চটজলদি চুলের যত্ন নেয়ার উপায়

আজ আপনাদের মাঝে আলোচনা করব চুলের যত্ন নিয়ে। আজকালকার যুগের মেয়েদের ব্যস্ততার যেন কোন কমতি নেই। স্কুল-কলেজ আর ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে থেকে শুরু করে কর্মজীবী আর গৃহিণীরা সবাই সারাদিন বহু কাজে ব্যস্ত থাকেন। এত এত কাজের মাঝে আর ‘চুলের যত্ন’(Hair care) নেয়া হয়ে উঠে না। এরই মাঝে শুরু হয়ে যায় চুলের বিভিন্ন সমস্যা। তাই চুলের সমস্যা নেই এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া ভার। এখনকার মেয়েদের কমবেশি সবারই চুল পড়ে। এমতাবস্থায় পার্লারে গিয়ে চুলের ট্রিটমেন্ট করা বেশ সময় সাপেক্ষ, ব্যয় সাপেক্ষও বটে। কিন্তু কথায় আছে, ‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’। এই কথাকেই সামনে রেখে আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি বর্তমানের মেয়েদের জন্য চটজলদি কিছু চুলের যত্ন, যা খুব সহজেই চুল পড়া বন্ধ করবে, চুল ঘন, কালো ও মজবুত করবে।চুলের যত্ন

চটজলদি চুলের যত্ন নেয়ার উপায়

হাতের খুব কাছের সামান্য কয়েকটা উপাদান দিয়েই আপনি সেরে ফেলতে পারেন আপনার অমূল্য চুলের যত্ন। এ জন্য আপনি তৈরি করতে পারেন নিয়মিত ব্যবহারের জন্য তেল। চলুন এবার জেনে নিই আমাদের এই তেলটি প্রস্তুত করতে কী কী লাগছে-

১। মেহেদি পাতা(৪/৫ মুঠো সমপরিমাণ) ও

২। সরিষার তেল(২৫০ মিলি. সমপরিমাণ)।

প্রণালীঃ

প্রথমে মেহেদি পাতাগুলো ডাল থেকে বেছে আলাদা করে নিন। তারপর একটি পাত্রে পাতাগুলো নিয়ে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যাতে পাতাতে কোনো ময়লা লেগে না থাকে। ধোয়া হয়ে গেলে পানি ঝড়িয়ে নিতে পারেন অথবা কোনো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন।

এরপর একটি পরিষ্কার পাত্রে ২৫০ মিলি. সরিষার তেল নিয়ে চুলায় কম আঁচে দিয়ে দিন। আপনি চাইলে আরও কম পরিমাণে তেল নিতে পারেন। তেলটা হালকা গরম হয়ে গেলে তাতে মেহেদি পাতার কিছু অংশ দিয়ে দিন। তারপর হালকা জ্বাল দিতে থাকুন, যাতে পুড়ে না যায়। যখন তেলে ফেনা উঠে যাবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পর আবার চুলায় বসিয়ে দিন। এরপর আস্তে আস্তে বাকি মেহেদি পাতাগুলো তেলে দিয়ে দিন। আগের নিয়মে একই ভাবে তেলে ফেনা উঠে গেলে চুলা থেকে কিছু সময়ের জন্য নামিয়ে রাখুন। এভাবে কিছুক্ষণ করার পর চুলা থেকে একেবারেই নামিয়ে রাখুন।

ঠান্ডা হয়ে গেলে, একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড় অথবা ছাঁকনি দিয়ে তেলটা ছেঁকে নিন। তারপর তেলটা কোনো কাঁচের বোতলে ভরে রাখুন। এতে তেল বেশি দিন সংরক্ষণ করা যাবে। চাইলে প্লাস্টিকের বোতলেও রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে তেলের পরিমাণ কম নেয়াই ভালো।

আপনি যদি মেহেদি পাউডার নিতে চান তাহলে পাউডার ১/৩ কাপের সাথে, ১/২ কাপের মতো সরিষার তেল নিয়ে উপরের নিয়মানুযায়ী তেলের সাথে নিয়ে ২৫/৩০ মিনিট জ্বাল দিয়ে, ঠান্ডা করার পর পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যবহারবিধিঃ

প্রয়োজন মাফিক তেল নিয়ে আলতো ভাবে চুলের গোড়ায় আর পুরো চুলে দিন। কমপক্ষে তিন ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শ্যাম্পু করার আগের দিন রাত অবধি রাখতে পারলে আরও বেশি ভালো ফল পাবেন। এভাবে সপ্তাহে ২/৩ বার তেলটি ব্যবহার করুন।

ফলাফলঃ

এক সপ্তাহের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

টিপসঃ

১। চুল পড়ার সমস্যায় এন্টি ড্যানড্রাফ ‘শ্যাম্পু’(Shampoo) কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুলের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়।

২। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর আপনার চুলের সাথে মানানসই কন্ডিশনার দিন।

আশাকরি অাপনার ডক্টরের অাজকের চুলের যত্ন বিষয়ক পোষ্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনাদের যদি কিছুটা হলেও ভালো লেগে থাকে তবে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *