ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার ২০ টি উপায়

লিঙ্গভেদে নয়, বিশ্বের সকলের কম বেশি চুলের নানা সমস্যায় ভোগেন। আপনার যদি দৈনিক ১০০ টি চুল পড়ে তবে চিন্তার তেমন কারণ নেই কিন্তু সচেতন থাকা ভালো। বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। যেমন – খনিজের অভাব, দুঃশ্চিন্তা, জিনের সমস্যা, বিভিন্ন ঔষধ সেবন, দূষণের শিকার ও খাদ্যাভাস। চুল পড়া বন্ধের ঔষধ কোনভাবেই চুল পড়া বন্ধের উপায় হতে পারে না। কিন্তু চুল পড়া সমস্যাটি যদি পুরুষের হয় তবে আরো একটি কারণ যুক্ত হবে। আর তা হল ক্যাপ বা হেলমেটের ব্যবহার্ পুরুষদের চুল পড়া রোধে করনীয় এবং চুল পড়া বন্ধের উপায় ২০ টি উপায় নিয়েই কথা বলবো আজ।চুল পড়া

ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার ২০ টি উপায়

১। দৈনিক হালকা ধরণের শ্যাম্পুর ব্যবহার 

চুল পড়া কমাতে বা চুলের যেকোনো সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমেই চুল পরিষ্কার করতে হবে আর তার জন্য প্রতিদিন হালকা ধরণের শ্যাম্পু ব্যবহার করা খুব ভালো। এতে করে চুলের ক্ষতি হয় না। এছাড়াও প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে স্কাল্পের আর্দ্রতা কমে যেয়ে খুশকি সমস্যা হতে পারে তাই উচিত হালকা ধরণের ভালো মানের কোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করা। চুল পরিষ্কার রাখলে চুলের সৌন্দর্যে আপনার সৌন্দর্য আরো অনেকগুন বেড়ে যাবে।

২। বেশি বেশি ভিটামিন গ্রহন

ভিটামিন শুধুমাত্র আমাদের শরীরের জন্যই ভালো না আমাদের চুলের জন্যও ভালো। বিশেষ করে ভিটামিন এ সেবাম তৈরি করে স্কাল্পের সুস্থতা বজায় রাখে। ভিটামিন ই রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে যার ফলে নতুন চুল উঠে। আবার ভিটামিন বি আপনার চুলকে বিবর্ণতার হাত থেকে রক্ষা করে।

৩। খাদ্য তালিকায় আমিষ রাখুন

মাছ, মাংস, সয়া এবং অন্যান্য যেকোনো আমিষ আপনার চুলের জন্য খুব ভালো। এগুলো আপনার চুল পড়া কমাতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

৪। ম্যাসাজের জন্য প্রয়োজনীয় তেল ব্যবহার করুন :

যারা চুল পড়া ও চুলের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে চিন্তিত তারা কয়েক মিনিটের জন্য সপ্তাহে ২ – ৩ বার মাথায় ভালো মানের কোনো তেল ম্যাসাজ করুন। যেমন – তিলের তেল, বাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার চুলের ফলিকলগুলোকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করবে।

৫। ভেজা চুল আঁচড়াবেন না :

ভেজা অবস্থায় আপনার চুলের গোড়া নরম ও দূর্বল থাকে যার ফলে তখন যদি চুল আঁচড়ান তবে চুল বেশি পড়বে এবং চুলের শক্তিও কমে যাবে। যদি আপনার খুব প্রয়োজন হয় তবে এমন চিরুনি ব্যবহার করুন যা অনেক প্রশস্ত এবং চিরুনির এক দাঁতের পর অন্য দাঁতের মাঝে বেশ ফাঁকা ফাঁকা। আপনার ভেজা চুলে যদি কোনো জট থেকে থাকে তবে অবশ্যই তা হাত দিয়ে খুলে নিবেন।

৬। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের রস :

চুল পড়া রোধে পেয়াজ, আদা ও রসুনের রসের যেকোনো একটি সারারাত লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতে। এটি যদি আপনি প্রতিদিন বা সপ্তাহে একবার করেন তবে চুলের নানাবিধ সমস্যায় আপনি খুব ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন।

৭। বেশি পরিমাণে পানি পান করুন :

আমাদের প্রতিটি চুলের গোড়ায় প্রায় এক – চতুর্থাংশ পানি রয়েছে। তাই আপনার চুলের সুস্থতা ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে প্রতিদিন প্রায় ৪ – ৮ গ্লাস পানি পান করুন।

৮। সবুজ চা :
একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, সবুজ চা চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয়। এক কাপ পানিতে সবুজ চায়ের দুইটি টি ব্যাগ দিয়ে পানি ফুটান। এইবার এই ফুটানো পানি ঠান্ডা করে চুলে লাগিয়ে এক ঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। এর কার্যকরী ফলাফল আপনি নিয়েই বুঝবেন। তবে এক সপ্তাহ প্রায় প্রতিদিন আপনাকে এটি ব্যবহার করতে হবে।

৯। চুলের জন্য খারাপ জিনিস সনাক্ত করা :
চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই চুলের যত্ন নেওয়ার সাথে সাথে আপনার চুলের জন্য কোন কোন জিনিস খারাপ তা জানতে হবে। যেমন – চুল শুকানোর জন্য চুলে বার বার তোয়ালে ব্যবহার না করে চুল খোলা রেখে এমনিতেই শুকাতে দিন। এতে করে আপনার চুলের গোড়ায় আঘাত পড়বে না।

১০। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন :
অ্যালকোহল আপনার চুলের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটায়। চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।

১১। ধূমপান করবেন না :
সিগারেট আপনার স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা দেয় যার ফলে চুলের বৃদ্ধি হ্রাস পায়।

১২। আবশ্যকীয় ব্যায়াম :
প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টার জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চা (হাটা, সাতার) করা প্রত্যকের জন্য আবশ্যক। এটা আপনার হরমোনের ভারসাম্যতা রক্ষা করে, আপনাকে চিন্তা মুক্ত রাখবে এবং আপনার চুল পড়া কমাতে সহায়তা করবে।

১৩। ঝগড়া বিবাদের মানসিক চাপ :
পুরুষদের বেশিরভাগই মানসিক চাপ বা দুঃশ্চিন্তা থেকেই চুল পড়ে। তাই এগুলো কমাতে হবে। আর কমানোর জন্য ইয়োগা, মেডিটেশন খুব উপকারী। এতে করে হরমোনের ভারসাম্যতা রক্ষা পায়।

১৪। চুল তাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন :
চুল সোজা করার জন্য বা চুল শুকানোর জন্য ইলেকট্রিক কিছু দিয়ে তাপ দেওয়া থেকে একদম বিরত থাকুন। এতে চুলের প্রোটিনের ক্ষয় হয় যার ফলে চুল পড়ে যায়।

১৫। মাথা ঘামাতে দেবেন না :
যাদের স্কাল্প তৈলাক্ত গ্রীষ্মকালে তাদের খুব মাথা ঘামে যার ফলে চুলে খুশকি হয় ও বেশি চুল পড়ে। চুলকে খুশকি মুক্ত করার জন্য এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যাতে অ্যালোভেরা ও নিম রয়েছে। যেসব পুরুষদের নিয়মিত হেলমেট পড়তে হয় তাদের মাথা বেশি ঘামে ফলে তাদের ঘাম শুকাতে না পারে না এবং চুলের গোড়ায় জমা হয়ে তা বন্ধ করে দেয়। এতে করে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যায় এবং প্রচুর চুল পড়ে। তাই এক্ষেত্রে চিল পড়া কমাতে হলে আপনাকে অবশ্যই হেলমেটের নিচে স্কার্ফ পড়তে হবে।

১৬। চুল শৈলী পরিবর্তন :
বেশি চুল পড়লে আপনার চুলের শৈলী পাল্টে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। চুলের সিথি বা বাঁধার প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা আনতে পারেন। এতে আপনার মাথায় কম চুল থাকলেও বোঝা যাবে না।

১৭। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখুন :
আপনার চুলের সুস্থতা আপনার সুস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। তাই আপনার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখুন তাহলে আপনার চুলও ভালো থাকবে। সুস্থ, সুন্দর চুল পেতে হলে আপনাকে রোগমুক্ত থাকতে হবে।

১৮। ভালো করে জেনে ঔষধ সেবন করুন :
এমন অনেক ঔষধ আছে যেগুলোর অনেক পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে। যেগুলো সেবন আপনার চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত যেসব ঔষধ আপনি সেবন করছে তার জন্য আপনার চুল পড়ছে নাকি।

১৯। ক্ষতিকারক রাসায়িনিক পদার্থ এড়িয়ে চলুন :
চুলে যেকোনো ধরণের রাসায়নিক পদার্থ বা বিভিন্ন চুলের রঙ ব্যবহার আপনার চুলের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

২০। নিয়মিত ডাক্তারের সাথে দেখা করুন :
সবসময় চুল পড়া আপনার হরমোনের ভারসাম্য নষত করতে পারে যার ফলে আপনি শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আপনার ত্বকেরও নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত ডাক্তারের সাথে দেখা করলে আপনার যেকোনো সমস্যাই প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মূল করা যাবে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *