শারিরীক মিলনের পর ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ালে স্ত্রীর মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে, করণীয় কি?

পাঠকের প্রশ্নঃ  Ami r amr wife gato 25.4.2016 tarik saririk melon kori tarpor takay emargancy pil ( ইমার্জেন্সি পিল  ) khaoi but tar akhono mashik hoy na tai khub cintay asi ki korbo..
.Amra akhon baby netay chai na plz help me…. Last or mashik hoy 15.3.2016 tarik a…. o ki pagment????

ইমার্জেন্সি পিল

উত্তর জানার আগে ইমার্জেন্সি পিল (emergency contraceptive pill)পড়ুন ঃ

ইমার্জেন্সি গর্ভনিরোধ পিল (emergency contraceptive pill) – প্রথমেই বলব এই পিল কেবল আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মহিলাদের ব্যবহারের জন্যই তৈরি। যেমন উত্তেজনার বশে কন্ডোম বা অন্য কোন গর্ভসঞ্চারের উপায় ব্যবহার না করে যৌনসঙ্গম করে ফেললে বা নিয়মিত সাধারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতে ভুলে গেলে বা যৌনসঙ্গমের সময় কন্ডোম ফেটে গেলে কিংবা বলপূর্বক যৌনসঙ্গমের শিকার হলে তার পর যত দ্রুত সম্ভব (বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যেই) ইমার্জেন্সি গর্ভনিরোধ বড়ি খেতে হয়। যৌনসঙ্গম ও এই পিল খাওয়ার মাঝে সময়ের ব্যবধান যত বাড়বে এই বড়ির গর্ভসঞ্চার রোধ করার ক্ষমতাও ততই কমে যায়। এই পিল বা বড়িকে মর্নিং আফটার পিল-ও বলা হয়, যার মানে সঙ্গম রাতে হয়ে থাকলে সকালে উঠে প্রথমেই এই পিল খেতে হয়। তবে সকালের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব এই বড়ি খাওয়াটাই শ্রেয়। আপনার মাসিকের কত নম্বর দিন চলছে এবং সঙ্গমের কতক্ষণ পরে খাওয়া হয়েছে তার উপর নির্ভর করে ইমার্জেন্সি গর্ভনিরোধ বড়ি ডিম্বাণু নির্গমনে সামায়িক বাধা দিয়ে, কিংবা নিষেক প্রতিহত করে, এমনকি নিষেক হয়ে থাকলে জরায়ুতে নিষিক্ত ভ্রূণের স্থাপন প্রতিহত করে গর্ভসঞ্চার রোধ করে। তবে আবারও বলছি এই বড়ি কেবল ইমার্জেন্সি বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা উচিৎ। নিয়মিত ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহার করলে জননতন্ত্র ও শরীরের প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়। যেকোন ঔষধের দোকানেই ইমার্জেন্সি পিল পাওয়া যায়। আপৎকালে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি পিল গর্ভসঞ্চার রোধ করতে সক্ষম হয়। ইমার্জেন্সি পিলের রাসায়নিক উপাদান হল levonorgestrel। বলে রাখা প্রয়োজন যৌনসঙ্গমের আগেই এই পিল খেয়ে নিলে কোন লাভ নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহার করা উচিৎ নয় – যেমন গর্ভাবস্থায়, বা ইমার্জেন্সি পিলের প্রতি এলার্জি থাকলে, যৌনাঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে বা আপনার ওজন ৭৬ কেজির বেশি হলে। এইসকল ক্ষেত্রে অসুরক্ষিত সঙ্গম হয়ে থাকলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। ইমার্জেন্সি পিলের কয়েকটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হল বমি বমি ভাব, মাথা ঘোড়া, ক্লান্তি, তলপেটে ব্যাথা, যৌনাঙ্গ থেকে স্রাব ইত্যাদি। এই পিল খাওয়ার পরবর্তি পিরিওড স্বাভাবিক সময়ের থেকে ত্বরান্বিত বা বিলম্বিত হতে পারে। কিন্তু পিরিওড যদি খুব বেশি দেরি হচ্ছে মনে হয় তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিৎ।

উত্তরঃ ইমার্জেন্সি পিল কয়েকটা কোম্পানির আছে যা ৭২ ঘন্টার মধ্যে খেতে হয় আর কয়েকটা কোম্পানির তৈরি করা পিল আছে যা ১২০ ঘন্টার মধ্যে খেতে হয়। এগুলোর সফলতার হার ৭০% – ৯৫% অর্থাৎ এগুলো সবসময় কাজ নাও কর‍তে পারে। অন্যদিকে স্পার্ম ৭ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে ডিম্বানুর অপেক্ষায়। ৪২-৬০ দিনের মধ্যে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দিয়ে প্রেগন্যান্সি সম্পর্কে প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়। এখন যদি টেস্ট কিট দিয়ে পজিটিভ ফল পান, তাহলে ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবরশন করানোর জন্য। হাতুড়ে ডাক্তারের বা কবিরাজ ইত্যাদির পরামর্শ নিতে যাবেন না, এতে স্ত্রীর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

অাপনার স্বাস্থ্য সমস্যার যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করুন এখানে (নাম ও ঠিকানা গোপন রাখা হয়)

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *