cool hit counter

চোখ সুরক্ষায় রোদে চশমা

সানগ্লাস দিয়েই ফুটিয়ে তোলা যায় নিজের রুচি। তবে এর উপকারিতা অস্বীকার করা যাবে না। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রেহাই পেতে রোদ চশমা ব্যবহার হয়। বাজার থেকে যেকোনো একটা চশমা কিনে ফেললেই হলো না।

চশমা

রোদচশমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। ব্যবহারিক দিক থেকে সেটি সুবিধাজনক এবং মুখের সঙ্গে মানানসই, সেটি কেনা যেতে পারে। বাজারের পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা রকমের রোদচশমা রয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে পছন্দমতো রোদচশমা কিনতে পারেন আগ্রহীরা।

বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে: রে-ব্যান, লুসবাটন, শ্যানেল, গুচ্চি, ফাস্টট্র্যাক, কেরারা, পুলিশ, ডিএনজি, ওকলে, প্যারাডা, রিবন, সাফারি বা ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। এসব ব্র্যান্ডের চশমার দাম পড়বে এক হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
রাজধানীতে ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণিবিতানে এসব রোদচশমা পাওয়া যাবে। তবে ব্র্যান্ডের ভালো রোদচশমা পেতে খ্যাতনামা বিপণিবিতানে যাওয়াই উত্তম।

বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক পূরবী দেবনাথ প্রথম আলোকে জানান, চোখের চারপাশের ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে রোদচশমা ব্যবহার জরুরি৷ প্রখর রোদে চশমা আরাম দেয় চোখে৷ তবে সব রোদচশমা আরাম না দিয়ে ক্ষতি করতে পারে৷ যেমন বাকা গ্লাস বা ফ্রেম শক্ত হলে চোখে ব্যথা হতে পারে। বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে৷
ভালো রোদচশমার বৈশিষ্ট্য

পড়ুন  অল্প বয়সে বিয়ে করলে যত সুবিধা

ভালো রোদচশমার লেন্স অতিবেগুনি রশ্মির ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ আটকে দিতে পারে। এ ছাড়া দৃশ্যমান রোদের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ থেকে চোখকে আড়াল করে রাখে।

এই রোদচশমা রং ও আলো শোষণে সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিকৃতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। আলো ও রং সঠিকভাবে বুঝতে হলে ধূসর সানগ্লাস ভালো।

সূর্যালোকে চোখের যত ক্ষতি
চোখের সাদা অংশ পিংগুকুলা নামের সমস্যার কারণে চোখের সাদা অংশের ওপর স্বচ্ছ ও সরু আবরণ তৈরি হতে পারে। এতে কর্নিয়ার আশপাশে হলদে দাগ পড়তে পারে।

আইরিস
প্রখর সূর্যালোকের প্রভাবে নীল চোখের আইরিসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

চোখের চারপাশের ত্বক
অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে চোখের আশপাশের ত্বকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্নিয়া
ধুলোবালু পড়ে চোখের কর্নিয়ায় সংক্রমণ হতে পারে। এতে কেউ কেউ ব্যথা থেকে শুরু করে সাময়িক অন্ধত্বের মতো গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

লেন্স
আইরিসের পেছনে স্ফটিক-সদৃশ লেন্সে ছানি পড়ে যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি অপসারণ তেমন কঠিন নয় আজকাল। তার পরও রোদচশমা ব্যবহার করে ছানি পড়ার ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

পড়ুন  নারীদের কোন অঙ্গের দিকে পুরুষের নজর সবথেকে বেশি থাকে?

রেটিনা
চোখের এই অংশটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিবেগুনি রশ্মি এবং রেটিনা নষ্ট হয়ে বয়সজনিত অন্ধত্বের সম্পর্ক রয়েছে।
যদি থাকে গায়ে লেখা ‘পোলারাইজড’, তার মানে এই নয় যে, তা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করবে। পোলারাইজড রোদচশমা অত্যুজ্জ্বল আলো ম্রিয়মাণ করে। সাধারণত গাড়ি চালানোর জন্যই এ চশমা উপযোগী। যদি বৃষ্টির দিন হয় অথবা সমুদ্রে নামতে চান রোদচশমা চোখে দিয়ে, তবে পোলারাইজড লেখা দেখে কিনুন।

লেন্সের রঙও কিন্তু বিবেচনা করতে হবে। একেবারে ঘন কালো রঙের রোদচশমা মানেই চোখের সুরক্ষা নয়। বরং বিশেষ রঙ বিশেষ পরিবেশে উপযোগী। তুলনায় ধূসর, সবুজ, হলুদ, গোলাপি ইত্যাদি শেডের চশমা অধিক কাজে আসবে। ব্যক্তিগত পছন্দ রক্ষার পাশাপাশি এসব চশমা বিশেষ আলোয় বিশেষ সুবিধা দেবে। যেমন সবুজ রঙের চশমা সকালবেলা অথবা সাঁঝবেলায় বেশ কাজে দেয়। অধিক ফরসা দেখতে এ সময় সবুজ চশমা ব্যবহার করা যায়।

লেন্স কোনো উপাদান তৈরি তা খেয়াল করেন না অনেকেই। অথচ চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সামনে এমন কিছু তো পরা যায় না, যা ক্ষতিকর। তাই চশমা কেনার সময় এসব বিবেচনায় রাখতে হয়। দামের কথা চিন্তা করে অনেকেই প্লাস্টিকের লেন্স কিনে থাকেন। বিশেষভাবে প্রস্তুত প্লাস্টিক দিয়ে এসব লেন্স তৈরি হয়। কেনার সময় তাই একটু খেয়াল রাখা দরকার। চোখে চশমাটা পরে ডানে-বামে বার কয়েক তাকানো দরকার। যদি লেন্সে কোনো খুঁত থাকে, তাহলে সহজেই ধরা পড়বে। আলোক রশ্মি ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রবেশ করলেই বুঝবেন চশমায় কোনো সমস্যা থেকে গেছে।

পড়ুন  প্রেমের ক্ষেত্রে প্রথম সাক্ষাতে যে কাজগুলো ভুলেও করবেন না

বড় ফ্রেমের রোদচশমার চল এখন বেশি। একেবারে চোখের মাপের রোদচশমা অনেকেই পরে থাকেন যদিও। তবে বড় ফ্রেমই বেশি উপকারী। কারণ তা চারপাশ থেকে চোখকে রক্ষা করে। দুই পাশে বাঁকানো অথবা চশমার ডাঁটি যদি একটু চওড়া হয়, তাহলেও তা চোখের সুরক্ষায় কাজ করে। ফলে বড় ফ্রেমই ভালো ভূমিকা রাখে চোখ রক্ষায়।

শহুরেদের কথা অবশ্য আলাদা, গ্রামে বেড়ে ওঠা কোনো শিশু কিংবা কিশোর-কিশোরীরা নারিকেল পাতা দিয়ে বানানো চশমা চোখে পরেনি এমনটি হতেই পারে না। শৈশব থেকেই চশমার যখন শুরু, এখন এটাকে এড়িয়ে যাওয়া কেন? চোখে চশমা তুলতে কি একটু লজ্জা লাগছে? চশমা তো শুধু ফ্যাশনের জন্যই নয়, এটার প্রয়োজনও রয়েছে। চোখ আর দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ রাখতে চশমার প্রয়োজন অপরিসীম।

রাজধানী ঢাকার রাস্তায় চলাচলের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে আপনার আছে। একদিকে কড়া রোদ, আর অন্যদিকে রাস্তায় ধুলাবালি। নিজস্ব গাড়িতে চলাফেরা করলে আলাদা কথা, তবে আপনি যদি হন বাস, রিকশা বা মোটরসাইকেল আরোহী, তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি, রোদ আর ধুলাবালি আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।

তো আর যাই হোক মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখ দুটি তো আপনাকে বাঁচাতে হবে? তাহলে চশমাই আপনার শেষ ভরসা। সেটা হতে পারে রোদ চশমা বা সাধারণ চশমা। আজকাল প্রয়োজনের পাশাপাশি চশমা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা ব্র্যান্ড আর বাহারি ডিজাইনের চশমায় আপনার ব্যাক্তিত্ব বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ। সাধারণ থেকে এক মুহূর্তে হয়ে যেতে পারেন ‘স্মার্ট লুকে’র অধিকারী।

চশমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন ফ্রেম বা ডিজাইন আপনার মুখের সঙ্গে মানানসই সেটা জানা জরুরি। মুখের ধরন অনুযায়ী ছাড়াও কোন পোশাকের সঙ্গে কী ধরনের চশমা পরবেন, সেটাও জেনে নিতে হবে আগেই। তেতে ওঠা রোদ বা ধুলাবালি সামলাতে রোদ চশমার শরণাপন্ন হতে হবে আপনাকে। আবার একটু রাশভারি ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সাধারণ চশমা ব্যবহারও করতে পারেন।

তরুণ-তরুণীদের কাছে রোদ চশমার কদর যেমন বেশি, তেমনি মাঝ বয়সীরা একটু মোটা ফ্রেমের সাধারণ চশমা ব্যবহার করছে পছন্দ করেন। রোদ চশমার স্টাইল নির্ভর করে মুখ বা চেহারার গঠনের ওপর। তবে পোশাকের সঙ্গেও অবশ্যই মানানসই হতে হবে। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক হলে সানগ্লাসটাও রঙের হলে ভালো হয়। হালকা রঙের পোশাকের সঙ্গে সিলভার, অ্যান্টিক কালার বা রেইনবো শেডের গ্লাস ভালো মানায়।

এই যেমন গোলাকার মুখের জন্য পুরু, চতুর্ভুজ আকৃতির বা কোণাযুক্ত ফ্রেম বেশি মানানসই। মুখের গড়ন ডিম্বাকৃতির হলে যে কোনো ফ্রেমের রোদ চশমা পরতে পারেন। তাতে সফট ইমেজ তৈরি হবে। আবার মুখের গড়ন চৌকা হলে ডিম্বাকার বা গোলাকার ফ্রেম পরুন। আয়তকার মুখে কোণাযুক্ত, জ্যামিতিক বা ওপরের দিকে চ্যাপ্টা ফ্রেম ভালো লাগবে। পানপাতা মুখের গড়ন যাদের তারা অবশ্যই পাতলা রিম ব্যবহার করবেন। খেয়াল রাখবেন, ফ্রেমটা যেন মুখের অনেক ওপরে বসে না থাকে। নাক যদি প্রশস্ত হয়, তাহলে সরু ব্রিজের প্লাস্টিক ফ্রেম এড়িয়ে চলুন। নাক যাদের লম্বা তারা সোজা, নিচু ব্রিজের হরাইজন্টাল ফ্রেম ব্যবহার করতে পারেন।

এসব তো গেল মুখের গড়ন অনুযায়ী চশমার কথা। পোশাক বা হেয়ার স্টাইলের সঙ্গে মিল রেখেও চশমা বাছাই করতে হয়। চুল যদি কোঁকড়া হয় তাহলে ফ্রেমের মাপ ভ্রƒলাইন বরাবর রাখুন। স্ট্রেইট চুলে রাউন্ড চশমাই ভালো। ছেলেরা বেছে নিতে পারেন পাইলট বা অ্যাভিয়েটর শেপের গ্লাস। রঙ বেছে নিতে পারেন ব্ল্যাক, ব্রাউন বা গ্রে। মেয়েরা ব্যবহার করতে পারেন পাশে কাজ করা একটু চওড়া ফ্রেমের গ্রে বা হালকা টু শেড রোদ চশমা। যারা একটু বেশি ফ্যাশনসচেতন, তারা পরতে পারেন পার্পন, পিঙ্ক, রেড কালারের রোদ চশমা। সাধারণ চশমার ক্ষেত্রে রঙটা গ্রে হলেও নিত্যনতুন ফ্রেম বেছে নিতে পারেন।

বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চশমা রয়েছে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রে-ব্যান, লুস বাটন, শ্যানেল, পুমা, প্রাদা, গুচ্চি, ফাস্ট ট্র্যাক, কেরারা, আরমানি, পুলিশ, ডিএনজি, ওকলে, প্যারাডা, রিবন, মন্ট ব্ল্যাঙ্ক, ভারসেস, ওকলে, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। এসব ব্র্যান্ডের চশমাগুলোর দাম পড়বে এক-দেড় হাজার থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তবে নিতান্তই বাজেট যদি আপনার কম হয়, তবে দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড আপনি পাবেন ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপিংমলে এসব চশমা পাওয়া যাবে। আর বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো পেতে আপনাকে অবশ্যই বসুন্ধরা সিটি, মেট্রো শপিংমল, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, পিঙ্ক সিটি, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, গুলশান-বনানীতে ঢুঁ মারতে হবে। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলিতেও চশমার বড় মার্কেট রয়েছে, সেখানেও ঢুঁ মারতে পারেন একবার।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।