স্ট্রোক থেকে বাচার উপায়

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যঘাত ঘটার ফলে যে অব্যবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক (Stroke)। দেহের রক্তের মাত্র ২% মস্তিষ্ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল—অক্সিজেন বা শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ওই কোষগুলো শরীরের যেই অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ গুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোক

স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এটি মস্তিষ্কের কঠিন রোগ। মস্তিষ্কের কোষগুলো একবার নষ্ট হলে পুনরায় পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় না অথবা জন্মায় না। চিকিৎসার চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধই উত্তম। এই রোগ মস্তিষ্কের রক্তনালি থেকে উদ্ভূত হয়। স্ট্রোক হলে অনেক সময় রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এ জন্য সুনির্দিষ্ট ও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরে যেকোনো হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

মস্তিস্কের একটি সিটি স্ক্যান চিত্র যেখানে ডানপার্শীয় মস্তিষ্ক হেমিস্ফীয়ারের ইসচেমিক স্ট্রোক দেখা যাচ্ছে। (ছবির বাম পার্শ্বে).

মস্তিস্কের একটি সিটি স্ক্যান চিত্র যেখানে ডানপার্শীয় মস্তিষ্ক হেমিস্ফীয়ারের ইসচেমিক স্ট্রোক দেখা যাচ্ছে। (ছবির বাম পার্শ্বে)

নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
ধূমপান, মদ্যপান, মাদকদ্রব্য, তামাক পাতা ও জর্দা খাওয়া, গুল লাগানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
হৃৎপিণ্ডের রোগের চিকিৎসা, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফাস্টফুড, বাদাম, সন্দেশ, রসগোল্লা, দুধ, ঘি, পোলাও, বিরিয়ানি, পাঙ্গাশ, চিংড়ি, কাঁকড়া, গরু বা খাসির মাংস, নারকেল বা নারকেলযুক্ত খাবার ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাওয়া ঠিক নয়।
শাকসবজি, অল্প ভাত, পাঙ্গাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া বাদে যেকোনো মাছ, বাচ্চা মুরগি ও ডিমের সাদা অংশ খেলে কোনো ক্ষতি হয় না।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বাড়তি ওজন কমাতে হবে।

হঠাৎ কেউ স্ট্রোক করলে কি করবেন? জীবন বাচাতে পারেন আপনিও, পদ্ধতি জেনে নিন!

স্ট্রোক অবশ্যই একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। আক্রান্ত রোগী নিজে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের জন্য অনেক সময় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিরোধ করাই উত্তম।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *