চুলের যত্ন করতে গিয়ে আসলে চুলের ক্ষতি করে বসছি না তো?

সুন্দর চুল যে কোনো নারীর সৌন্দর্য বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। তাই তো সুন্দর চুল পেতে চুলের যত্ন নিয়ে থাকি এবং কতো কিছুর পেছনে দৌড়াতে থাকি আমরা। কিন্তু চুলের যত্ন (Hair care) করতে গিয়ে কিছু ভুল করে ফেলার ফলে আবার চুলের ক্ষতি করে ফেলি ! কি সেই ভূল গুলো।চুলের যত্ন

চুলের যত্ন করতে গিয়ে আসলে চুলের ক্ষতি করে বসছি না তো?

(১) চুল আঁচড়ানো, একটা খুবই কমন ব্যাপার। চুল সুন্দর, জটহীন রাখতে চুল আঁচড়ানোবা কম্ব করাকে আমরা সবথেকে গুরুত্ব দেই। অনেকেই বলে থাকেন, চুল আঁচড়াতে গেলেই খুব চুল পড়ে। এর কারণ আছে। আপনি নিশ্চয়ই চুল গোড়ার দিক থেকে আঁচড়ানো শুরু করেন। যার ফলে, উপর থেকে জটাগুলো চুলের আগা পর্যন্ত যেতে থাকে। আর শেষমেশ, নিচের সব জটাগুলো একসাথে ছাড়িয়ে নিতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চুল ভাঙতে এবং ছিড়তে থাকে। এজন্যে চুল সব সময় আগার দিক থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে কম্ব করে করে উপরের দিকে উঠতে হবে। এতে খুব বেশী জটা জমা হবে না এবং চুলও ভাঙবে/ছিড়বে কম। একবার ট্রাই করেই দেখুন না!!

(২) হেয়ার স্টাইল করতে গেলে হিট, আয়রন, কার্লার ইত্যাদির দিকে চোখ যায় আমাদের। এগুলো দিয়ে স্টাইল করা অনেক সহজ এবং দেখতেও তো সুন্দর লাগে। কিন্তু এর ফলে যে চুলের কতো ক্ষতি করছেন, সে খেয়াল কি আছে?

যতসম্ভব এই সকল প্রোডাক্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন। নেট সার্চ করলে হিটলেস অনেকে হেয়ার স্টাইলের টিউটোরিয়াল পাবেন। সেগুলো ট্রাই করবেন। আর যদি এসব প্রোডাক্ট ব্যবহারই করতে হয়, তবে, হিটওয়ালা প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে পুরো চুলে হিট প্রোটেক্টর স্প্রে লাগিয়ে নিতে কিন্তু ভুলবেন না।

(৩) চুলের যত্ন নেবার জন্যে যে অপশনটি আমাদের সবার চোখে পড়ে, তা হলো চুলে তেল ব্যবহার করা। না না!! তেল ব্যবহার করতে নিষেধ করবো না আমি। চুলে তো তেল ব্যবহার করবেনই। তবে, সেটা নিয়ম মাফিক। খুব বেশী তেল ব্যবহার করা কিন্তু ঠিক নয়। সপ্তাহে ১-২ বারের বেশী তেল না ব্যবহার করাই ভালো। কারন, ‘অতিরিক্ত’(Extra) তেল ব্যবহার করলেই কিন্তু আপনার চুল ঘন হয়ে যাবে না বরং তাতে খুশকি বাড়ার চান্স থাকে। এছাড়াও তেল ব্যবহারের পর যদি ভালোভাবে শ্যাম্পু না করা হয়, তবে কিন্তু চুল পড়তে পারে। তাই একটু বিশেষ খেয়াল কিন্তু রাখতেই হবে।চুলের যত্ন

(৪) অনেককেই দেখা যায়, চুলের গ্রোথের জন্যে হেয়ার গ্রোথ পিল খেতে। কিন্তু এটা শুধুমাত্র চুল লম্বাই করবে। তবে, এসব পিল খাওয়া স্বাস্থ্যকর খুব একটা নয়। তাই রিস্ক না নেওয়াই ভালো।

(৫) চুল ধোয়ার পর টাওয়ালটা দিয়ে জোরে জোরে চুল ঘষে পানিটা শুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। কিঠিক বলেছি তো !অনেকেই করেন এই কাজটা তাই না?

কিন্তু এতে যে চুলের আগা ফেটে যাচ্ছে, তার খবর কি রাখেন?

তাই চুল সবসময় টাওয়াল দিয়ে আস্তে চেপে চেপে চুলের পানিটুকু শুষে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। জানি, এতে চুল শুকাতে সময় বেশী লাগবে। কিন্তু চুলের ভালোর জন্যে এটুকু তো করতেই হবে।

(৬) রেডিমেইড হেয়ার মাস্ক, সিরাম ইত্যাদি তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। কিন্তু এগুলো কিছু সময়ের জন্যে চুল সুন্দর করলেও এতে থাকা ক্ষতিকর কেমিক্যাল কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার চুলের স্বাস্থ্য খারাপ করে দিতে পারে। তাই সঠিক চুলের যত্ন নিতে যতটা সম্ভব হোমমেইড এবং ‘ন্যাচারাল’(Natural) উপাদান ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

(৭) সুন্দর স্টাইল পেতে চুল টিজ করা বন্ধ করুন। মানেন আর না মানেন, টিজ করা চুল দেখতে সুন্দর লাগলেও যখন টিজ করা চুলগুলো খুলতে যাবেন তখন কিন্তু প্রচুর চুল পড়ার সম্মুখীন হবেন। এছাড়া টিজ করা চুল ঠিক রাখতে যদি ব্যবহার করেন হেয়ার স্প্রে, তাহলে তো ষোল কলা পূর্ণ। তাই, এই সকল স্টাইলে যত পারবেন কম যাবেন। আজকাল তো মার্কেটে চুল টিজ না করেও ফোলানোর অনেক এক্সেসেরিজ আছে। চাইলে, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এতে, চুলও ভালো থাকলো, স্টাইলও হলো!চুলের যত্ন

(৮) চুল প্রচুর আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন, এতে মনে হতে পারে, আপনার চুল স্কাল্পের সাথে লেপ্টে আছে। দেখতেও ভালো লাগে না। তবে রুটিন করে সকালে এবং রাতে অবশ্যই চুল আঁচড়াবেন।

(১০) চুল বেঁধে রাখতে আমরা রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এক্ষেত্রে একদম রাবারের তৈরী চিকন ব্যান্ডসগুলো থেকে চুলকে দূরে রাখলেই ভালো করবেন। কারণ এসব ব্যান্ড চুলের স্বাস্থ্য এর জন্যে খুব একটা ভালো নয়। তাছাড়া, যখন ব্যান্ড চুল থেকে খুলতে যাবেন, তখন দেখবেন এই ইলাস্টিক ব্যান্ডের সাথে অনেক গুলো চুল ছিঁড়ে চলে এসেছে। তাই, কাপড়/ উলের তৈরীব্যান্ডগুলো ব্যবহার করবেন।চুলের যত্ন

এই ছিল চুলের যত্ন নেবার ব্যাপারে কিছু খুঁটিনাটি কিছু বিষয়। আশা করছি চুলের যত্ন নিতে এখন থেকে সতর্ক থাকবেন। কারণসমস্যা জিনিসটা একবারে শুরু হয় না। বিভিন্ন ভুলের মাধ্যমেই কিন্তু আস্তে আস্তে সমস্যার জন্ম হয়।

আশাকরি অাপনার ডক্টরের অাজকের চুলের যত্ন বিসয়ক পোষ্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনাদের যদি কিছুটা হলেও ভালো লেগে থাকে তবে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *