বিরক্তিকর খুশকির সমস্যা দূর করুন স্থায়ীভাবে

দেখতে দেখতে আর কিছুদিন পরেই চলে আসবে শীতকাল। ইতিমধ্যেই শীত তার আগমনী বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে যে, সে চলে আসছে। শীতকাল এলে চুল এবং ত্বকের অন্যান্য সকল সমস্যার মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশী দেখা দিতে থাকে সেটি হলো- মাথার ত্বকে বিরক্তিকর খুশকি(Dandruff) হওয়া। অনেকের প্রায় সারা বছর ধরেই মাথার ত্বকের খুশকির সমস্যা থাকে, আবার অনেকের শীতকাল আসলেই এই সমস্যা দেখা দিতে থাকে।খুশকির সমস্যা

বিরক্তিকর খুশকির সমস্যা দূর করুন স্থায়ীভাবে

তবে আমাদের দেশের বাজে আবহাওয়ার দরুন, ছেলে কিংবা মেয়ে অনেকের প্রায় সারা বছর ধরেই চুলের এই বিরক্তিকর সমস্যাটি থাকে। এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্য থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়ার জন্য খুবই উপকারী এবং সহজ পাঁচটি চুলের প্যাক সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিতভাবে।

১/ নীম পাতা এবং অলিভ অয়েল

নীমপাতায় রয়েছে বিশেষ ধরণের অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান, যা মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে খুব ভালো কাজ করে থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যক্টেরিয়াল এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান, যা মাথার ত্বকের(Skin) জন্যে খুবই উপকারী। এছাড়া অভিল অয়েল চুলের জন্যে খুবই চমৎকার প্রাকৃতিক একটি তেল যা চুলের বিভিন্ন রকম সমস্যার জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কী কী উপাদান প্রয়োজন হবে:

– কিছু শুকনো নীমপাতা।

– চার টেবিল চামচ অলিভ অয়েল।

পড়ুন  খুশকি তাড়াতে কিছু ঘরোয়া সমাধান জেনে নিন

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে:

কিছু শুকনো নীমপাতা খুব ভালোভাবে গুঁড়ো করে এর সাথে চার টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় খুব ভালোমতো লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে দিতে হবে। এরপর ভালো শ্যাম্পু(Shampoo) দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

২/ নারিকেল তেল এবং মধু

চুলে প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন ও পুষ্টি যোগাতে এবং মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে নারিকেল তেল অসাধারণ একটি উপাদান। এর সাথে ব্যবহৃত মধু একটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা চুলের খুশকির সমস্যা দূর করতে খুব ভালো কাজ করে থাকে।

কী কী উপাদান প্রয়োজন হবে:

– দুই চা চামচ নারিকেল তেল।

– দুই চা চামচ অলিভ অয়েল

– দুই চা চামচ মধু।

– ৩ চা চামচ দই।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে:

সকল উপাদান একসাথে একটি পাত্রে মেশাতে হবে। মিশ্রণ যেন ঘন হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং মিশ্রণ ঘন করার জন্যে প্রয়োজনে কিছু পরিমাণে মধু(Honey) কিংবা দই যোগ করা যাবে। এখন এই মিশ্রণ চুলের গোড়া থেকে একদম আগা পর্যন্ত খুব ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগাতে হবে এবং তিরিশ মিনিট পর্যন্ত ম্যাসাজ করে যেতে হবে। ম্যাসাজ করা হয়ে গেলে ৩০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিয়ে চুলে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুল শুকনো করে মুছে ফেলার পর, চুলের গোড়ায় কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেল দিয়ে দিতে হবে।

পড়ুন  শীতের রুক্ষতায় চুলের যত্ন

৩/ ডিমের কুসুম

বায়োটিন হলো অন্যতম একটি ভিটামিন যা খুশকির সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডিমের কুসুম হলো বায়টিনের অন্যতম দারুণ একটি উৎস যা চুলের খুশকির সমস্যা একেবারেই দূর করে দিতে সাহায্য করে থাকে। শুধুমাত্র চুলের খুশকির সমস্যাই নয়, চুলে শক্তি জোগাতে এবং চুল স্বাস্থ্যকর করতেও ডিমের কুসুম দারুণ উপকারী।

কী কী উপাদান প্রয়োজন হবে:

১-২ টি ডিমের কুসুম।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে:

ডিমের কুসুমগুলো একটি পাত্রে নিয়ে ফেটে নিতে হবে। চুলের ত্বকে ডিমের কুসুম লাগানোর আগে দেখে নিতে হবে চুল শুকনো আছে কিনা। এরপর চুলের ত্বকে লাগাতে। সম্পুর্ণ মাথার ত্বকে ডিমের কুসুম লাগানো হয়ে গেলে হেয়ার ক্যাপ কিংবা কোন প্ল্যাস্টিক ব্যাগ দিয়ে মাথা ভালোমতো ঢেকে এক ঘন্টার জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর কোন ভালো শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালোভাবে সম্পুর্ণ চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪/ লিস্টারিন (Listerine) মাউথওয়াশ

মাউথওয়াশ দিয়ে চুলের খুশকি দূর হবে কী? এমন প্রশ্ন মনে আসতে পারে আপনার। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, চুলের খুশকি দূর করতে লিস্টারিন মাউথওয়াশ জাদুর মতো কাজ করে! সাধারণ মাথার ত্বকের ইষ্ট এর সমস্যার জন্য খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। মাউথওয়াশে রয়েছে অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান, যা ইষ্ট প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

পড়ুন  চুল ঘন করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

কী কী উপাদান প্রয়োজন হবে:

– এক টেবিল চামচ লিস্টারিন মাউথওয়াশ।

– ৯ টেবিল চামচ পানি।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে:

একটি পাত্রে পানির সাথে মাউথওয়াশ মিশিয়ে নিতে হবে। প্রাত্যহিক ব্যবহারের শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিয়ে এরপর মাউথওয়াশের পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫/ কলা এবং অ্যাপল সাইডার ভিনেগার

ভিটামিন-বি কলাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে- যা রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে। অন্যদিকে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ফাঞ্জিসাইড এবং জীবাণু ধ্বংসকারী হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। দুইটি উপাদান একত্রে চুলের ত্বকের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

কী কী উপাদান প্রয়োজন হবে:

– সম্পূর্ণ একটি পাকা কলা।

– দুই টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে:

কলা এবং অ্যাপল সাইডার ভিনেগার একসাথে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এখন এই পেষ্ট চুলের গোড়া থেকে শুরু করে আগা পর্যন্ত খুব ভালোভাবে লাগাতে হবে। লাগানো শেষ হয়ে গেলে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিয়ে এরপর ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.