চুল পড়া ও টাক মাথা সমস্যার সমাধান নিয়ে নিন

রূপঘরের আজকের পোষ্ট চুল পড়া বিষয়ে। অতিরিক্ত ক্ষয় ও নানারকম নিম্নমানের কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। তা ছাড়া নানারকম দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অসুখ কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষের চুল ঝরে যাচ্ছে।

চুল পড়া

চুল পড়া সমস্যার সমাধান

চুল ছেলেমেয়ে সবার জন্য সুন্দর প্রকাশের মাধ্যম। চুল না থাকলে কি কেউ নিজেকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে পারে? না পারে না। সেই প্রাচীনকাল থেকেই চুল পড়া, চুল উঠে যাওয়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া খুব কমন একটা ব্যাপার।

চুল পড়ার কারণ

অতিরিক্ত ক্ষয় ও নানারকম নিম্নমানের কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। তা ছাড়া নানারকম দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অসুখ কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরচুল পড়ে যাচ্ছে। কিংবা যাদের টাক নিয়ে সমস্যা আছে তারা বেশির ভাগই নিম্নের কতগুলো সমস্যায় ভোগেন। সমস্যাগুলো হলো

১. চুলের গোড়ায় ময়লা জমে।
২. এক দিন চুল শ্যাম্পু না করলে তেল তেল ভাব হয়।
৩. মাথা চুলকায়।
৪. চুলের গোড়ায় ছোট ছোট গোটা ও ব্যথা হয়।
৫. সাদা সাদা খুশকির গুঁড়া দেখা যায়।
৬. চুলের আগা দ্বিখ-িত হয়ে যায় বা ফেটে যায় আবার অনেক সময় চুলের মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে দেখা যায়।
৭. চুলে রুগ্নভাব থাকে।
৮. চুল লালচে আকার ধারণ করে।
৯. দীর্ঘদিন চুলে সমস্যা থাকলে চুল বাড়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। তা ছাড়া শরীরের বায়ু কুপিত হয়ে ঊর্ধ্বমুখে ধাবিত হলে মাথার ওপরে চুলের কোষ থেকে শ্লেষাম্ভরূপ ঘাম নির্গত হয়।

চুল পড়ার লক্ষণ

প্রাথমিক অবস্থায় চুলের কোষের ওপর আমরা খুশকি বলে মনে করি। আসলে তা এক ধরনের ফাঙ্গাস জন্মে। প্রথমে হালকা হালকা চুলকায়। চুলে শ্যাম্পু করতে তা পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কারণে তা আর চুলকায় না। চুলের যখন ইলাস্টিক মাসেল নষ্ট হয়ে যায় তখন মাথা চুলকালে হাতের নখের সঙ্গে পুঁজ বা ভাতের মারের মতো ময়লা নখের মধ্যে চলে আসে। মাথায় গরমের সময় ঘামে ভিজে কাদা কাদার মতো তৈরি হয়। মাথা পরিষ্কার না রাখলে মাথা থেকে তেল বের হয়। ফলে মাথা থেকে প্রচ- ঘাম বের হয়ে। কিছু দিন পরে চুল যেখান থেকে পড়ে সেখানে আর গজায় না। দ্রুত চুল সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অনেকের পেছনের অংশে চুল দ্রুত বাড়ে আর সামনের অংশে চুল গজায় না। মাথার যেখান থেকে চুল পড়ে সেই অংশ থেকে প্রচ- তাপ বের হয়। টাক হয়ে গেলে টাক অংশে জ্বালাপোড়া ভাব থাকে। যাদের টাক হয় তাদের মুখম-লের রং ধীরে ধীরে কালচে ধরনের হয়ে যায়।
চিকিৎসা

চুল পড়া রোধ বা টাক মাথায় চুল সংরক্ষণের কিছু উপায় নিচে দেয়া হলো_
১. তেতো ঝিঙ্গার পাতা টাকের ওপর ঘষলে উপকার পাওয়া যাবে।
২. প্রাথমিক টাকে ধুতরাপাতা বেটে চুলে দিলে চুল গজায়।
৩. আমলকী ও আমগাছের কচিপাতা একসঙ্গে পিষে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।
৪. যষ্টিমধু, পুদিনাপাতা, তিল, ঘি একত্রে পিষে দুধ মিশিয়ে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয়।
৫. হাতির দাঁতের পোড়া ছাই ও সুরমা একত্রে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে টাকে প্রলেপ দিলে চুল গজায়। প্রলেপটা মাথায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা রাখতে হবে। সপ্তাহে দু-এক দিন এভাবে এক মাস দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৬. বটগাছের ফল পানিতে প্রায় ২০-২৫ মিনিটের মতো সিদ্ধ করে পানিটা ঠা-া করে মাথায় চুলের গোড়ায় দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। সপ্তাহে দু-তিন দিন করে এক মাস লাগালে উপকার যাওয়া যায়।
৭. শিকাকাই, মেথি, একানী রাতে ভিজিয়ে পেস্ট করে মাথায় লাগালে চুলের গোড়া শক্ত হয়।
৮. গুল সিদ্ধ পানি একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে তুলা দিয়ে মাথায় লাগালে মাথার খুশকি ও চুল পড়া কমে যাবে।
চুল পড়া বন্ধ করতে নিজে সচেতন হোন। অল্প থাকতেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মাথা টাক হওয়া থেকে বাঁচুন এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করে নিজেকে সুন্দর করে সাজান।

ডা. তাসলিমা আক্তার
আয়ুর্বেদিক স্কিন হেলথ অ্যান্ড হেয়ার ট্রিটমেন্ট সেন্টার
হারবালিস্ট অ্যান্ড বিউটি কনসালট্যান্ট

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *