...

টানা ৭ দিন ডাবের পানি পান করলে শরীরের কি হয়? জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন

ডাবের পানি বা ডাবের জল হলো কচি ডাবের ভেতরকার রস। ডাব পেকে নারিকেল হবার সাথে সাথে ডাবের পানি বা জল কমে যায়, আর তার জায়গায় নারিকেলের শাঁস ভেতরে জমা হয়। একেবারে কচি ডাবের ভিতরে অল্প পরিমাণে শাঁস থাকে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে পানীয় হিসাবে ডাবের পানি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ, এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। টাটকা, ক্যানে ভরা, অথবা বোতলে ভরে ডাবের পানি বিক্রি করা হয়। ডাবের পানিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬.৭ ক্যালোরি তথা ৭০ কিলো জুল খাদ্যশক্তি রয়েছে।

ডাবের পানি

ডাবের পানির উৎস হিসাবে আস্ত ডাব অনেক জায়গাতেই বিক্রি করা হয়। ডাবের বাইরের সবুজ খোসা সরিয়ে বাকি অংশকে অনেক সময় প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বেচা হয়। দক্ষিণ এশিয়া (যেমন বাংলাদেশ, ভারত) ও মধ্য আমেরিকার অনেক দেশে (যেমন কোস্টা রিকা ও পানামায়) রাস্তার পাশে বিক্রেতারা আস্ত ডাব বিক্রি করে। খদ্দেরের সামনেই দা দিয়ে ডাবের মুখটি কেটে টাটকা ডাবের পানি বিক্রি করা হয়। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ আছে। ১ কাপ ডাবের পানিতে যা খনিজ পদার্থ আছে, তা অনেক স্পোর্টস ড্রিংকের চাইতেও বেশি। একটি ডাবে একটি কলার চাইতে বেশি পটাশিয়াম থাকে।

পড়ুন  আপনার শখের ক্রিম /ময়েশ্চারাইজার থেকে ম্যাক্সিমাম বেনেফিট পাচ্ছেন তো?

মাটির গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে ডাবের পানির স্বাদ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন, ভারতের ডাব মিষ্টি হয়, কিন্তু ব্রাজিলের ডাব হয় একটু পানসে। আবার বাংলাদেশের ডাবের পানি বেশ মিষ্টি হয়, আর একটু হালকা নোনতা স্বাদ থাকে।

ডাবের পানি কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এটা কিডনির পাথর সৃষ্টি রোধ করে এবং ডায়রিয়া, আলসার, গ্যাসটাটাইটিস বা অ্যাসিডিটি, মূত্রনালীর সংক্রমণ ও ইউরোলিথিয়েসিস প্রতিরোধ করে। ডাবের পানিতে এন্টিসেপটিক গুণ থাকাতে কাটা-ছেড়া জায়গায় ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মুখের ক্ষত যেমন—ব্রণ, মেছতা ও ফক্সের ক্ষত ডাবের পানি দিয়ে ধৌত করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, রিবোফ্লেভিন ও কার্বোহাইড্রেট আছে। ডাবের পানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

যেসব দেশে স্যালাইন পাওয়া যায় না, সেখানে ডাবের পানিকে অনেক সময় শিরার মাধ্যমে দেয়া স্যালাইন হিসাবে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করা হয়।

ডাবের পানিপান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডাবের পানি মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অনেক উপাদান।

এটি শরীরকে পরিশোধিত করতে সাহায্য করে। সারা পৃথিবীতেই এই পানির বেশ কদর রয়েছে। এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক বেশি।

পড়ুন  ত্বকের যত্নে ডাবের পানির দারুণ কার্যকরী কিছু রেসিপি জেনে নিন

টানা সাতদিন ডাবের পানি খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা গ্রহণ করুন।

আসুন জেনে নেই ডাবের পানির উপকারিতা –

নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে মূত্রবর্ধক উপাদান। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট পরিষ্কারে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন বাড়ায়।

ছোট বাচ্চারা পাশের ছবিতে ভুলেও ক্লিক করবেন না

ব্যায়াম করার পর এক গ্লাস নারকেলের পানি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

প্রতিদিন এক কাপ ডাবের পানি পান করলে ত্বককে আর্দ্র থাকে। এটি ব্রণের সমস্যা কমায়।

নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি হজমে বেশ সাহায্য করে। নিয়মিত নারকেলের পানি পান করলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা কমায়।

নারকেলের পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্টে সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করে।

এ ছাড়া মাড়ির রোগ, ঠান্ডা ইত্যাদি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত এক কাপ ডাবের পানিখেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে।

ওজন কমাতে নারকেলের পানি বেশ কার্যকর। এটি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। এতে ওজন কমে। ওজন কমাতে চাইলে নিয়মিত নারকেলের পানি পান করতে পারেন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.