cool hit counter

কোঁকড়া চুলের বিশেষ যত্ন!

কোঁকড়া চুল দেখতে সুন্দর কিন্তু সব সময় খুব বেশী ঝামেলাপূর্ণ। আর এই উদ্ধত চুল যাদের তারা অনেক সময় এটাকে সামলে রাখতে অনেক বেশী যন্ত্রণা ভোগ করে। তাই কোঁকড়া চুলের যত্নে কিছু বিশেষ টিপস আর ট্রিক্স আপনার জানা থাকলে এই চুল নিয়ে বেশী ঝামেলায় পড়তে হবে না। তো আসুন জেনে নিই, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি যার মাধ্যমে আমরা আমাদের কোঁকড়া চুলের ভালো যত্ন নিতে পারব।

কোঁকড়া চুলের যত্ন

(১) চুল ময়েশ্চারাইজ করুন

আপনি জানেন কি কোঁকড়া চুলের বেশী ময়েশ্চারাইজর লাগে! কোঁকড়া চুল সাধারনত একটু দুর্বল ও শুষ্ক হয়। তাই এদের ময়েশ্চারাইজও বেশী লাগে। এরা একটু ভঙ্গুর প্রকৃতির। তাই কোঁকড়া চুলের প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজিং করা জরুরী। তাই কোঁকড়া চুলের যত্নে সবার প্রথমে তেল ব্যবহার করতে হবে। কোঁকড়া চুল শক্ত করতে অল্প গরম তেলের ম্যাসাজ খুব ভালো। নিয়মিত ম্যাসাজ করবেন তেল দিয়ে আপনার চুলের গোঁড়ায় গোড়ায় কারণ কোঁকড়া চুলের ত্বক প্রাকৃতিক উপায়ে মাথার ত্বক থেকে খুব বেশী তেল পায় না।

কোঁকড়া চুলের জন্য শ্যাম্পু কেনার সময় অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ শ্যাম্পু কিনবেন। আর এটা মনে রাখবেন শ্যাম্পুটি যেন স্বাভাবিক বা শুষ্ক চুলের শ্যাম্পু হয়। এই শ্যাম্পুগুলো আপনার কোঁকড়া শুষ্ক চুলকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ করবে। ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু আপনার মাথার ত্বককেও হাইড্রেড করবে। তাই শ্যাম্পু পছন্দের ক্ষেত্রে সাবধান থাকবেন যদি আপনার চুল কোঁকড়া হয়। কোঁকড়া চুল একসাথে দুই বার শ্যাম্পু করবেন না যদি দরকার না নয়। একবার শ্যাম্পু করার পর খেয়াল করুন আপনার চুলে আবার শ্যাম্পু করার দরকার আছে কিনা । যদি না লাগে তবে একবার শ্যাম্পু করার যথেষ্ট । আর চুল পরিষ্কার রাখা চুল সুন্দর করার অন্যতম উপায়।

(২) ডিপ কন্ডিশনিং করুন চুল

আপনার কোঁকড়া চুলে নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।আপনি যদি খুব ব্যস্ত হন তাহলে সময় বাচাঁনোর জন্য শ্যাম্পুর সাথে কন্ডিশনার মিশিয়ে একসাথে ব্যবহার করুন। ডিপ কন্ডিশনার জন্য সালফেট ফ্রি (মাইল্ড) শ্যাম্পু এর সাথে বেশী পরিমাণ কন্ডিশনার মিশিয়ে আস্তে আস্তে মাথার চুল পরিষ্কার করুন। এতে চুল ধোয়ার সময়ই চুল ময়েশ্চারাইজ হবে। এই শ্যাম্পু আর কন্ডিশনারের মিক্স দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে পরিষ্কার করলে আপনার মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ঠিক থাকবে যার ফলে চুল শুষ্ক হয়ে উঠবে না । এটা আপনার কোঁকড়া চুল নরম আর ময়েশ্চারাইজ রাখার একটি ভালো উপায়।এটি আপনার চুল নরম আর চুলের স্বাস্থ্য সুন্দর রাখবে।

(৩) কোঁকড়া চুলের জট খুলুন

কোঁকড়া চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু হল এর জট। এর জট আপনি শুকনা অবস্থায় ছাড়ানোর চেষ্টা করবেন না এতে চুল ভেঙ্গে যেতে পারে । চুলের জট ছাড়ানোর জন্য স্প্রে ব্যবহার করুন। আর চুল অল্প ভিজা থাকতে আঁচড়ে নিবেন। আর কোঁকড়া চুলের জন্য বড় দাঁতের চুরুনি ব্যবহার করবেন যাতে চুলে খুব প্রেসার করতে না হয় চুল আঁচড়ানোর জন্য।

(৪) যেভাবে চুল শুকাবেন

কোঁকড়া চুল শুকানোর জন্য টাওয়েল খুব মোলায়েমভাবে ব্যবহার করবেন। খুব ঘষে ঘষে চুল শুকানোর চেষ্টা করলে চুল ভেঙ্গে যেতে পারে। কোঁকড়া চুল ভেঙ্গে যাওয়া দেখতে যেমন খারাপ তেমনি এটা আপনার চুলে আরও বেশী জট তৈরি করবে। তাই আস্তে আস্তে চুল মুছবেন এবং চুল টাওয়েল দিয়ে পেঁচিয়ে রেখে চুল শুকাবেন।

(৫) হিট ট্রিটমেন্ট থেকে বিরত থাকুন

কোঁকড়া চুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করা ভালো কারণ এটি ব্যবহারে আপনার চুল আরও শুষ্ক হয়ে যায়। ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকালে বা চুল সোজা করার যন্ত্র ব্যবহারে কোঁকড়া চুলের স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাবটি নষ্ট হয় । যদি আপনার হাতে চুল শুকানোর মতো সময় না থাকে তাহলে ড্রায়ার ব্যবহার করার সময় এর সাথে ডিফিউজার ব্যবহার করবেন।

যেসব চুল স্টাইল করার পণ্যে অ্যালকোহল থাকে সেগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন কারণ এগুলো চুল শুষ্ক করে তোলে। তাই জেল বা পানীয় টাইপের হেয়ার স্টাইল পণ্য ব্যবহার করুন কোঁকড়া চুল স্টাইল করার জন্য।

টিপস

যাদের চুল কোঁকড়া তারা অনেক বেশী পানি পান করেবন যাতে চুল হঠইড্রেড থাকে।
গরম পানি দিয়ে চুল ধোবেন না। আপনি অল্প কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন যদি শীতকাল হয়।
ভেষজ তেল ব্যবহার করুন যেমন নারকেল তেল, সরিশার তেল বা জলপাই তেল।
কোঁকড়া চুলে চুল রঙ করার পণ্য কম ব্যবহার করেবন। যদি করেন তাহলে অবশ্যই ময়েসচারাইজ ও কন্ডিশনিং আছে এমন পণ্য ব্যবহার করেবন।
ভিজা চুলে ব্রাশ করবেন না। জট ছাড়াতে আঙ্গুল ব্যবহার করুন।
চুল কাটার সময় চুল শুকনা রাখবেন। কারণ ভিজা অবস্থায় কাটলে দেখবেন চুল শুকিয়ে যাবার পর স্টাইল আলাদা হয়ে গেছে।
যাদের কোঁকড়া চুল তারা বালিশের কভার সিল্কের ব্যবহার করবেন এতে চুলে কম জট লাগবে যখন আপনি ঘুমাবেন।
ছবি – স্টাইলক্রেজ.কম

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।