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।

(৪) প্রতিদিন এক্সফোলিয়েট করুন

এক্সফোলিয়েশন ত্বকের ডেড সেল দূর করে সাথে পিগ্মেন্টেড সেল ও দূর হয় যা মেছতার দাগকে হালকা করে ধীরে ধীরে।

(৫) ঠোটের যত্ন নিতে ভুলবেন না

আপনার ঠোটকে অবহেলা করবেন না। মেছতার দাগ অনেক সময় ঠোটেও হতে দেখা যায়। তাই এসপিএফ যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন।

(৬) ধৈর্য্য ধরুন

মেছতার দাগ কখনওই রাতারাতি কমবে না। তাই ধৈর্য্যের সাথে যত্ন চালিয়ে যান। দেখবেন আপনি ফল পাবেন।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.