cool hit counter

আপু আমিও তো মানুষ, আমার স্বামী আমার শারীরিক চাহিদা…

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/আজকের প্রশ্নঃ আমার বয়স ২৭ বছর আর আমার স্বামীর বয়স ৪০ বছর। আমাদের বিয়ের বয়স ১২ বছর। আমাদের একটি ছেলে আছে আট বছরের। আমার স্বামী আমাদের ওপর অনেক উদাসীন। বিয়ের পর থেকেই আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, প্রয়োজনীয়তা, অনুভুতি সবকিছুই তার কাছে মুল্যহীন। ছোট ছোট প্রয়োজনগুলো পূরণ করতেও তার সাথে ঝগড়া করতে হয়। আমি অসুস্থ থাকলেও তার কোনো মাথাব্যথা হয় না। একজন স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছে যতটুকু আশা করা উচিত তার বিন্দু মাত্রও করতে পারি না। একমাত্র সন্তান তার সাথেও ভালো ব্যবহার করে না সে। একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে তার যথেষ্ট সুনাম আছে কিন্তু আপন পরিবারের প্রতি তার এমন ব্যবহার সহ্য করতে পারি না। তারপরেও ভাগ্যের দোহাই দিয়ে মেনে নিয়েছি সবকিছু। এখন আসল কথা, যেটার সমাধান জানতে আপনাদের কাছে আমার এই লেখা। আমার স্বামী বিয়ের পর থেকেই সেক্সুয়ালি দুর্বল। যেটা আজ অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। লজ্জায় কখনো তার সাথে এই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে পারতাম না। সে লজ্জা আর কষ্ট পাবে এই ভেবে। চুপচাপ তার প্রয়োজনগুলো মেটাতাম। কিন্ত আমিও তো মানুষ। এভাবে আর কতদিন। আর পারছি না আমি। নিজের শারীরিক চাহিদা, মন মানসিকতা সবকিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আরও বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। লজ্জা শরম ত্যাগ করে তাকে বলেছি ডাক্তার দেখাতে কিন্তু সে আমার কথার কোনো গুরুত্ব দেয় না। আমার সমস্যাগুলো খুলে বলেছি, তারপরও সে আমাকে বুঝতে চায় না। সে আমার স্বামী। সে না বুঝলে কে বুঝবে। আমি মানসিকভাবে একদম ভেঙে পড়েছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। কারো কাছে শেয়ারও করতে পারি না। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। কী করলে ভালো হবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আর এভাবে এক ছাদের নিচে থাকতেও পারছি না। প্রচণ্ড রকমের ঘৃণা এসে গিয়েছে নিজের জীবনের প্রতি। আমাদের কী করা উচিত? দয়া করে পরামর্শ দিন।

স্বামী

আপু আমিও তো মানুষ, আমার স্বামী আমার শারীরিক চাহিদা.

উত্তরঃ আপু, আপনার চিঠি থেকে বেশ কয়েকটি জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। যেমন, আপনার স্বামীর সাথে আপনার বয়সের পার্থক্য এতটা বেশি। এত বেশি বয়সের মানুষের সাথে আপনার বিয়ে কেন হলো? আপনার বয়স এখন ২৭ মানে বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সে এবং স্বামীর বয়স তখন ছিল ২৮। অবস্থা দেখে আমার মনে হচ্ছে আপনাদের বিয়েটি প্রেমের বিয়ে ছিল। আমার ধারণা কি ঠিক? চিঠির কোথাও আমি লেখেন নি যে বিয়েতি পারিবারিক ছিল নাকি প্রেমের, আপনি কিছু করেন নাকি গৃহবধূ। এগুলো জানা থাকলে পরামর্শ দিতে আমার একটু সুবিধা হতো।

যাই হোক, আপনার হতাশা ও ঘৃণার কারণ আমি বুঝতে পারছি। দীর্ঘদিন শারীরিক ভাবে অতৃপ্তি একটা ভয়াবহ হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করে মানুষের মাঝে, মেজাজ খিটখিটে করে তোলে ক্রমশ। নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক ঠিক করার আগে আপনাকে প্রথমেই যা করতে হবে, সেটা হচ্ছে নিজের মন মানসিকতার ওপরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হবে। আপনার স্বামী শারীরিক ভাবে সক্ষম হয়ে গেলে বা বিছানায় আপনাকে সুখী করতে পারলেই যে আপনি ভালো থাকবেন বা আপনার মানসিকতা ঠিক হয়ে যাবে, বিষয়টি কিন্তু মোটেও সেরকম নয়। কারণ চিঠি পড়ে যেটা মনে হচ্ছে, আপনার স্বামীর সাথে আপনার মানসিক দূরত্ব অনেক অনেক বেশি। এবং সেটার কারণ শারীরিক সম্পর্ক নয়। বরং এর পেছনে আছে আরও অনেক কিছুই। তাই আপু, সবার আগে নিজের মনকে ঠিক করতে হবে। সবার আগে নিজেকে বাঁচাতে হবে। আপনি যা করবেন আপু, খুব ভালো একজন থেরাপিসট এর কাছে যান এবং নিয়মিত কিছুদিন কাউন্সিলিং করান। কয়েকটি সিটিং এর পর আপনার মন যখন একটু হালকা লাগতে শুরু করবে, তখন খুব মন দিয়ে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করুন, কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন নিজের কাছে-

১) আপনি কি আপনার স্বামীকে ভালোবাসেন?
২) আপনি কি বাকি জীবন এই মানুষটির সাথে কাটিয়ে দিতে চান?

এই প্রশ্ন দুটির উত্তর যদি না হয়, তাহলে আর সম্পর্ক নিয়ে টানা হেঁচড়া করে লাভ নেই আপু। সম্পর্ক জোড়াতালি দিলে চালানোর জিনিস না। এতে আপনার ভালো হবে না, আপনার স্বামীর ভালো হবে, আপনাদের সন্তানের ভালও হবে না। তাই মানুষটির সাথে সংসার করার ইচ্ছা যদি নাই-ই থাকে, তাহলে ডিভোর্সের কথা ভাবুন। নাহলে একদিন এই হতাশা আপনাকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে। অন্যদিকে প্রশ্ন দুটির উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে ভাবুন-

৩) আপনার কী মনে হয় স্বামী আপনাকে ভালোবাসেন?
৪) কী সেই কারণ, যে কারণে স্বামী আপনার সাথে এমন ব্যবহার করেন বা আপনার প্রতি তাঁর এই উদাসীনতা?

স্বামীর সাথে সংসার করতে চাইলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে বের করতে হবে। এবং সমস্যা গুলোর সমাধান আপনাকেই করতে হবে। যেহেতু সংসার আপনার, আপনি ছাড়া আর কেউ এর সমাধান জানবে না। তবে হ্যাঁ আপু, কেবল আপনি সংসার করতে চাইলেই তো হবে না, স্বামীও আপনার সাথে জীবন পার করতে চান কিনা, সেটা জানাও জরুরী। আবার অনেক সময় হারানোর ভয়ও মানুষকে সোজা পথে ফিরিয়ে আনে বা মানুষের মনের সঠিক ভাবটা প্রকাশ করে দেয়। আপনি একটা কাজ করতে পারেন, স্বামীর সাথে একদম সরাসরি একটা কনভারসেশন করুন। আপনি তাঁকে একদম সহজ করেই বলুন যে বিগত ১২ বছর যাবত শারীরিক মানসিক ভাবে যে বঞ্চনার শিকার আপনি হয়ে এসেছেন, সেটা আপনি আর হতে পারছেন না। আর আপনি সহ্য করতে পারছেন না। যদি এভাবেই স্বামী আপনাকে বঞ্চিত করতে থাকেন, এটার কোন প্রতিকার না করেন, তাহলে আপনি আর স্বামীর সাথে বাস করবেন না। আপনি আর তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখবেন না। আর স্বামী যদি নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি তাঁকে সব রকমের সহায়তা করবেন। রাগারাগি করে না, ঠাণ্ডা মাথায় কথা গুলো বলেই দেখুন কী হয়।

সঙ্গম অবস্থায় স্বামী স্ত্রী পরস্পরের গোপনাঙ্গ চুষতে পারবে কিনা ইসলাম কি বলে?

দুটি ব্যাপার হতে পারে। এক, স্বামী যদি আপনাকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে হারানোর ভয় পাবেন। ঠাণ্ডা মাথায় বলা কথা সবসময়েই বেশি প্রভাব ফেলে, চিৎকার করে বলা কথা কোন কাজেই আসে না। হারানোর ভয়ে তিনি নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করলেও করতে পারেন। আর স্বামী যদি বিষয়টি মোটেও পাত্তা না দেন, বরং বলেন যে আপনি চাইলে চলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপু আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে এত বছর স্বামী আপনাকে অবহেলা একারণেই করেছেন যেন আপনি নিজ থেকেই চলে যান। আপনার সাথে সংসার করার বিশেষ ইচ্ছা কখনোই তাঁর মাঝে ছিল না। শুনতে কঠোর শোনালেও এটাই সত্য আপু।

মাথা ঠাণ্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিন। আর হতাশা থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজের হতাশা দূর করুন আগে।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।