সাধারন ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথা হলে কি করবেন

বিশেষ করে মৌসুম বদলানোর সময় আমাদের শরীরেও কিছু পরিবর্তন ঘটে যায়। মূলত মৌসুম আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক উষ্ণতার হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। ফলে কোন না কোনভাবে শরীরে এর প্রভাব পড়ে। এইসময় ব্যাপকভাবে সর্দি জ্বর, ঠাণ্ডালাগা, গলা ব্যথা ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর একজনের এই রোগ হলে পরবর্তীতে তার থেকে অন্য ব্যক্তি- এভাবে রোগ একের থেকে অন্যে ছড়াতে থাকে।সর্দি

সাধারন ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথা হলে কি করবেন

ঠাণ্ডা লাগা হাতের ছোয়ার জন্যে ছড়ায়। যেমন কোন ঠাণ্ডা লাগা ব্যাক্তি নাক ছাড়ার পর অথবা নাক কান ছোয়ার পর যদি কাউকে স্পর্শ করে তাহলে তার ঠাণ্ডা লাগতে পারে। তার উপর ইনফেকশনের ভাইরাস অনেক সময় কলম, বই বা চায়ের কাপ ইত্যাদিতে লেগে থাকতে পারে। তখন এগুলো স্পর্শ করার পর ঠাণ্ডার সংক্রমন ঘটে। যদিও আমরা জানি যে হাঁচি বা কাশি জীবানু ছড়াতে পারে। তবে এটা খুবই অল্পমাত্রায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার ফলে সর্দি লাগার খুব একটা যোগ নেই। লোকে সর্দি লাগলে বেশিরভাগ সময় বাড়ির ভেতরে কাটায় তবে এটা ছড়ায় লোকের নৈকট্যের কারণে। এইজন্যে যে সব বাচ্চারা ডে কেয়ার বা কিন্ডারগার্ডেনে যায় তাদের বেশি ঠাণ্ডা লাগে।

পড়ুন  গলা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

রোগের লক্ষনঃ

হঠাৎ করে নাকে ও গলায় সুড়সুড়ি লাগে, জ্বালা করে;

হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরে, নাক বন্ধ হয়ে যায়;

গা ম্যাজ ম্যাজ ও ব্যথা করে, গলা ব্যথা করে, সামান্য জ্বর থাকতে পারে;

Loading...

ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকশন হলে জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, সাইনাসের ব্যথা, কানব্যথা, ফুসফুসের প্রদাহ হতে পারে;

কিছু জটিলতা যেমন- সাইনোসাইটিস, মধ্যকর্ণের প্রদাহ, ফুসফুসের প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ

রোগিকে বিশ্রামে থাকতে হবে। ঠাণ্ডা জাতীয় সব কিছু এড়িয়ে চলতে হবে। গরম খাবার ও পানীয় বেশি বেশি খেতে হবে। এই সময় কুসুম গরম পানি খেলে তার ফল ভালো হয়।

পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পানীয় গ্রহন করতে হবে।

ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার যেমন লেবু, আনারস, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে খেতে হবে।

এই রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় রোগীর সাথে অন্যান্য সুস্থ মানুষের মেলামেশা সাবধানে করতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে, গামছা, রূমাল ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবেনা।

রোগী হাঁচি দেওয়ার সময় মুখে রুমাল দিতে হবে এবং যেখানে সেখানে কফ, থুতু বা নাকের ময়লা ফেলা যাবে না।

পড়ুন  যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উপায়

প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শুধুমাত্র ঠাণ্ডা লাগলে করনীয়ঃ

এমনিতে এই রোগের জন্যে বাড়তি কোন ওষুধ খাবার প্রয়োজন হয় না। এমনিতেই মানুষের শারীরিক প্রতিবিধান অনুযায়ী এই রোগ সেরে যেতে পারে। দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী এই রোগের জন্যে করনীয় হিসেবে বাড়ির বাহিরে বেশি বের না হওয়া ভাল। কারন তাহলে এক রোগ থেকে অন্য রোগে মোড় নিতে পারে। তাছাড়া অন্যদের দেহেও এই রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তবে খুব বেশি মাত্রায় ঠাণ্ডা লাগলে মেডিসিন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *