cool hit counter

জেনে নিন চুল পড়া রোধ করার ঘরোয়া উপায়

বর্তমানে সবচেয়ে সুখী মানুষটিরও মনে হয় একই অভিযোগ; চুল পড়ে যাচ্ছে! বাইরের দূষিত পরিবেশ, ভেজাল খাবার, আবহাওয়ার তারতম্য, অযত্ন, মানসিক চাপ সব কিছুর বিরূপ প্রভাব যেন একসাথে গিয়ে পড়ছে চুলের উপর। কীভাবে হবে এই সমস্যার সমাধান? আপনার একার পক্ষে তো দূষণ, ভেজাল, আবহাওয়া এগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; বড় জোর আমরা আপনাকে চুল পড়া রোধে কিছু সহজ ঘরোয়া সমাধান দিতে পারি।

চুল.PNG

জেনে নিন চুল পড়া রোধ করার ঘরোয়া উপায়

না, রাতারাতি কেশবতী হয়ে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারবো না; তবে হ্যা, নিম্নে বর্ণিত ঘরোয়া টিপসগুলো আপনার চুল পড়া অনেকাংশে হ্রাস করে নতুনচুল গজাতে সাহায্য করবে, এটা বলতে পারি।

১ঃ পিঁয়াজের রস

পিঁয়াজ চুল পড়া রোধে আশ্চার্যজনক সমাধান দিতে পারে। পিঁয়াজে রয়েছে উচ্চ মানের সালফার যা চুলের গ্রন্থিতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান বহন করে যা জীবাণু এবং পরজীবী ধ্বংস করে দেয়।

কয়েকটি পিঁয়াজ পিষে বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস করে নিন। এই রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পড়ুন  শ্যাম্পু করতে ভুল করছেন না তো?

প্রথম দিন আপনার Hair থেকে হালকা পিঁয়াজের গন্ধ আসতে পারে। সেক্ষেত্রে শ্যাম্পু করার পর চা পাতি জ্বাল দিয়ে সেই পানি ঠাণ্ডা করে আপনার মাথায় দিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। দেখবেন গন্ধ অনেকটাই কমে এসেছে।

২ঃ গরম তেল মাসাজ

চুলের পুষ্টি কমে আসলে Hair fall দেখা দেয়। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যে কোন তেল (নারকেল, অ্যালমন্ড, সরিষার তেল ইত্যাদি) হালকা গরম করে মাথায় মাসাজ করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ উপকার পেতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেল দিয়ে মাথা মাসাজ করে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

৩ঃ নারকেলের দুধ

নারকেলের দুধে ফ্যাট এবং প্রোটিন থাকে যা চুলের পুনর্গঠন করে এবং Hair fall রোধে সাহায্য করে। এটি চুল পাতলা হওয়া রোধ করে।

নারকেলের দুধ মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।

৪ঃ আলুর রস

ভিটামিন এবং মিনারেলের অভাবে চুল শুষ্ক এবং ভঙ্গুর হয়ে যায় যার ফলে চুল পড়া শুরু হয়। আলুর মধ্যে থাকে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, কপার এবং নায়াসিন। এগুলো চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কিছু পরিষ্কার আলু পিষে এর রস সরাসরি স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন। ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে শুকিয়ে যেতে দিন। এরপর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫ঃ আমলকি

আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা চুলকে শক্ত ও মজবুত করে। ভিটামিন সি কোলাজেন প্রস্তুত করতে সাহায্য করে যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এরা আয়রন শোষণেও সাহায্য করে যা চুলকে শক্ত ও মজবুত রাখে এবং ‘চুল পড়া’(Hair fall) রোধ করতে সহায়তা করে।

নারকেল তেলের মধ্যে কয়েকটি শুকনা আমলকি দিয়ে গরম করুন। তেলের রং কাল হয়ে আসলে তেলটি নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। ঠাণ্ডা তেল দিয়ে মাথায় মাসাজ করুন। ২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬ঃ ধনে পাতা

এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং চুল নরম কোমল করে তোলে। চুলের বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কিছু ধনে পাতা পিষে পানিতে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। পেস্ট থেকে রস বের করে নিন। এই রস একটি চুল কালার করার ব্রাশে নিয়ে মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগিয়ে নিন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

৭ঃ নিম

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় নিম খুশকি দূর করার জন্য খুবই উপযোগী। এটি মাথার ত্বক সুস্থ রাখে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। স্ক্যাল্পের নিচের রক্ত প্রবাহ সচল রাখে এবং চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি যোগায়।

একটি পাত্রে পানি নিয়ে তার মধ্যে কিছু নিম পাতা দিয়ে ফুটান। ততক্ষন পর্যন্ত পানি ফোটাতে থাকুন যতক্ষণ না পানি অর্ধেক হয়ে যায়। পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে গেলে পাত্রটি নামিয়ে রেখে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঠাণ্ডা হলে এই মিশ্রণটি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

খেয়াল রাখবেন যেন এই মিশ্রণটি চোখে না যায়।

Loading...

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন