মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায় গুলো দেখে নিন

অনেক মহিলা এবং পুরুষকে চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত থাকতে দেখা যায়। অনেক মহিলারা, এমনকি কিছু পুরুষও লম্বা রাখা পছন্দ করেন। চুল পড়ে যাচ্ছে অথবা মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, অনেকেরই এমন সমস্যা । এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দুটি কাজ করতে হবে। একটি হলো চুল ঝরে যাওয়া রোধ করা, অপরটি নতুন চুল গজানো। চুল ঝরে যাওয়া রোধ করা নিয়ে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন লেখালেখি দেখি। সেই তুলনায় নতুন চুল গজানো নিয়ে জানার সুযোগটা কম। তাহলে চলুন জেনে নিই কিভাবে নতুন চুল গজানো সম্ভব। বয়স বাড়ার কারণে অথবা বংশগত বা পরিবেশের প্রভাবে আমাদের চুল পড়ে যেতে থাকে। এ কারণে আমাদের মন তো খারাপ হয়ই, আবার মনে হয় যদি কৈশোরের মতো চুল আবার হতো কোনো ভাবে। আমাদের মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে যদি আমরা উদ্দীপনা দিতে পারি, তাহলে মাথায় নতুন চুল গজানো সম্ভব। প্রতিটি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা রয়েছে। এটাকে যদি বাড়ানো যায়, তাহলেও নতুন চুল গজানো সম্ভব।চুল

মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায় গুলো দেখে নিন

চুলে ম্যাসাজ করুন :
চুলে নিয়মিত ম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং স্ক্যাল্প উদ্দীপিত হবে। এক টেবিল চামচ ভিটামিন ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন। ভিটামিন ই চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন এর যোগান দেয়। ভিটামিন ই এর সাথে চা এর নির্যাস যোগ করতে পারেন। এই দুটো ভালো ভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে নিন। ৫-৬ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। চুলগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে সম্পূর্ণ চুল আঁচড়ে নিন। কিছুক্ষণ পর সাধারণ ভাবে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।চুল গজানোর জন্য দিনে ৩ বার ম্যাসাজ করতে হবে এই নিয়মে। কিন্তু বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে।

গরম তেল মালিশ করুন :
গরম তেল মালিশ চুলে তেল দেয়ার সময়, একে আপনি এর জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান দিচ্ছেন। এটি ব্যবহারে একটি উজ্জ্বল ভাব এনে দেয়। ত্বকের কারণে অনেকে নিয়মিত চুলে তেল দিয়ে মালিশ করার অনুভুতি উপভোগ করতে পারেন না। দৈনিক কয়েকবার চুলে তেল না দিয়ে, সহজেই আপনি মাথায় একবার গরম তেল মালিশ করতে পারেন। নারিকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, এবং এমনকি জলপাই তেলও কোন কোন প্রকারের চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার চুলকে পুষ্টি যুগিয়ে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। ফলাফল স্বরূপ, এসকল চুল বৃদ্ধিকারক তেলের কারণে আপনার Hair আরও দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার ব্যবহার করুন :
চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তবে নতুন Hair গজানো সম্ভব। বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায়। এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন। ভালো ফল পেতে এটাও আপনাকে দিনে ৩ বার করতে হবে।

আলুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করুন :
আলু আমাদের চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করবে। বিস্ময়কর মনে হলেও, চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আলু একটি উপযুক্ত উপাদান। |তাই বলে আপনি একটি আলু নিয়ে মাথায় ঘষে সহজেই ফলাফল আশা করতে পারেন না। এ জন্য আপনাকে তিনটি আলু নিয়ে জুসারে দিয়ে রস বের করে তা ছেঁকে নিতে হবে। এরপর অবশ্যই এতে একটি ডিমের কুসুম, অল্প একটু পানি, এবং এক চা চামচ মধু যোগ করতে হবে। এই মিশ্রণটি নিয়ে ভেজা চুলে প্রয়োগ করতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে আলতো ভাবে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার করে এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এটা একটি অন্যতম কার্যকরী গৃহ চিকিৎসা এবং করা সহজও বটে। আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পাবেন।

পিয়াজ রসের মিশ্রণ ব্যবহার করুন :
এটি অপর একটি খাদ্যপন্য যা আপনার চুলের জন্য উপযুক্ত এবং যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবান হতে সাহায্য করবে। যখন আপনার চুল এর সর্বচ্চো ভাল স্বাস্থ্যে থাকবে, তখন এর কারণে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিপূর্ণ হবে। এটি একটি অন্য প্রকার মিশ্রণ যা চুলে অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে এবং তা প্রতিবার আপনার Hair ধোয়ার সময়।প্রথমে ৪ কোষ রসুন, ২ টুকরা দারুচিনি, এবং একটি লাল পিয়াজ নিন। এগুলি নিয়ে সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা হতে দিন; এটি ঠাণ্ডা হলে মিশ্রণটি সমস্ত চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে ১৫ মিনিট বসে থাকতে দিন, তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। এটা করার কারণে আপনার Hair আরও ঘন হবে এবং এর ডগা গুলি ফেটে যাবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদী ভাবে আপনার চুলকে দীর্ঘায়িত করবে। এটি আপনার চুলকে আরও দ্রুত হারে ঘন করে তুলবে। এসকল পুষ্টি উপাদান এবং ভিটামিন চুলকে দিয়ে আপনি একে আরও দ্রুত বাড়তে সাহায্য করতে পারেন এবং এর সাথে এগুলি স্বাস্থ্যবান এবং পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে, এ মিশ্রণটি আপনি যদি চুলে রঙ করার সামগ্রী ব্যবহার করেন তবে ব্যবহার করা উচিত হবে না কারণ এতে করে রঙ উঠে যেতে পারে।

চুল পড়া রোধ করতে ঘুমানোর আগে নিন একটু চুলের যত্ন

স্ক্যাল্পের মৃত কোষ পরিস্কারে বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন :
বাজারে স্ক্যাল্পের মৃত কোষ পরিস্কারে বিশেষ শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়। এ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যেটা আপনার স্ক্যাল্পের মৃত কোষগুলো ঝরে যেতে সাহায্য করবে। এই মৃত কোষগুলো স্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে, যে কারণে নতুন চুল গজাতে পারে না। কেননা তখন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। অল্প পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ়ের মত করে লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এটা দিনে একবার করতে হবে।

আয়রন এবং জিঙ্ক গ্রহন করুন :
আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রোধে সহায়তা করবে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত Hair গজানোর জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন বিদ্যমান।

ভিটামিন A, E এবং C গ্রহন করুন :
আপনার চুল দ্রুত স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠার একটি চমৎকার উপায় হল চুলের বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ব্যবহার করা। সব সময়েই চুলের যত্ন প্রয়োজন তবে ভিটামিন গ্রহণ করে চুলের বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। চুলের সম্পুরক উপাদান সমূহ দ্রুত এতে প্রবেশ করে এবং বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। আপনার নিয়মিত ভাবে ফলিক এসিড পিল এবং চুল গজানোর Biotein গ্রহণ করা উচিত। এটি আপনার চুলকে শক্তি যোগায় এবং তা বেশ পরিমাণে বাড়িয়েদেয়। ভিটামিন A, E এবং C মসৃণ ও রেশমি চুলের জন্য চমৎকার। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সহায়ক।

ভাল খাদ্যাভ্যাস করুন :
একটি ভাল খাদ্য তালিকা অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখে এবং স্বাস্থ্যবান Hair সবসময়েই বৃদ্ধি পায়। চুল আরও ঘন, পরিপূর্ণ হয় এবং চুল আরও দীর্ঘায়িত দেখায়। একটি ভাল খাদ্য তালিকায় বাদাম, শস্যকণা, দই, ব্রকলি, গাজর, এবং আরও অনেক রকমের ফল থাকতে পারে। যা আপনার মাথার চামড়া এবং চুলকে সাহায্য করবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার আপনার চামড়া এবং চুল উভয়কেই আস্বাস্থ্যকর তেল সরবরাহ করতে পারে যা চুলের ক্ষতি করে। যখন আপনার Hair ক্ষতিগ্রস্থ এবং অস্বাস্থ্যকর হবে, তখন এর বৃদ্ধি পাওয়া কঠিন হবে এবং দেখতে অনাকর্ষণীয়মনে হবে। এটি একটি খুব সহজ সমাধান কিন্তু এটি চালিয়ে যেতে অনেক সাধনার প্রয়োজন। যদি আপনি আপনার খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করে এতে চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সমৃদ্ধ খাবার যোগ করেন তবে অবশ্যই আপনি বেশ ভাল ফলাফল দেখতে পাবেন। আপনার খাদ্য তালিকার পরিবর্তন বা যে কোন প্রকারের সম্পুরক উপাদান গ্রহনের পূর্বে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রোটিন। তাই নতুন Hair গজানোর জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

খাদ্য তালিকা কালোজিরা রাখুন :
কালোজিরা নতুন Hair গজানোর জন্যে সহায়ক। মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো ফল দেয়। তাছাড়াও খাটি কালো জিরা তেল বা নির্যাস বেশি বেশি ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরে তৈরি মদের মিশ্রণ ব্যবহার করুন :
আপনি ঘরে একটি মিশ্রণ বানিয়ে তা চুলে প্রয়োগ করে ঝরে পরা রোধ করতে পারেন। ৩০ – ৪৫ মি.লি. ভদকা বা অ্যালকোহল এর সাথে গোল মরিচের গুঁড়া মেশান এবং এই মিশ্রণটি হালকা গরম পানিতে ঢেলে দিন।Hair fall কমাতে সপ্তাহে একবার এই মিশ্রণটি দিয়ে চুল এবং মাথার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

চিকিৎসা গ্রহন করুন :
চিকিৎসা হল মেডিকেশন পদ্ধতি। চুলের জন্য ওষুধ। অনেক গবেষণার পর ফেনাস্টেরাইড আর মিনোক্সিডিল নামের দুটো ওষুধ চুল গজানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ওষুধের-ই সাইড ইফেক্ট আছে। মিনোক্সিডিল এর দুইটা কনসেনট্রেশন পাওয়া যায়। ২% এবং ৫%। ২% মিনোক্সিডিল মেয়েদের জন্য, আর ছেলেদের জন্য ৫% মিনোক্সিডিল । এটা বাজারে জেনোগ্রো নামে পাওয়া যায়। স্প্রে করে মাথার স্ক্যাল্পে দিতে হয়।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *