কোঁকড়া চুল সোজা ও সিল্কি করে তুলুন ৪ উপায়ে

কোঁকড়া চুল নিয়ে খুশি থাকতে পারেন না অনেকেই। আর তাই কোঁকড়া চুল সোজা করার জন্য বেছে নেন আয়রনের হিট অথবা বাজারের বিভিন্ন কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী। এতে কিন্তু উপকারের থেকে ক্ষতিই হয় বেশি। তাই সোজা চুল পেতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে প্রাকৃতিক উপাদান।

কোঁকড়া চুল সোজা করার উপায়

কোঁকড়া চুল সোজা করার উপায়

আমরা আধুনিক যুগের মেয়েরা খুব ভালোভাবেই জানি চুলের জন্য ফ্ল্যাট আয়রন বা কার্লারের হিট কতটা ক্ষতিকর। কিন্তু তারপরও ফ্ল্যাট আয়রনটা যেন আমাদের চুম্বকের মত টানে। আর আমরা চুলে আয়রন ব্যবহার করতে করতে চুল ড্রাই, ফ্রিজি করে চুলের স্বাস্থ্যের বারটা বাজিয়ে তারপরই যেন শান্তি পাই।

আসুন জেনে নেই কোন ধরনের হিট বা ড্যামেজ ছাড়াই কোঁকড়া চুল সোজা আর সিল্কি করার কিছু কিছু ন্যাচারাল উপায় –

১। মিল্ক স্প্রেঃ

একটা কুসংস্কার আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে দুধ চুলে মাখলে চুল নাকি পেকে যায়। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি এটা একেবারেই মিথ্যা আর ভিত্তিহীন। আপনারা জানেন পাঞ্জাবের নারী পুরুষ অতিরিক্ত রুক্ষ চুল থেকে মুক্তি পেতে খাঁটি দুধ আর ঘি মাথায় দেয়? দুধ চুলের জন্য খুবই পুষ্টিকর আর ভালোমানের কন্ডিশনার। এর রেগুলার ব্যবহার চুলের রুক্ষতা দূর করে, ফ্রিজি ভাব কমায় আর আস্তে আস্তে চুলের ঢেউ কমিয়ে আনে।

পড়ুন  চুল কোঁকড়া করুন সাধারণ টিস্যু পেপার দিয়ে

উপকরণঃ

এক কাপ দুধ

এক কাপ পানি

একটি স্প্রে বোতল

পদ্ধতিঃ

দুধ আর পানি, স্প্রে বোতলের ভেতরে ঢালুন তারপর ঝাঁকিয়ে মেশান। পুরো চুলে স্প্রে করুন, চুলে মিশ্রণটি দুই ঘণ্টা রাখুন। মাইলড শ্যাম্পু দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।

২। নারিকেলের দুধের স্প্রেঃ

আমরা সবাই জানি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য নারিকেল তেল কতটা ভালো। কিন্তু জানেন কি? নারিকেলের দুধে আছে তেলের থেকেও অনেক বেশি পুষ্টি। এটা চুলের জন্য খুবই ভালো কন্ডিশনার স্পেশালি যাদের চুল অনেক লম্বা, রুক্ষ-শুষ্ক আর ফ্রিজি।

উপকরণঃ

এক কাপ ফ্রেশ নারিকেলের দুধ > নারিকেল পিষে বা ব্লেন্ডারে দিয়ে পিষে তারপর পেষা নারিকেল ছাঁকুনি দিয়ে ছেঁকে নিলেই পেয়ে যাবেন একদম তাজা নারিকেলের দুধ।

পদ্ধতিঃ

নারিকেলের ঘন দুধ পুরো চুলে লাগান। ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। মাইলড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নারিকেলের দুধের সাথে হালকা একটু লেবুর রস মিশিয়ে রেখে দিলে পেয়ে যাবেন নারিকেলের ক্রিম। এই ক্রিম শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করলে খুবই ভালো ফল পাবেন।

৩। কলা আর অলিভ অয়েলের হেয়ার মাস্কঃ

পড়ুন  চুল সোজা করার কিছু প্রাকৃতিক পাওয়ার।

কলা আর অলিভ অয়েল দুটোই চুলে আর্দ্রতা আর পুষ্টি যোগায়। নিয়মিত ব্যবহারে এই মাস্ক কোঁকড়া চুলের কার্ল হালকা করারও ক্ষমতা রাখে।

উপকরণঃ

দুটো পাকা কলা

দুই চা চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

পদ্ধতিঃ

একটা বাটিতে কলা আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্মুথ পেস্ট তৈরি করুন। পুরো চুলে মিশ্রণটি লাগিয়ে একটা শাওয়ার ক্যাপ পরে ফেলুন। ২-৩ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।

৪। ক্যাস্টর অয়েলঃ

ক্যাস্টর অয়েল পারে কোঁকড়া চুলকে সিল্কি আর সোজা করতে।

উপকরণঃ

শুধু আপনার চুলের লেংথ অনুযায়ী খাঁটি ক্যাস্টর অয়েল

পদ্ধতিঃ

ক্যাস্টর অয়েল হালকা গরম করে চুলে আর স্ক্যাল্পে লাগান। ২-৩ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। শুধু ক্যাস্টর অয়েল একবার ধুলে চুল থেকে নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজন বুঝে শ্যাম্পু করুন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About পূর্ণিমা তরফদার

আমি পূর্ণিমা তরফদার আপনার ডক্টরের নতুন রাইটার। আশাকরি আপনার ডক্টরের নিয়ামিত পাঠকরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন ও আমার পোষ্টগুলো পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.