cool hit counter

আমার শিক্ষিকাকে আমার খুব ভালো লাগত, তাই আমি উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/আজকের প্রশ্নঃ আমি অনার্স দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র। বয়স ২০ বছর। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। খুব ছোট বয়স থেকেই আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকে আমার খুব ভালো লাগত। বলাবাহুল্য যে, তিনি অনেক কিছুতেই গুণী ছিলেন। আমি যতই বড় হতে থাকি, ততই তাঁর প্রতি আমার ভালো লাগা বাড়তে থাকে। আর আমিও তাঁর প্রিয় ছাত্র ছিলাম। বছর দুয়েক আগে তাঁর প্রতি আমার ভালো লাগা ও ভালোবাসার কথা তাঁকে জানিয়ে দিই। তিনি হাসির ছলে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে আমার মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আমার সঙ্গে তিনি স্নেহের দৃষ্টিতে কথা বলতে লাগলেন।

আমার

আমাকে জানতে জানতে এক পর্যায়ে তিনিও আমাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। বলে রাখছি, সঙ্গত কারণে তিনি দ্বিতীয় স্বামীর সংসার করছেন। তিনি এই সংসার জীবনেও সুখী নন। তাই আমি উনাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিই। অবশ্য, তিনি বিয়ের বিষয়ে অসম্মতি জানালেও আমাকে সীমাহীন ভালোবাসেন। সত্যি বলতে, দুজনই দুজনার মনের মতো। তবে তিনি আমাকে বিয়ে করার ব্যাপারে ভীত। তিনি ভীত হন- আমাদের দুজনার দুটি পরিবারে বিষয়টি মেনে না নেওয়া এবং সামাজিক কঠিন ও অপমানজনক পরিস্থিতির কথা ভেবে। আবার এটাও বলেছে যে- সময় ও বয়সের ঘূর্ণিপাকে আমি নাকি ভবিষ্যতে তাঁকে এখনকার মতো ভালোবাসব না। কিন্তু, আমি আমাকে বিশ্বাস করি এবং নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি সারাজীবন তাঁকে অনেক ভালোবাসব, সুখে রাখার চেষ্টা করব। কারণ তিনি উত্তম আদর্শের একজন লেখিকাও বটে। আমি তাঁর অনুকরণে সত্যিকারের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি। আর যার আদর্শকে অনুকরণ করে বড় হচ্ছি, তাঁকে কোনোদিন অসম্মান করতে পারব না। তবুও তিনি ভয় পান এই জন্য যে, আমি তাঁর দশ বছরের ছোট। কিন্তু দুজনের মনটা এক সমান।

প্রশ্নঃ আমি যখন আমার গার্ল ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলি আমার পুরুষাঙ্গ দিয়ে একপ্রকার পানি বের হয় এটা কি কোন সমস্যা ?

তিনি একজন সরকারি চাকুরে বলে তাঁর মহলে নানাবিধভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশংকা আছে। আমি উনাকে প্রস্তাব দিয়েছি, যেহেতু এখন আমি পড়াশোনায় আছি, সেহেতু এখন সবার অজান্তে দুজনে বিয়ে করব। পড়াশোনা শেষ করে সবাইকে জানাব। আমরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসি। কীভাবে একে অপরকে পেতে পারি সে সম্পর্কে পরামর্শ পেলে অনেক উপকৃত হব। আমি কি তাঁকে সারাজীবন প্রেমিকা করে রাখব? নাকি স্ত্রী করে রাখব?

 

দেখুন ভাইয়া, আপনাদের সমস্যাটি আপনি যতটা জটিল মনে করছেন, সম্ভবত তার চাইতে আরও একটু বেশি জটিল। তবে হ্যাঁ, সকল জটিল সমস্যারই সমাধান আছে, আপনারদের সমস্যারও হয়তো আছে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যার সমধান বের করতে পারবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত মূল সমস্যাগুলো না জানছেন। ভালোবাসা সহজ ভাইয়া, কিন্তু ভালোবাসা ধরে রাখা সবচাইতে বেশি কঠিন। আর আপনার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় প্রশ্ন- এটা কি আসলেই ভালোবাসা? নাকি অন্ধ মোহ? নাকি অন্ধ শ্রদ্ধা বোধ? মন্দিরের দেবতাকে পুজা দেয়া আর তাঁকে জীবনসঙ্গী করে আজীবন সাথে থাকার মাঝে কিন্তু আকাশ পাতাল পার্থক্য। আপনার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি তেমন কিছু নয় তো?

এই প্রশ্নগুলোর জবাব খোঁজার আগে আরও কিছু কথা বলি। হ্যাঁ, যেসব সমস্যার কথা আপনি লিখেছেন, সেগুলো আপনাদের জীবনে আসবে। সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে চরম লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হতে হবে আপনাদের দুজনকে। আপনাদের মত কাপল হয়তো রেয়ার, কিন্তু একেবারেই যে নেই সেটাও কিন্তু নয়। আপনারা যদি মনে করেই থাকেন যে পরস্পরকে পাশে পেলে পরিবার পরিজন কিছুই প্রয়োজন নেই, তাহলে অনায়াসে দেশের বাইরে কোথাও গিয়ে সুখে শান্তিতে বাকি জীবন দুজনে একসাথে পার করে দিতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হবে তখন, যখন সমস্যা তৈরি হবে আপনাদের দুজনের মাঝে! হ্যাঁ, আপনাদের দুজনের মাঝেও সমস্যা হবে। সেই সমস্যা কেমন হতে পারে, সেগুলোর ব্যাপারে একটু ধারণা দিই।

আমার যৌন আনন্দ লাভের আগেই আমার স্বামীর বীর্য বের হয়ে যায় কি করা উচিৎ?

-ভদ্রমহিলা যেহেতু দুটি বিয়ে করেছেন এবং একটিও সফল হয়নি, স্বভাবতই তিনি নিঃসঙ্গ। একটি তরুণ ছেলে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছে, ব্যাপারটি তাঁর ভালো লাগাই স্বাভাবিক। এই বিষয়টিকে আপনি যেমন ভাবছেন, যেমন “মেড ফর ইচ আদার” ধরণের লাভ কিন্তু নাও হতে পারে ভাইয়া! কিছু বছর পর তাঁর মোহ ভঙ্গ হতে পারে, তাঁর আগের স্বামীদের সাথে আপনার তুলনা আসতে পারে। আপনার সাথেও তাঁর সম্পর্ক বিফল হতে পারে। এই সম্ভাবনা কিন্তু ৫০-৫০

-সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় দিক যৌন সম্পর্ক। ভদ্র মহিলা আপনার চাইতে ১০ বছরের বড়, স্বভাবতই তাঁর যৌন জীবনে ভাটা আপনার অনেক আগেই আসবে। সেই ব্যাপারটি আপনাদের মাঝে একদিন বড় সমস্যা তৈরি করবে।

-পরস্পরকে পাওয়ার জন্য নিজেদের চিরচেনা সবকিছুই ছাড়তে হবে আপনাদেরকে। এই ব্যাপারটি প্রথমে কিছুদিন ভালো লাগলেও, একটা সময়ে গিয়ে মনের ওপরে প্রচণ্ড একটা চাপ তৈরি করে এবং মানুষ পরস্পরকে তখন দোষারোপ করতে থাকে। আর তখন সম্পর্ক ভাঙতে শুরু করে।

-দেবতাকে পুজো করা আর তাঁর স্বামী হওয়া, দুটি আলাদা ব্যাপার। আপনার নিজেরও এক সময় মোহ ভঙ্গ ঘটবেই। কাছে থেকে দেখতে গেলে ও বয়স বাড়ার সাথে সাথে আজকের এই গভীর ভালো লাগাটা আসলে এক সময় এত তীব্র আর থাকবে না। তখন যদি বুঝতে পারেন যে তাঁকে ভালোবাসেন না, তখন কী করবেন?

আমি এটা বলছি না যে আপনি তাঁর সাথে সম্পর্ক ভেঙে ফেলুন ভাইয়া। তবে আমি এটা নিশ্চয়ই বলছি যে আপনারা দুজন আরও সময় নিন। বিশেষ করে আপনি নিজেকে আরও সময় দিন। বিয়ে করার জন্য আপনার বয়স কিন্তু এখনো অনেক অল্প। আর গোপনে বিয়ে করার দরকারটাই বা কী। এর চাইতে সম্পর্ক থাকুক সম্পর্কের জায়গায়, সময় যেতে দিন। তাড়াহুড়ার দরকার নেই। সময়ই আপনাকে জানিয়ে দিবে যে তাঁকে বিয়ে করাটা আপনার জন্য উচিত হবে নাকি অনুচিত।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।
[X]