শিশু থেকে মা-বাবার আলাদা বিছানায় ঘুমানো উচিত

আমেরিকার একদল গবেষক মনে করেন, শিশুর মৃত্যুহার কমাতে শিশুর সঙ্গে একই শোবার ঘরে আলাদা বিছানায় বাবা-মায়ের ঘুমানো উচিৎ। শিশুর উন্নয়নে নিয়োজিত আমেরিকার বিখ্যাত সংগঠন ‘আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস্’ মনে করে, মা-বাবা যে শোবার ঘরে ঘুমান শিশু জন্মেরপ্রায় এক বছর পর্যন্ত প্রতি রাতে একই শোবার ঘরে আলাদা বিছনায় ঘুমানো উচিত।শিশু

শিশু থেকে মা-বাবার আলাদা বিছানায় ঘুমানো উচিত

পেডিয়াট্রিকস্ একাডেমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছে, বাবা-মা যে বিছানায় ঘুমান সে একই বিছানায় কোন ক্রমেই যেন শিশু না ঘুমায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা,এতে শিশুর হঠাৎ মৃ্ত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

নিরাপদ ঘুম নিশ্চিতের জন্য শিশুদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে। বাজারে বাচ্চাদের জন্য তৈরি বিভিন্ন ক্রিব বা বেসিনেট পাওয়া যায়, যাশিশুদের জন্য বেশ উপকারী। তবে খেয়াল রাখা জরুরি, অত্যধিক নরম বিছানা বা অত্যধিক শক্ত বালিশে ঘুমালে বাচ্চাদের ক্ষতি হয়ে থাকে।

আমেরিকার রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. লরি ফেল্ডম্যান বলেন, শিশু মৃত্যুহার প্রায় ৫০ ভাগ কমানো সম্ভব; যদি বাচ্চা ও মা-বাবা একই শোবার ঘরে আলাদা বিছানায় ঘুমান। ফেল্ডম্যান আরো বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে এক বিছানায় বাবা-মায়ের থাকা খুবই বিপজ্জনক। কোন ক্রমেই চার মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো যাবে না।

পড়ুন  গরমে শিশুর যত্ন নেওয়ার কিছু উপায় জেনে নিন
Loading...

বাচ্চাদের নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ পান করালে শিশুর মৃত্যুহার অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু, মা-ও রাতে এক সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবেন না বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন।

রাতে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ উপায় জেনে নিন

এ.এ.পি’র এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিবছর প্রায় ৩৫০০ বেবি মারা যাচ্ছে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুর ঘুমানোর কারণে। অধিকাংশ শিশুই মারা যাচ্ছে শুধু মা-বাবার পেটে ঘুমানোর কারণে। কেননা, ঘুমের ঘোরে মা-বাবার হাত পা বাচ্চার উপর পড়ে যেতে পারে।

২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যে সকল শিশু মারা গেছে, তাদের নিয়ে গবেষকরা একটি গবেষণা চালান। যেখানে দেখা যায়, অধিকাংশ শিশুদের মৃত্যু হয়েছে মা-বাবার পেট বা হাতের আঘাত লেগে।

কানসাস শহরের এক শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, অধিকাংশ মা-বাবা অন্য মা-বাবা কিভাবে তাদের সন্তানদের লালন পালন করছেন সেটি অনুসরণ করেন। তারা মনে করতে পারেন, বাচ্চার যত্ন নেওয়ার জন্য তারা হয়তো অনেক কিছুই জানেন। কিন্তু, এটা মোটেও ঠিক নয় বলে ওই গবেষক জোর দিয়ে বলেন।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.